জানেন কী বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করার নেপথ্যে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ?

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় :      আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধুলার তলে।

                                               সকল অহঙ্কার হে আমার ডুবাও চোখের জলে॥

ভারতীয় সংস্কৃতিতে গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তির বহিঃপ্রকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল চরণ স্পর্শ করে প্রণাম করা। এই প্রথা যুগ-যুগান্তর ধরে ভারতীয় সমাজে চলে আসছে, যা আজও সমানভাবে প্রচলিত। ছোট থেকে প্রতিটি সন্তানকে তার বাবা-মা ও গুরুজনেরা —বয়সে বড়, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও মর্যাদায় উচ্চতর ব্যক্তিদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করার শিক্ষা দিয়েই থাকেন। কিন্তু এই রীতির মূল তাৎপর্য এবং অন্তর্নিহিত দর্শন জানেন কী ? প্রকৃতপক্ষে এর তাৎপর্য অনেক গভীর ও অর্থবহ – যা জানলে অবাক হবেন।

জানা যায়, ‘প্রণাম’ শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত ‘প্র’ উপসর্গ এবং ‘নম্’ ধাতু থেকে, যার অর্থ ‘নমন’ বা ‘নত হওয়া’। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়—আত্মসমর্পণ, শ্রদ্ধা ও বিনয়ের প্রকাশ। গুরুজনদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করার মধ্য দিয়ে সেই বিনম্রতা ও শ্রদ্ধা প্রকট হয়, যা কেবল বাহ্যিক নয়, অন্তরের গভীর অনুভূতির প্রতিফলন।

প্রথমত, পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করার মাধ্যমে আমরা আমাদের অহঙ্কার পরিত্যাগ করি। এতে বোঝানো হয় যে আমরা গুরুজনের অভিজ্ঞতা, বয়স, মেধা, বিদ্যা ও জীবন দর্শনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। এতে আত্মসমর্পণের, বিনয় ও নম্রতার শিক্ষা রয়েছে। এই বিনয়বোধ আমাদের ব্যক্তিত্বকে নির্মল ও সংযত করে তোলে।

দ্বিতীয়ত, এই প্রথার সঙ্গে একটি আধ্যাত্মিক বিশ্বাসও জড়িত। প্রাচীন শাস্ত্র মতে, গুরুজনদের শরীর থেকে আশীর্বাদ, শুভশক্তি (positive energy) প্রণামকারীর দিকে প্রবাহিত হয়। তাঁদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করার ফলে সেই শক্তি আমাদের শরীরেও সঞ্চারিত হয়। এতে আমাদের মন, মস্তিষ্ক ও দেহে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষত বলা হয়, বয়স্ক ও সাধকদের আশীর্বাদ মানুষকে দীর্ঘায়ু, সুস্থতা ও সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

তৃতীয়ত, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাতেও পা ছুঁয়ে প্রণামের যুক্তি আছে। মানবদেহের পায়ের পাতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু শেষ হয়। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলে ঐসব স্নায়ুর সংস্পর্শ ঘটে, যা দেহে স্নায়ুবিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করে এবং একধরনের বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি হয়, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ শক্তির জাগরণ ঘটায়। গুরুজনের আশীর্বাদপ্রাপ্ত শরীর স্পর্শ করার ফলে এই শক্তির সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় বলে মনে করা হয়।

চতুর্থত, এই প্রথার সামাজিক তাৎপর্যও কম নয়। পরিবারের ছোটদের শেখানো হয় কী ভাবে গুরুজন, শিক্ষক, আত্মীয়দের সম্মান জানাতে হয়। এতে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়। এছাড়া গুরু-শিষ্য সম্পর্কের মূল ভিত্তিও এই বিনম্রতার শিক্ষা। গুরুজনের পায়ে হাত দিয়ে প্রণামের মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে বিদ্যা ও জ্ঞানের অনুগ্রহ লাভের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পায়।

শাস্ত্রমতে, প্রণামের ছয়টি ভিন্ন রূপ রয়েছে—অষ্টাঙ্গ, ষষ্ঠাঙ্গ, পঞ্চাঙ্গ, দণ্ডবৎ, নমস্কার ও অভিনন্দন। তবে দৈনন্দিন জীবনে পায়ে হাত দিয়ে প্রণামই সবচেয়ে প্রচলিত।

আধ্যাত্মিক সাধক মহর্ষি নগেন্দ্রনাথ ভাদুড়ি বলেছেন—‘‘ঠাকুরপ্রণাম করাও ভক্তি, তবে সত্যিকারের ভক্তি হল প্রকৃত প্রণত হওয়া। বাহ্যিক প্রণাম তখনই সার্থক, যখন তা মনের গভীর বিনয় ও আত্মসমর্পণের প্রকাশ বহন করে।’’ অর্থাৎ শুধু হাতের স্পর্শ নয়, অন্তরের শ্রদ্ধা ও নিষ্কলুষ ভক্তিই প্রকৃত প্রণামের মূল চেতনা।

অতএব, গুরুজনদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা আমাদের দেশের সংস্কৃতি, সমাজ ও আধ্যাত্মিক জীবনধারার এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এতে রয়েছে শ্রদ্ধা, বিনয়, আশীর্বাদ গ্রহণ, শক্তি সঞ্চালন ও মনঃসংযমের গভীর তাৎপর্য। এই রীতির মাধ্যমে মানুষ শুধুমাত্র বাহ্যিক শিষ্টাচার পালন করেন না, বরং নিজেকে অহঙ্কারহীন করে জীবনপথের সৎ, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পথে পরিচালিত করার শপথ গ্রহণ করেন। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, এই ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে জীবন্ত ও প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবে।

গুজরাতের গির অভয়ারণ্যে মৃত্যু ছয় সিংহের, পর্যবেক্ষণে আরও ১৭

ট্রাম্পের ছবি-সহ ২৫০ ডলারের নোট চালুতে রাজি না হওয়ায় অপসারিত আধিকারিক

কুরবানির মাংস কাটছেন ঢাকাই নায়িকা অপু বিশ্বাস, ভিডিও ভাইরাল

২০ বছরে প্রথম, ভারতীয় আমের উপরে নিষেধাজ্ঞা জাপানের

ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের সফল চিকিৎসা পুরুলিয়ায় গভর্মেন্ট মেডিক্যাল কলেজে

কর্নাটকের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে সাসপেন্স, দিল্লিতে সিদ্দারামাইয়া-ডি কে শিবকুমার

বিশ্বাস পরিবারে ভাঙন! ডিভোর্সের পথে স্বরূপ ও তৃণমূল কাউন্সিলর জুঁই

পদত্যাগ করলেন ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান সহ ৮ কাউন্সিলর

পশ্চিমবঙ্গ থেকে পুশব্যাক রুখতে গ্রামবাসীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে বিজিবি!

বাংলায় নতুন বিধায়কদের ১৭৬ জনই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন

‘আলবিদা’, ইস্তফা দিলেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া

‘অনুপ্রবেশকারীরা স্বেচ্ছায় ফিরে গেলে কোনও মামলা হবে না’, বার্তা অমিত শাহের

বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়াই কাল, দামোদরের জলে তলিয়ে গেল নাবালক

কাজে দেবে না ছাতাও, কিছুক্ষণের মধ্যেই ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী