১২ বছর বাদে মেয়েকে দেখে বাকরুদ্ধ নিমিশা প্রিয়ার হতভাগিনী মা

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি:  কেরলের নার্স নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে ইয়েমেন থেকে বড় খবর সামনে এসেছে। নিমিশার ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল ১৬ জুলাই, কিন্তু খবর হল যে তাঁর ফাঁসি স্থগিত করা হয়েছে। ইয়েমেনে নিমিশার ব্যবসায়িক অংশীদার তালাল আবদো মাহদিকে হত্যার দায়ে নিমিশাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারপর থেকেই তাঁর পরিবার মেয়েকে বাঁচানোর জন্য সম্ভাব্য সকল উপায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিমিশার মা প্রেমা কুমারী মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টায় ইয়েমেনে রয়েছেন। আপাতত নিমিশার ফাঁসি রদ করা হয়েছে।

প্রেমা কুমারী নিমিশা প্রিয়াকে বাঁচানোর জন্য ২০২৪ সালের এপ্রিলে ভারত সরকারের বিশেষ অনুমতি পেয়ে ইয়েমেনে যান। এই এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রেমা মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে পেরেছেন সর্বসাকুল্যে ২ বার। সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিমিশার সঙ্গে ইয়েমেনে গিয়ে নিজের প্রথম সাক্ষাতের কথা। সাক্ষাতের আগে, নিমিশা জেল প্রশাসনের মাধ্যমে মাকে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেই মেসেজে ফাঁসির কথা উল্লেখ করা ছিল না। শুধু নিমিশা জিজ্ঞাসা করেছিলেন বাড়ির সবাই সুস্থ রয়েছেন কিনা? নিমিশার মা মেয়ের মৃত্যুদণ্ডের কথা জানতে পারেন সমাজকর্মী স্যামুয়েল জেরোমের কাছ থেকে। তিনি গত সাত বছর ধরে নিমিশাকের বাঁচানোর চেষ্টা করে আসছেন। নিমিশাকে বাঁচাতে জেরোমের সহায়তায় ২০২০ সালের অক্টোবরে ‘সেভ নিমিশা প্রিয়া অ্যাকশন কাউন্সিল’ও গঠন করা হয়েছিল।

নিমিশার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রেমা কুমারী বলেন, “১২ বছর পর নিমিশার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। ২৩শে এপ্রিল, দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমি মেয়ের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারব কিনা তা নিয়েও ভয় ছিল।” নিমিশা যখন মায়ের সঙ্গে দেখা করতেন আসেন, তখন তাঁর সঙ্গে আরও দুজন আসেন। তাঁদের একই রকম পোশাক পরা ছিল। মাকে দেখেই দৌড়ে এসে কাঁদতে কাঁদতে মাকে জড়িয়ে ধরেন নিমিশা। প্রেয়ামার কথায়, “তারপর ওই দুজন আমাদের চুপ থাকতে বলল। ১২ বছর পর প্রথমবারের মতো আমি নিমিশার সঙ্গে দেখা করলাম। আমি মৃত্যুকাল পর্যন্ত সেই মুহূর্তটি ভুলব না।”

সোমবারই নিমিশা প্রিয়া মামলায় একটি আবেদনের শুনানি হয়। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারকে ভারতীয় নার্সকে বাঁচাতে কূটনৈতিক উপায় ব্যবহার করতে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। নিমিশার পরিবারের পক্ষে আবেদনকারী অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্রন কে.আর বলেন যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই বিষয়ে কূটনৈতিক উপায় অবলম্বন করা উচিত। শুনানির সময়, সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি বলেন যে ইয়েমেন হুথি বিদ্রোহীদের দখলে এবং হুথিদের ভারত সরকার স্বীকৃতি দেয় না। তাই সরকার এই বিষয়ে নিজের সীমার বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারবে না। ইয়েমেন অত্যন্ত সংবেদনশীল। তারপরেও ভারত সরকার যা করতে পারে, তা কিছুটা হলেও করেছে। ইয়েমেন বিশ্বের অন্য কোনও অংশের মতো নয়।

কেরলের পালাক্কড় জেলার বাসিন্দা পেশায় নার্স নিমিশা স্বামী টমি থমাস এবং মেয়েকে নিয়ে ইয়েমেনে থাকতেন তিনি। ২০০৮ সাল থেকে সেখানকার এক বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করতেন নিমিশা। ২০১৪ সালে তাঁর স্বামী এবং ১১ বছরের কন্যা ভারতে ফিরে এলেও ইয়েমেনেই নিজের ক্লিনিক খোলার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে থেকে যান তিনি। ওই বছরই ইয়েমেনি নাগরিক তালাল আব্দো মাহদির সঙ্গে যোগাযোগ হয় নিমিশার। মাহদি তাঁকে নতুন ক্লিনিক খুলতে সাহায্য করবেন বলে আশ্বাস দেন। কারণ, ইয়েমেনের আইন অনুযায়ী, সে দেশে নতুন ব্যবসা শুরু করতে গেলে দেশীয় অংশীদারের দরকার হয়। ২০১৫ সালে মাহদি ও নিমিশা মিলে নতুন ক্লিনিক খোলেন। এর পর থেকেই দু’জনের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ, নিমিশার টাকাপয়সা কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে মাদকসেবনেও বাধ্য করেন মাহদি। বিরোধ বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে তাঁর পাসপোর্ট কেড়ে নেন মাহদি, যাতে কোনও ভাবেই নিমিশা ইয়েমেন ছাড়তে না-পারেন। আইনি কাগজপত্রে নিমিশাকে নিজের স্ত্রী হিসাবে পরিচয় দিয়েছিলেন মাহদি, ফলে নিমিশার প্রশাসনিক সাহায্য পাওয়া জটিল হয়ে পড়ে।

মাহদির প্রতারণার বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার পুলিশের দ্বারস্থ হলেও কোনও লাভ হয়নি নিমিশার। মাসখানেক জেলে থাকার পরেই ছাড়া পেয়ে যান মাহদি। জেল থেকে বেরিয়ে নিমিশার জীবন আরও দুর্বিষহ করে তোলেন তিনি। ফলে ওই নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে অন্য পথ বেছে নেন নিমিশা। ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই মাহদিকে ঘুমের ইঞ্জেকশন দেন ওই নার্স। ওভারডোজের কারণে মৃত্যু হয় মাহদির। এর পর হানান নামে এক সহকর্মীর সঙ্গে মিলে মাহদির দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে জলের ট্যাঙ্কে ফেলে দেন। ওই মাসেই ইয়েমেন ছেড়ে পালানোর সময় ধরা পড়ে যান নিমিশা। অংশীদার মাহদিকে হত্যার দায়ে ২০১৮ সালে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ইয়েমেনের আদালত। মৃত্যুদণ্ড পান নিমিশা। তার পর থেকে ৩৬ বছর বয়সি নিমিশাকে বাঁচানোর সব রকম চেষ্টা করেছে তার পরিবার। শেষ চেষ্টা হিসাবে ‘দিয়া’ (নিহতের পরিবারের নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অঙ্ক) দিয়ে মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন নিমিশার মা প্রেমা কুমারী। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। গত বছর নিমিশার সাজা মকুবের শেষ আবেদনও খারিজ হয়ে গিয়েছে সে দেশের সুপ্রিম কোর্টে। তার পরেই ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল আলিমি গত ৩০ ডিসেম্বর নিমিশার মৃত্যুদণ্ডের সাজায় স্বাক্ষর করেছেন।

আলিপুর আদালতে ডিমের হাত থেকে বাঁচতে পুলিশের গাড়িতে চড়লেন অরূপ ‘ছবি’ বিশ্বাস

ঝাড়খণ্ডে রাজ্যসভা নির্বাচনে ক্রস ভোটিং, জিতে গেলেন বিজেপি সমর্থিত নির্দল প্রার্থী

গণধর্ষণের পরে মহিলার যৌনাঙ্গে গুঁজে দেওয়া হল গুলি-পাথরের টুকরো, বিহারের বেগুসরাইয়ের ঘটনা

এক মুঠো ভাত বেশি চাওয়ায় জুটল চড়! মিড-ডে মিল খেতে গিয়ে আহত পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া

পণের দাবিতে মারধর চিকিৎসক স্বামীর, বিয়ের দেড় মাসের মধ্যে মৃত্যু তরণীর

ফের অগ্নিগর্ভ মণিপুর, গোষ্ঠীসংঘর্ষে চলল গুলি, জখম তিন কুকি যুবক

পর্যটকদের জন্য সুখবর, শীঘ্রই খুলতে চলেছে হলং বাংলো!

ধেয়ে আসছে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি, কোন-কোন জেলায় জারি হাই অ্যালার্ট?

‘রবিতে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য সমস্যা হবে না নিট পরীক্ষার্থীদের’, আশ্বাস শুভেন্দুর

বিধানসভায় মমতাপন্থী ৫ বিধায়কের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুভেন্দুর, জোর জল্পনা

মেসি কাণ্ড: চাপে পড়ে অবশেষে হাজিরা দিলেন অরূপ বিশ্বাস

ঢাকায় সাতদিন ঠায় বসে, দীনেশ ত্রিবেদীকে পরিচয়পত্র পেশের সময় দিচ্ছেন না বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি

‘স্ত্রী নেই, আমিও থাকছি না’, উন্নাওয়ে সহধর্মিণীর আত্মহত্যার খবর পেয়ে কলকাতায় আত্মঘাতী সেনা অফিসার

ছবি তুলতে অনীহা অরূপ বিশ্বাসের, সাংবাদিকদের দেখেই পড়িমড়ি করে ছুটে পালালেন