চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

NCERT-র পাঠ্যবইয়ে বিচার বিভাগের দুর্নীতি, মোদি সরকারের কীর্তিতে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি: এনসিইআরটি (NCERT)-র অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ে ‘বিচারবিভাগীয় দুর্নীতি’ সংক্রান্ত একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যা নিয়ে মাস কয়েক ধরেই তর্ক-বিতর্ক চলছে। এবার মোদি সরকারের কীর্তিতে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করল দেশের সুপ্রিম কোর্ট। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই বিষয়টি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। জানালেন, দেশের বিচার ব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা কোনভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না। অষ্টম শ্রেণির একটি পাঠ্যবইয়ে ‘বিচারবিভাগীয় দুর্নীতি’ (Judicial Corruption) সংক্রান্ত অধ্যায় তুলে ধরায় এবার কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (NCERT)-এর তুলোধনা করল সুপ্রিম কোর্ট। সঙ্গে মোদি সরকারের এই কাণ্ড কারখানা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বিচারপতি সূর্য কান্ত।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই বিষয়টি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে। এবং বলেছে, দেশের বিচারবিভাগকে জনসমক্ষে এভাবে ছোট করা একটি ‘পরিকল্পিত পদক্ষেপ।’ তা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না। সাধারণত NCERT-এর বইগুলি সিবিএসসি-র নেতৃত্বাধীন স্কুলগুলিতে পড়ানো হয়। তার মধ্যেই কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেছেন, ‘দয়া করে কয়েকদিন অপেক্ষা করুন। এই মামলায় বার এবং বেঞ্চ সকলেই উদ্বিগ্ন। এছাড়া হাইকোর্টের সকল বিচারপতি উদ্বিগ্ন। আমি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি গ্রহণ করব। আমি কাউকে প্রতিষ্ঠানের মানহানি করতে দেব না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতকে অবহিত করার পর শীর্ষ আদালতের প্রথম প্রতিক্রিয়া জানাল এনসিইআরটি-র কীর্তি নিয়ে। অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে দেশের ‘বিচারবিভাগে দুর্নীতি’ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং এটি পড়লে শিক্ষার্থীদের মনে দেশের বিচার বিভাগ নিয়ে খারাপ প্রভাব পড়বে। তাই এটিকে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। এই বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভিও আপত্তি জানিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘পাঠ্যবইটি মৌলিক কাঠামোর বিরুদ্ধে।’ বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও জানিয়েছেন যে, ‘এই ধরনের পাঠ্যক্রম সংবিধানের মূল কাঠামোর ওপর আঘাত করেছে। অষ্টম শ্রেণির মতো ছোট পড়ুয়াদের মনে বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাহানি করার একটি কৌশল।’

প্রসঙ্গত, ​সম্প্রতি এনসিইআরটি অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ে ‘আমাদের সমাজে বিচারবিভাগের ভূমিকা’ (The Role of the Judiciary in Our Society) শীর্ষক একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে দেশের বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে ‘বিভিন্ন স্তরে বিচারবিভাগীয় দুর্নীতি’, ‘বিপুল পরিমাণ মামলার পাহাড়’ (Case Backlog)-এর কথাও আলোচনা করা হয়েছে। এমনকি অধ্যায়ে আরও দাবি করা হয়েছে যে, দেশের বিচারব্যবস্থার এই দুর্নীতির ফলে দেশের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষেরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অধ্যায়টিতে আদালতের শ্রেণিবিন্যাস, ন্যায়বিচারের কথা, দুর্নীতি এবং মামলার জট-সহ বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলির কথাও বলা হয়েছে। এছাড়াও বিতর্কিত ওই অধ্যায়ে বিচারবিভাগের কিছু পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট (৮১,০০০), হাইকোর্ট (৬,২৪০,০০০) এবং জেলা ও অধস্তন আদালতে (৪৭,০০০,০০০) বিচারাধীন মামলার আনুমানিক সংখ্যা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। হাইকোর্টগুলিতে প্রায় ৬২.৪০ লক্ষ মামলা বকেয়া রয়েছে। ​নিম্ন আদালত গুলিতে প্রায় ৪.৭০ কোটি মামলার পাহাড় জমে আছে। অধ্যায়ে বিচার বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে আরও বলা হয়েছে যে, বিচারকরা একটি নির্দিষ্ট আচরণবিধি দ্বারা আবদ্ধ। শুধু আদালতে নয়, এর বাইরেও তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা প্রক্রিয়াগুলি এবং কেন্দ্রীয় পাবলিক নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। এমনকী পাঠ্যপুস্তকে ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের উদ্ধৃতিও দেওয়া হয়েছে, যিনি ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বলেছিলেন যে বিচার বিভাগের মধ্যে দুর্নীতি এবং অসদাচরণের ঘটনা জনসাধারণের আস্থার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সেই কারণেই বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।

 

Published by:

Share Link:

More Releted News:

‘বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ পর্ণোগ্রাফি দেখেন’, ফের বিস্ফোরক মন্তব্য পাপ্পু যাদবের

মোদিকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে আক্রমণ, খাড়গেকে নোটিশ পাঠাল নির্বাচন কমিশন

প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন তেজপ্রতাপ? ভাইরাল ভিডিও নিয়ে শোরগোল

মাত্র ৩০ বছরেই সব শেষ! হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কার

শেয়ারবাজারে ফের ধস, ৭৫৭ সূচক কমল সেনসেক্স

‘‌বাঘিনীর মতো লড়ছেন, দিদিরই জেতা উচিত’‌, সমর্থন উদ্ধবের, ফোন কেজরিওয়ালের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ