চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

‘সেনার সহযোগিতায় জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছিলাম হিন্দু পুলিশ অফিসার সন্তোষকে’, স্বীকারোক্তি খুনি মাহদীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতার কারণেই বানিয়াচং থানার হিন্দু পুলিশ অফিসার সন্তোষ দাস চৌধুরীকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছিলাম। শনিবার (৩ জানুয়ারি) এমনই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিয়েছে ইসলামি জঙ্গি তথা হাসিনা উচ্ছেদ আন্দোলনে গঠিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান। একই সঙ্গে তিনি হুঙ্কার ছেড়েছেন, ‘হবিগঞ্জকে হিন্দুশূন্য করা হবে।’

২০২৪ সালের ৫ অগস্ট সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের বিদ্রোহের ফলে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছিল। ওই দিন দুপুরে বানিয়াচং থানা আক্রমণ করে ইসলামি জঙ্গি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরা। মুসলিম সব পুলিশ কর্মীকে ছেড়ে দিলেও হিন্দু হওয়ার অপরাধে থানার এসআই সন্তোষ দাস চৌধুরীকে আটকে রেখে প্রথমে পিটিথে মেরে আধমরা করা হয়। পরে গাছে বেঁধে ঝুলিয়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এদিন ওই নারকীয় ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বার বার পৈশাচিক হাসি হেসেছেন হামলার নেতৃত্বে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান।

এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ওই নারকীয় ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর খবর জানার পরেই আমরা মিছিল করে এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জড়ো হই। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে নতুনবাজার,বড়বাজার হয়ে বানিয়াচং থানায় যাওয়ার আগে উপজেলা পরিষদের কয়েকটি ভবন ভাঙচুর করি। থানায় পৌঁছনোর আগে বানিয়াচং শাহী ঈদগাহের সামনে বাধা দেয় পুলিশ। এ নিয়ে আমাদের সঙ্গে পুলিশের কথা-কাটাকাটি হয়।  বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়লে পুলিশ রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। এর পরে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে থানার সামনে সবাইকে জড়ো হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। থানা অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলাম। তখন থানার ভিতরে ওসি-সহ পুলিশের ১৫ থেকে ১৬ সদস্য আটকা পড়েন। দুপুর তিনটে নাগাদ জেলা সদর থেকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কিন্তু কিছু করতে পারেনি।’

মাহদীর কথায়, ‘থানা অবরুদ্ধ করে রাখা জনতার তরফে রাত একটা নাগাদ প্রস্তাব দেওয়া হয় আওয়ামী লীগ নেতা ও বানিয়াচং ২নং উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হায়দারুজ্জামান খান ধনমিয়া ও থানার এসআই সন্তোষ দাশ চৌধুরীকে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয় আওয়ামী লীগ নেতা ধনমিয়া থানায় নেই। তবে সন্তোষ দাস চৌধুরীকে তুলে দেওয়া হবে। তবে তার জন্য একটা নাটক করতে হবে। যখন সেনাবাহিনী সব পুলিশকে উদ্ধার করে নিয়ে যাবে তখন যেন জনতা সন্তোষকে ছিনতাই করে নেওয়া হয়। ওই প্রস্তাবে রাজি হই আমরা। রাত দুটোর দিকে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাঁদের সেনাবাহিনীর গাড়িতে উঠানোর সময় এসআই সন্তোষ দাশ চৌধুরীকে আমরা ছিনিয়ে নিই। সেনাসবাহিনী বিন্দুমাত্র বাঁচানোর চেষ্টা করেনি। সবার সামনে পিটিয়ে সন্তোষকে আধমরা করি। পরে বানিয়াচং বড় বাজার শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হয় রক্তাক্ত হিন্দু কুত্তাকে (পুলিশ অফিসার সন্তোষ)। সেখান থেকে ভোর রাতে  থানার সামনে এনে ফেলে রাখা হয়। পর দিন সকাল ১০টার দিকে থানার সামনে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। দিনভর হাজার হাজার মানুষ সন্তোষকে দেখতে থানা প্রাঙ্গণে ভিড় করেন। পরে জ্যান্ত পুড়িয়ে দিই। পরের দিন ৬ অগস্ট দুপুরে পূর্ব পরিকল্পনামাফিক  সেনাবাহিনীর একটি দল সন্তোষের লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।’

মাহদীর কথায়, ‘আমার হিম্মত আছে বলে স্বীকার করেছি। অস্বীকার করার উপায় নিই সেদিন যদি সেনাবাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা না করতেন তাহলে সন্তোষকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারতে পারতাম না। ত‍ৎকালীন বানিয়াচং থানার ওসি আবু হানিফ গোটা পরিকল্পনা সম্পর্কে জানেন। ওঁকে জিজ্ঞেস করুন।’ এ বিষয়ে বার বার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি এই মুহুর্তে শায়েস্তাগঞ্জে এএসপি হিসাবে কর্মরত আবু হানিফ।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

তেলের ভান্ডার শূন্যের পথে, জ্বালানি সঙ্কটে বাংলাদেশে স্থগিত নির্বাচন

মৌলবাদীদের ফতোয়া উপেক্ষা করে ঢাকায় পয়লা বৈশাখে বের হল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’

২০২৪ সালের ৪ অগস্টই শেখ হাসিনাকে খুনের ছক কষেছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার

বর্ষবরণের আগে ইলিশ ছুঁলে লাগছে ছ্যাঁকা, কেজি ছাড়াল ৭,৫০০

গান-বাজনার উল্লাসের মাঝেই যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ৫

তারেকের জমানায় মবের মুল্লুক, কুষ্টিয়ায় হামলা চালিয়ে পীরকে পিটিয়ে হত্যা মৌলবাদীদের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ