গৃহবধূ থেকে রাজনীতিবিদ, যেভাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে জায়গা করে নেন খালেদা জিয়া

Share:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বুধবার সকালে প্রয়াত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ছেলে তারেক রহমান মায়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া এক বর্নময় চরিত্র। একজন গৃহবধূ থেজে রাজনীতিবিদ হওয়ার গল্প অনেককেই অবাক করে। একজন সাধারণ গৃহবধূ বাংলাদেশের ইতিহাসে জায়গা করে নেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী তিনিই।

প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান চরিত্র। গৃহবধূ থেকে রাজনীতির ময়দানে নেমেই মাত্র দশ বছরের মধ্যে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছিলেন। বিএনপির প্রথম মেয়াদে সরকার গঠনের সময় তিনি বাংলাদেশে ফের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ১৯৮১ সালে যখন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে খুন করা হয় তখন দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হাল ধরেন খালেদা জিয়া। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে বিধবা হন খালেদা জিয়া। সেই সময়ে তিনি ছিলেন একজন সাধারণ গৃহবধূ ছিলেন। তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান-দুই সন্তানকে ঘিরেই ছিল তাঁর পৃথিবী। তার পুরো নাম ছিল খালেদা খানম। আর পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়-স্বজনরা তাঁকে পুতুল। বলে ডাকতেন।

১৯৬০ সালে জিয়াউর রহমান যখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে একজন ক্যাপ্টেন ছিলেন সেই সময়ে তাঁদের বিয়ে হয়। তিনি বিয়ের পর তিনি তাঁর নাম স্বামীর সঙ্গে মিলিয়ে রাখেন খালেদা জিয়া । তাঁর বোন সেলিমা ইসলাম এমনটাই জানিয়েছেন। রাজনীতিতে নামার পর তিনি খালেদা জিয়া নামে জনপ্রিয়তা পান। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময়ও খালেদা জিয়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। তাঁর কাছে সংসারই ছিল সব। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী  স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে খালেদা জিয়া  বিএনপির দায়িত্ব হাতে নিয়ে রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন এবং একজন দাপুটে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠেন।

বিএনপিতে খালেদার যোগ

১৯৮৩ সালের ৩ জানুয়ারি খালেদা জিয়া বিএনপিতে যোগ দেন । প্রথমে তিনি হন ভাইস চেয়ারম্যান হন। তারপর ১৯৮৪ সালের ১০ মে বিএনপির চেয়ারপার্সন হিসেবে নির্বাচিত হন। সেই সময়ে পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বিএনপির প্রাক্তন নেতা অলি আহমেদ। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময় অলি আহমেদ ছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত সচিব। তিনিই জানিয়েছিলেন যে, বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে

তাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বিএনপির সাবেক নেতা অলি আহমেদ। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময় তাঁর একান্ত সচিব ছিলেন মি: আহমেদ। তিনি বলেছেন, জিয়াউরের মৃত্যুর পর বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে তাদের অনুরোধে খালেদা জিয়া রাজনীতিতে পা রাখেন।

বিএনপির দেওয়া তথ্য অনুসারে অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়িতে ১৯৪৬ সালের ১৫ অগাস্ট জন্মগ্রহণ করেছিলেন খালেদা জিয়া। তাঁর বাবার নাম ইস্কান্দর মজুমদার এবং মায়ের নাম তৈয়বা মজুমদার। জানা যায় তাদের আদি ভিটে ছিল ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলায়। তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করেছেন দিনাজপুর শহরের মুদিপাড়া এলাকায়। খালেদা জিয়ারা পাঁচ ভাই বোন। তিনি হলেন ছিলেন তাঁর বাবা-মায়ের তৃতীয় সন্তান। তাঁর বড় দুই বোন এবং ছোট দুই ভাই ছিল।

নেত্রী হিসেবে পরিচিতি

 ১৯৮২ সালে যখন বিএনপির নেতৃত্বে খালেদা জিয়া  তখন জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসন চলছিল। সেই শাসনের বিরুদ্ধে নয় বছরের আন্দোলের মধ্যে তিনি বাংলাদেশের  রাজনীতিতে নিজের এবং দলের অবস্থা শক্ত করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি সাত দলীয় ঐক্যজোট গঠন করে এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের জোট এরশাদ সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। রাজপথের আন্দোলনে থাকায় আপোষহীন নেত্রী হিসাবে পরিচিতি পেয়েছিলেন খালেদা জিয়া ।  এরশাদ সরকার বিরোধী আন্দোলনে নেমে তিনি তিনবার গ্রেফতার হয়েছিলেন ।

 এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি  নির্বাচনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসে। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি ইতিহাস গড়েন।  পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবক’টি আসনেই নির্বাচিত হয়েছিলেন খালেদা জিয়া ।  সেই সময়ে পঞ্চম সংসদে সংসদ নেতা হিসাবে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বদলে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তনের জন্য বিল উত্থাপন করেছিলেন এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে তা পাস হয়।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এক দলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ষষ্ঠ সংসদ গঠন করে খালেদা জিয়া আবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তারপর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার আসনে বসেছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট পরাজিত হয় তবে তার আগে ২০০১ সালে যখন বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল তখন তিনি তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

এরশাদের শাসনকাল ছাড়াও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া জেলে গিয়েছিলেন ২০০৭ সালে । আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে খালেদা জিয়া জেলে গিয়েছিলেন ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সম্পর্কিত দুর্নীতির দু’টি মামলায় তখন তার ১৭ বছরের সাজা হয় ।   দুই বছরের বেশি সময় জেল খেটে অসুস্থ হওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাহী আদেশে বিভিন্ন শর্তে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। তখন তিনি গুলশানের বাড়িতে গৃহবন্দি ছিলেন। তারপর থেকে তাঁকে আর কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেখা যায়নি।

মমতার দেশবিরোধী মন্তব্য, এবার লালবাজারে অভিযোগ দায়ের হিন্দু মহাসভার

তারেক রহমানের ‘লাল টেলিফোনের’ তার চুরি, পাকড়াও দুই সাগরেদ

ফিরহাদের দুয়ারে এবার সিআইডি, সই জাল কাণ্ডের তদন্তে জেরা

স্বস্তির বৃষ্টিতে মুহুর্মুহু বাজ পড়ে তিন জেলায় প্রাণ হারালেন সাত জন

রাজ্যসভার ১১ আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা বিজেপির, কারা টিকিট পেলেন?

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কেন বিরোধী দলনেতা? ব্যাখ্যা দিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ

কটাক্ষের শিকার, ইনস্টা লাইভ চলাকালীন বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা নেটপ্রভাবীর

‘রেজিনগর থেকে উপনির্বাচনে লড়ুন’, নিঃসঙ্গ মমতাকে প্রস্তাব হুমায়ুন কবীরের

রাহুলের ‘গদ্দারি’তে ক্ষুব্ধ স্ট্যালিন, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক বয়কটের সিদ্ধান্ত ডিএমকে’র

অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণ দেওয়ার কাজ শুরু রাজ্য সরকারের

১৬ দিনে শুনানি শেষ, সাত বছরের রামিসার ধর্ষণ-হত্যার মামলার রায় রবিবার

ঋতব্রতদের শিবিরে ভাঙন! মমতাকেই দলনেত্রী মানছেন বিদ্রোহী বিধায়কদের একাংশ

২৪ ঘণ্টায় বিএসএফ-এর দশটি পুশব্যাক রুখে দেওয়ার দাবি বিজিবি’র

‘এবার থেকে ভয়মুক্ত পরিবেশে কাজ করবেন’, প্রযোজকদের আশ্বাস পাপিয়া অধিকারীর