ইউনূসের নির্দেশে খুলনায় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল মুজিবের ভাইয়ের বাড়ি

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি, খুলনা: বাংলাদেশের মাটি থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের চিহ্ন মুছে দিতে বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কোমর কষে ঝাঁপালেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর নির্দেশে যেমন ঢাকার ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে পাকিস্তানপন্থী ছাত্র জোটের নেতারা, তেমনই খুলনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাই শেখ আবু নাসেরের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে সিটি করপোরেশন।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট রাতে ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িতেই দাদা শেখ মুজিবুর রহমানের পাশাপাশি পাকিস্তানপন্থী সেনা আধিকারিকের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিলেন শেক আবু নাসের। ওই সময়ে তিনি বেড়াতে ঢাকায় গিয়েছিলেন।  তাঁর আসল বাড়ি খুলনার ময়লাপোতায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ওই বাড়িটি ‘শেখ বাড়ি’ নামেই পরিচিত। এই বাড়িতে শেখ হাসিনার কাকার ছেলে তথা প্রাক্তন সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ সোহেল উদ্দিন-সহ আরও কয়েকজন থাকতেন। গত ৪ অগস্ট প্রথম দফায় বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল জামায়াত ইসলামের সদস্যরা। সেদিন বাড়িতে কেউ ছিলেন না। ৫ অগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরে আবারও বাড়িটিতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি অগ্নিসংযোগও করা হয়। এদিন রাত নয়টার দিকে প্রথমে পাকিস্তানপন্থী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা বাড়িটিতে ঢুকে ফের ভাঙচুর চালায়। পরে খুলনা সিটি করপোরেশনের আধিকারিকরা দুটি বুলডোজার নিয়ে গিয়ে বাড়িটি ধুলোয় মিশিয়ে দেন।

অন্যদিকে, এদিন রাতেই ফের বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি আগুন জ্বালিয়ে দেয় পাকিস্তানপন্থী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। ওই ভাঙচুরের নেতৃত্ব দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক তথা পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, রাজাকারপন্থী সংগঠন জাতীয় নাগরিক কমিটির নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি ও আখতার হোসেন। ইতিমধ্যেই ধানমন্ডির বাড়ির একাধিক গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র আগুনে পোড়ানর পাশাপাশি বাড়িতে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তাণ্ডবকারীদের রণংদেহী মূর্তি দেখে প্রাণ নিয়ে পালাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সবচেয়ে বিষ্ময়ের ব্যাপার ওই ভাঙচুরে হাত লাগিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মীরাও।

 গত ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে দিল্লি চলে গিয়েছিলেন ত‍ৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পরেই ঢাকার বিজয় সরণিতে বাংলাদেশের স্রষ্টা শেখ মুজিবের মূর্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতপুষ্ঠ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী-সমর্থকরা। ওই ভাঙচুরের নেতৃত্বে অবশ্য ছিলেন ইজরায়েলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের এজেন্ট তথা গণ অধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নূর। ওই দিনই মুক্তিযুদ্ধের সুতিকাগার হিসাবে পরিচিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িতে ঢুকে হামলা চালানো হয়। অগ্নিসংযোগ করা হয় বাড়িটিতে। ওই ভাঙচুরের নেতৃত্বে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই শীর্ষ নেতা সারজিস আলম ও আবদুল হাসনাত। ওইদিন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটিতে থাকা মুক্তিযুদ্ধের অনেক প্রামাণ্য দলিল ও গণহত্যাকারী পাক ফৌজের বিভিন্ন অপকর্মের দস্তাবেজ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। উল্লেখ্য,  এই বাড়িতেই পাঁচ দশক আগে বাংলাদেশে রক্তাক্ত পালাবদলের সময় গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। পরে মুজিব-কন্যা হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়ে ৩২ নম্বর ধানমন্ডির সেই বাড়িটিকে পরিণত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে।

শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরেই বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসীন হয় কুখ্যাত রাজাকার মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। তিনি সরাসরি বঙ্গবন্ধুর মূর্তি ভাঙচুর এবং ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের মাটিতে ‘পাকিস্তানের ঘোষিত শত্রু’ বঙ্গবন্ধুর কোনও নামগন্ধ রাখা হবে না বলে হুঙ্কারও ছেড়েছিলেন। ক্ষমতায় আসার কয়েকদিনের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হাতে গড়া ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

এদিন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের এক সভায় ভার্চুয়ালি ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ওই খবর রটে যেতেই ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িতে হামলা চালানোর জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন মোল্লা ইউনূস। সেই নির্দেশ মেনেই পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারি এবং আখতার হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকশো রাজাকার পড়ুয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও মশাল নিয়ে ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িতে হাজির হয়। সূত্রের খবর, ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িতে পাকিস্তানপন্থী ছাত্র জোটের নেতা-কর্মীদের বাধা না দেওয়ার জন্য সেখানে মোতায়েন পুলিশ কর্মী ও আধিকারিকদের নির্দেশ দেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী। ফলে অনায়াসেই মুক্তিযুদ্ধের সুতিকাগার হিসাবে পরিচিত ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িতে ঢুকে প্রথমে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় রাজাকার পড়ুয়ারা। তার পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভাঙচুরের সময় রাজাকাররা ‘নারায়ে তাকবীর’, ‘জিয়ার সৈনিক এক হও লড়াই কর’ এসব স্লোগানের পাশাপাশি ‘দিল্লি না ঢাকা, আবু সাঈদ-মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘জনে জনে খবর দে, মুজিববাদের কবর দে’– ইত্যাদি স্লোগানও দেয়।

হামলার নেতৃত্বে থাকা হাসনাত আবদুল্লা সাংবাদিকদের বলেন, ‘শেখ মুজিবের কোনও চিহ্ন বাংলাদেশের মাটিতে রাখতে চাই না।’ তার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে ইউনূসের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা তথা পাকিস্তানি এজেন্ট আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘উৎসব হোক!’

সাবধান! ভুল টুথপেস্ট আর এই খাবারগুলির জন্যই হতে পারে দাঁতের ক্ষতি

ধনতেরাসে তৈরি হচ্ছে মালব্য রাজযোগ, ৪ রাশির বদলাতে পারে ভাগ্য!

বাজার থেকে শীতের সবজি কিনছেন? রান্নার আগে মানুন এই নিয়ম!

কলকাতা-সহ ৭ পুরসভার ভোটার তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে না, জানাল নির্বাচন কমিশন

দীপাবলির আগে করুন এই ২টি কাজ! সংসারে বাড়বে সুখ-সমৃদ্ধি

SRFTI-তে ঝুলল তালা, অশান্তির অভিযোগে আপাতত বন্ধ পঠন-পাঠন

প্রযুক্তির দুনিয়ায় চমক! ১১,০০০mAh ব্যাটারিসহ আসছে Redmi Turbo 6

SBI-তে ৭৭টি শূন্যপদে নিয়োগ, ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে আবেদন

দূষণের জেরে দিল্লি থেকে সরল ভারত বনাম শ্রীলঙ্কার ওয়ান-ডে ম্যাচ

‘তোলাবাজির অভিযোগ জানালেই ১৫ মিনিটে গ্রেফতার,’ শিল্পপতিদের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো

TATA-র বদলে সিঙ্গুরে অশোক লেল্যান্ডের গাড়ি শিল্প! ইঙ্গিত শুভেন্দুর

জোড়াফুল প্রতীক দ্বন্দ্বের মাঝেই ট্রাকভর্তি নথি নিয়ে কমিশনের দরবারে ঋতব্রতরা

নিলামের আগে ৬ কোটিতে ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডারকে হায়দরাবাদ থেকে কিনল চেন্নাই