চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

Bangladesh: আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের পরিবারের সদস্যরা কার্যত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। হামলার ভয়ে প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যেও বন্ধ রেখেছেন একতলা বাড়ির দরজা, জানালা। অজানা লোক দেখলে সহজে খুলছেন না ঘরের দরজা। বাবাকে গ্রেফতারের পরের দিনও স্কুলে গিয়েছিল হৃদয় মণ্ডলের ছেলে। কিন্তু অভিজ্ঞতা খুব একটা ভাল নয়। সহপাঠী থেকে শুরু করে স্কুলের অশিক্ষক কর্মচারিরাও ‘কি রে আসামির ছেলে’ বলে সম্ভাষণ করছে। ফলে লজ্জায় স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। কবে এই দমবন্ধকর পরিবেশ থেকে মুক্তি মিলবে, তা ভেবেই উঠতে পারছেন না ধৃত শিক্ষকের স্ত্রী ববিতা হাওলাদার মণ্ডল।

গত ২১ বছর ধরে মুন্সিগঞ্জের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষকতা করতেন হৃদয় মণ্ডল। পরিবার নিয়ে স্কুলের পাশে একটি কোয়ার্টারে থাকতেন। পড়ুয়া থেকে শিক্ষক-সবার কাছে যথেষ্টই জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু আচমকাই ছন্দপতন। গত ২০ মার্চ বিজ্ঞানের ক্লাস নিতে গিয়ে ছাত্রদের আবদারে ধর্ম নিয়ে কথা বলেছিলেন। ওটা যে ছিল ফাঁদ, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে তাঁর বলা কথাগুলি রেকর্ড করে নিয়েই শুরু করা হল হইচই। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হল। অভিযোগ পেয়ে কার্যত পুলিশ অতিসক্রিয় হয়ে প্রথমে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তার পরে গ্রেফতার করা হয়। সেই থেকে জেলেই রয়েছে। হৃদয় মণ্ডলকে যেভাবে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে তার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে গোটা দেশ।

স্বামীর গ্রেফতারের পরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন হৃদয় মণ্ডলের স্ত্রী ববিতা হাওলাদার মণ্ডল। দেশের প্রথম সারির এক দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরে আমার ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে পারছি না। ওই স্কুলে ছাত্ররা আমার ছেলেকে ‘আসামির ছেলে’ বলে ডাকছে। তারপর থেকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিতে হয়েছে। আমাদের বাড়িতে কেউ এলে আশেপাশের লোকজন বিরূপ মন্তব্য করে। আমার স্বামী কোনও অপরাধ করেনি। আমার স্বামী যখন স্কুলে যেতেন তখন রাস্তায় তার নাম ধরে নানা কটূক্তি করতো। বাড়ির লোহার দরজায় জোরে জোরে লাথি মারত বেশ কিছু যুবক। বেশ কয়েক রাত ঘুমোতেও পারিনি। যে ছাত্ররা ছিল তাঁর প্রাণ, সেই ছাত্রদের একাংশ মিথ্যা অভিযোগে তাঁকে ফাঁসিয়ে দিল।’

গ্রেফতারের পরেই অপমানিত হৃদয় মণ্ডল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে জানিয়ে ববিতা বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই মধুমেহ রোগে ভুগছেন। গ্রেফতারের পরেই ওষুধ খাওয়া ছেড়েছেন। তাঁর চাকরির মেয়াদ আরও ৬ বছর রয়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যে এভাবে মিথ্যা মামলায় জেল খাটতে হবে, তা মানতেই পারছেন না।’

ধৃত শিক্ষকের বড় শ্যালক বাদল হাওলাদার বোনের কথা টেনে নিয়ে বললেন, ‘বর্তমানে আমরা খুবই ভয়ে রয়েছি। অনেকটা একঘরে করে রেখেছে। বাসার বাইরে পরিচয় দিতেও ভয় লাগছে। দিনের বেলাতেও বাড়ির বাইরে যাচ্ছি না

Published by:

Share Link:

More Releted News:

বাংলাদেশে ডিগবাজি মতুয়া নেত্রীর, হাসিনাকে ছেড়ে ধরলেন তারেকের হাত

বাংলাদেশের দিনাজপুরে এবার ঘরে আগুন ধরিয়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হল হিন্দু দম্পতিকে

জীবন বাঁচাতে সম্পত্তি বেচে ভারতে আসার পথে খুন হিন্দু ব্যবসায়ী

‘শেখ মুজিবকে প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে ‘, ভিন্ন সুর চট্টগ্রামের বিএনপি মেয়রের

বাংলাদেশের জাহাজকে হরমুজ পেরোনোর অনুমতি দিল না ইরানের আইআরজিসি

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে মোদি সরকার? বড় ইঙ্গিত দিলেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ