kali pujo: গোয়ালিনী রূপে ধরা দিয়েছিলেন মা কালী… কেন জানেন ?

১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে নবদ্বীপ পুরাতত্ব পরিষদ পত্রিকায় যজ্ঞেশ্বর চৌধুরীর তথ্য ও অন্যান্য বিভিন্ন তথ্য থেকে পাওয়া যায় যে, তন্ত্রসাধক কৃষ্ণানন্দ ১৬০০ থেকে ১৬১০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেন।

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : সময়টা সপ্তদশ শতক। তৎকালীন নদীয়া এলাকার কৃতী পণ্ডিত মহেশ্বর গৌড়াচার্যের দুই সন্তান কৃষ্ণানন্দ ও মাধবানন্দ দুজনেই ছিলেন তন্ত্রসাধক। সে সময় নবদ্বীপে আগম পদ্ধতিতে কৃতী তন্ত্রসাধকরা আগমবাগীশ উপাধি পেতেন। মহেশ্বর গৌড়াচার্যের জ্যেষ্ঠপুত্র কৃষ্ণানন্দ ভট্টাচার্য আগমপদ্ধতিতে তন্ত্রসাধনা করার ফলে তিনি “কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ” নামে সুপরিচিত হয়ে ওঠেন। বলা যেতে পারে, তিনিই বাংলার প্রথম তন্ত্রসাধক। তন্ত্র সাধনের রহস্য উদ্ঘাটন ও কালীসাধনার জন্য খ্যাতি ছিল তাঁর। তিনি ছিলেন শ্রী রামপ্রসাদ সেনের তন্ত্রগুরু। ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে নবদ্বীপ পুরাতত্ব পরিষদ পত্রিকায় যজ্ঞেশ্বর চৌধুরীর তথ্য ও অন্যান্য বিভিন্ন তথ্য থেকে পাওয়া যায় যে, তন্ত্রসাধক কৃষ্ণানন্দ ১৬০০ থেকে ১৬১০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেন। কথিত আছে, তিনি ১৬৩৫ থেকে ১৬৪০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে বিখ্যাত বৃহৎ তন্ত্রসার গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, “রাঢ়দেশে তন্ত্রশাস্ত্র রচনাকারদের মধ্যে আগমবাগীশের রচনা সবচেয়ে মার্জিত।”

অপরদিকে কালী শব্দটি হল ‘কাল’ শব্দের স্ত্রী রূপ, যার অর্থ কৃষ্ণবর্ণ। বিভিন্ন পুরাণ থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, মা কালী মহামায়া মা দুর্গারই একটি রূপ। তিনিই আদ্যাশক্তি পরমাপ্রকৃতি। সপ্তদশ শতক নাগাদ বঙ্গে কালী পুজো হতো ঠিকই, তবে তখনও কালী মায়ের মূর্তি পূজার প্রচলন হয়নি। সে সময় মা কালির পুজো হত ঘটে বা শিলায়। প্রচলিত মত ও ইতিহাসবিদদের সমর্থন অনুযায়ী, কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশই স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে প্রথম দক্ষিণাকালীর রূপ কল্পনা করেন। বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত মা কালীর রূপেই সম্পূর্ণ বাংলা ও তার বাইরে কালী পূজা হয়। অনেক পণ্ডিতের মতে, দক্ষিণাকালী মূর্তির প্রচলন কৃষ্ণানন্দের আগে ছিল না। জনশ্রুতি আছে, বহুবছর সাধনা করে অমাবস্যা তিথিতে সারারাত মা-কালীকে আকুল হয়ে ডেকেও সাড়া পাননি কৃষ্ণানন্দ। তবে তিনি কী ভাবে দেবী কালিকার এই রূপ পেয়েছিলেন ?

কিংবদন্তি আছে, বেশ ক’দিন ধরেই পুজোয় বসে কালীসাধক কৃষ্ণানন্দ বায়না করছিলেন, “এ বার সাকার রূপে দেখা দাও মা, মূর্তি গড়ে তোমার অর্চনা করি!”  সন্তানের এই করুণ আর্তি ফেলতে পারেননি মা কালী । তিনি সেই রাতেই কৃষ্ণানন্দকে স্বপ্ন দিয়েছিলেন, মহানিশার অবসানে প্রাতঃমুহূর্তে কৃষ্ণানন্দ প্রথম যে নারীমূর্তি দর্শন করবেন, সেই মূর্তিই হবে ইচ্ছাময়ী কালিকার যথার্থ সাকার মূর্তি। পরদিন ভোরবেলায় কৃষ্ণানন্দ চলেছেন গঙ্গাস্নানে। পথমধ্যে এক গরিব প্রায় অর্ধ-উলঙ্গিনী গোয়ালিনী ঘুঁটে দিচ্ছিলেন। কাকভোরে সাধারণত পথে কেউ বেরোন না। গাত্রবর্ণ কালো, বসন আলুথালু, পিঠে আলুলায়িত কেশ, কনুই দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে গিয়ে সিঁদুর লেপ্টে গেছে। হঠাৎ সামনে আগমবাগীশকে দেখে তিনি লজ্জায় জিভ কেটে ফেলেন। একটি কাঠের পাঠাতনের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন সেই গোয়ালিনী। কালো সেই নারীর রূপ দেখে বিমোহিত হয়ে গেলেন কৃষ্ণানন্দ। এই ছবিটিই মানসপটে এঁকে গঙ্গামাটি দিয়ে মূর্তি গড়তে বসলেন কৃষ্ণানন্দ আর, সেই কাঠের পাঠাতনের কল্পিত রূপ শিব । কৃষ্ণানন্দের এই মূর্তিই পরবর্তীতে দুই বাংলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।

মাতৃরূপে বিভোর  কৃষ্ণানন্দ ঠিকই করেছিলেন সামনের অমবস্যাতেই তিনি মায়ের পুজা করবেন। কিন্তু এই রমণীকে দেখার পর অমাবস্যা হতে আর একদিন বাকি ছিল। তাই রাতারাতি কালীমূর্তি তৈরি করে তাতে রং করে চক্ষুদান করে পুজো করেছিলেন তিনি। গোটা প্রক্রিয়াটাই হয়েছিল একদিনে। সেই থেকেই এই রীতি প্রচলিত হয়ে আসছে কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের জন্মস্থান নবদ্বীপের ভিটেতে। প্রচলিত প্রথানুসারে নবদ্বীপের আগমেশ্বরী পাড়ায় কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের সাধনস্থলে এখনও এই কালীমূর্তি পুজো হয়ে আসছে। কথিত আছে, এই কালীকে “আগমেশ্বরী কালীমাতা” বলা হয়। জনশ্রুতি আছে, এই পুজো প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন। জানা গেছে, এই আগমেশ্বরী মন্দিরটি কৃষ্ণানন্দের পঞ্চমুণ্ডীর আসনের উপর নির্মিত।

                                                                                                                                                                  “ওঁ করালবদনাং ঘোরাং মুক্তকেশীং চতুর্ভুজাম্ ।

                                                                                                                                                          কালিকাং দক্ষিণাং দিব্যাং মুন্ডমালাবিভূষি তাম্।।

                                                                                                                                                          সদ্যশ্চিন্নশিরঃ খড়গবামাধোর্দ্ধক রাম্বুজাম্ ।

                                                                                                                                                           অভয়ং বরদঞ্চৈব দক্ষিণোদ্ধার্ধপাণিকাম্।।”

ত্রিপুরায় মেডিকেল কলেজে তরুণীর রহস্যমৃত্যু, প্রেমে আঘাত নাকি মানসিক চাপ?

রাতের খাবারে সুস্বাদু কিছু বানাতে চান? রেঁধে ফেলুন ‘ইফা চিকেন’

TRP-তে রাজ করছে ‘জোয়ার ভাঁটা’, আবারও ‘প্রতিজ্ঞা’র কাছে মুখ পুড়ল ‘পরশুরাম’-এর

কাটমানি ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার রিষড়ার তৃণমূল কাউন্সিলর শীতল ঘটক

এক ধাক্কায় ৫ হাজার টাকা কমল রুপো, সস্তা সোনাও, মূল্যবান ধাতুগুলির দাম এখন কত?

ডাবের শাঁস দিয়েই বানান জমজমাট মালাই কুলফি, রইল ৩ দুর্দান্ত রেসিপি

আপনার কি এই ব্যাঙ্কের ক্রেডিট কার্ড আছে? ১৫ জুন থেকে বদলাচ্ছে একাধিক নিয়ম…

শহরে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তুমুল ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, জারি কমলা সতর্কতা

তৃণমূলে আরও এক উইকেটের পতন, মমতাকে ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে প্রসূন

‘অভিষেকের জন্যই দল শেষ হয়েছে,’ এবার বেসুরো কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বিজেপিতে যাওয়ার রাস্তা খুলতেই এবার রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা প্রকাশ চিক বরাইকের

হাওড়ায় উদ্ধার কয়েকশো বোতল মদ ও বিপুল বোমা, আতঙ্কিত স্থানীয়রা

পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া বানান স্বাস্থ্যকর ঝিঙে-পনির, জানুন সহজ রেসিপি

গৃহবধূদের মাসে ৩০ হাজার টাকা করে দিতে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের