একার হাতে বড় করেছিলেন চার সন্তানকে, মৃত্যুর পর কেউ হাজির হলেন না বাবাকে দেখতে

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি, ইন্দোর: সভ্য সমাজ কতটা স্বার্থপর হয়ে উঠেছে, তার আরও এক প্রমাণ মিলল। সোনিপতের বৃদ্ধাশ্রমে মারা যাওয়া শিবচরণ রামরতন গুপ্তের মৃত্যুর পরে তাঁর তিন মেয়ে বাবাকে শেষ দেখা দেখতে যাননি। সেই ঘটনা নিয়ে যখন দেশ উত্তাল, ঠিক তখনই আরও এক অমানুষ সন্তানদের কীর্তি সামনে এল। বাবার মৃত্যুর পরে মুখাগ্নি করতে যাননি দুই ছেলে। শেষ দেখাটুকু দেখতে হাজির হননি দুই মেয়ে। অথচ সম্পত্তি হাতাতে বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষের কাছে মৃত্যু সনদ চেয়ে চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। যদিও অমানুষ সন্তানদের মৃত্যুসনদ দিতে রাজি হননি বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ।

হতভাগ্য বাবার নাম ঘনশ্যাম। সাধারণ মধ্যবিত্ত। ইন্দোরে তিনি সাইকেলের টায়ার ও টিউবের একটি ছোট দোকান চালাতেন। সন্তানরা যখন ছোট, তখনই ঘনশ্যামের স্ত্রী মারা যান। এর পর দোকান সামলানোর পাশাপাশি পরম যত্নে একার হাতেই দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে বড় করেছেন। অথচ জীবনের শেষ চার বছর তিনি  পরিবারের ভালবাসা ও যত্ন থেকে দূরে ভোপালের ‘আপনা ঘর’ নামের একটি বৃদ্ধাশ্রমে কাটিয়েছিলেন। ৭০ বছর বয়সী ঘনশ্যাম গত ৪ অগস্ট মারা যান। মারা যাওয়ার পরে সন্তানরা বাবার মৃতদেহ ফিরিয়ে নেবেন এমন আশায় দু’দিন অপেক্ষা করেছিলেন বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ। না, কোনও সন্তান  আসেনি। উল্টে বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেয়, তারাই যেন ঘনশ্যামের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন এবং মৃত্যুর শংসাপত্র পাঠিয়ে দেয়।

ভোপালের বৃদ্ধাশ্রম ‘আপনা ঘর’-এর পরিচালিকা মাধুরী মিশ্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘বছর চারেক আগে ইন্দোরের ছোট্ট বাড়িটি বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছিলেন ঘনশ্যাম। চার বছর আগে  ভোপালের আইএসবিটি (ISBT)-তে পৌঁছেছিলেন। কয়েকজন তরুণ সমাজকর্মী তাঁকে সেখানে খুঁজে পান এবং ‘আপনা ঘর’-এ নিয়ে আসেন। তখন আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্থ ছিলেন। কথা বলতে তাঁর কষ্ট হতো এবং তিনি খুব একটা হাঁটতেও পারতেন না। পরবর্তী চার বছর এই বৃদ্ধাশ্রমই হয়ে উঠেছিল তাঁর ঠিকানা।’ মাধুরী আরও জানান, ‘ঘনশ্যামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেই বৃদ্ধাশ্রম থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হতো। যখনই তিনি অসুস্থ হতেন, আমরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতাম এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করতাম। তারা আসত না। আমরাই তাঁর দেখাশোনা চালিয়ে যেতাম। গত ৪ অগস্ট ঘনশ্যামজি মারা গেলেন। আমরা আশা করেছিলাম,  অসুস্থতা যে সন্তানদের তাঁর কাছে টেনে আনতে পারেনি, হয়তো মৃত্যু তাদের নিয়ে আসবে। কিন্তু তা হয়নি। মৃতদেহ অনির্দিষ্টকাল সংরক্ষণ করে রাখার মতো ব্যবস্থা বৃদ্ধাশ্রমে ছিল না। তবুও কর্তৃপক্ষ অপেক্ষা করেছিল, এই আশায় যে পরিবারের কেউ হয়তো আসবে। মৃত্যুর পরেও আমরা বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছি। আমরা অপেক্ষা করেছি, কিন্তু কেউ আসেনি। শেষ পর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় আমরা তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করি।’

কথায়-কথায় ‘আপনা ঘর’ এর পরিচালক জানান, ‘একবার অসুস্থ হয়ে পড়ার পরে ঘনশ্যামজির দেওয়া জরুরি যোগাযোগের নম্বরে ফোন করা হয়েছিল। ওপাশ থেকে বলা হয়, ‘তার সঙ্গে (ঘনশ্যাম) আমার কোনও সম্পর্ক নেই।’ ঘনশ্যামের সম্পত্তি যেভাবে ভাগ করা হয়েছিল, তা নিয়ে তাঁর এক মেয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। ওই মেয়েটি বাবার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে স্পষ্ট বলে ফেলেছিল-‘বাবা তাঁর সম্পত্তি ছেলেদের দিয়ে গিয়েছেন। আমি তো কিছুই পেলাম না, তাহলে আমি কেন আসব?’ অন্যদিকে ছেলেরা বলেছিল, ‘তিনি আমাদের জন্য কী-ই বা করেছেন?’ঘটনার এখানেই শেষ নয়।

যে সন্তানরা মৃত বাবাকে শেষবারের জন্য দেখতে হাজির হয়নি, তারাই বাবার মৃত্যুসনদ চেয়ে চাপ তৈরি করেছে। যদিও ‘আপনা ঘর’ এর পরিচালক মাধুরী মিশ্র স্পষ্ট বলেছেন, ‘আমি কোনও ভাবেই ঘনশ্যামজির মৃত্যুসনদ তাঁর পরিবারকে দেব না। অনেকে আমাদের গালিগালাজ করে চলেছে এবং জানতে চাইছে-এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আমরা কে? কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমাদের একটি আত্মিক বন্ধন ছিল। জীবিত অবস্থায় তাঁরা তাঁকে দেখতে আসেননি, মৃত্যুর পরেও আসেননি। তাহলে এখন কেন আমরা তাঁদের মৃত্যুসনদ দেব?’

চোখের নিমিষে জলের তোড়ে ভেসে গেল আস্ত সেতু, ভয়ঙ্কর দৃশ্য বন্দি ক্যামেরায়

তৃণমূলের সমর্থনে রাজারহাট পঞ্চায়েত সমিতির নতুন সভাপতি হলেন বিজেপির রুমা মণ্ডল, জোর চর্চা 

বড়সড় সঙ্কটে CINTAA, পুনম ও পদ্মিনীকে দায়ী করে পদত্যাগ করলেন সংগঠনের ১১ সদস্য

জোরালো ভূমিকম্পে তছনছ কলম্বিয়া, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৭.৪

ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপরে পুলিশের বলপ্রয়োগের নিন্দা রাহুল গান্ধির

স্বাধীনতা দিবসের পরেই বাড়ছে পাউরুটির দাম, কত টাকা খরচ বাড়বে?

‘রাজ্যে সরকারি উদ্যোগে রাখিবন্ধন উৎসব পালন হবে,’ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

‘জেল কে তালা টুটেঙ্গে…’, ফের জেএনইউতে উমর খালিদের মুক্তির দাবিতে উঠল শ্লোগান

তারেক-দীনেশ বৈঠকের আগেই ঢাকায় ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন, জোর জল্পনা

ঝাড়খণ্ডে ‘বিধানসভা ঘেরাও’ কর্মসূচিতে উত্তেজনা, পড়ুয়াদের উপর জলকামান-লাঠিচার্জ পুলিশের

হালিশহর থানার লকআপে তৃণমূলকর্মীর মৃত্যু, সাসপেন্ড তদন্তকারী অফিসার

একার হাতে বড় করেছিলেন চার সন্তানকে, মৃত্যুর পর কেউ হাজির হলেন না বাবাকে দেখতে

সরকারি হাসপাতালে সন্ধ্যাতেও OPD! কম খরচে মিলবে চিকিৎসা

হালিশহরে মমতার গাড়িতে হামলা, ভাঙছে ঋতব্রতদের শিবির!