27ºc, Haze
Friday, 24th March, 2023 10:36 pm
নিজস্ব প্রতিনিধি, লখনউ: এলাহাবাদ হাই কোর্টের চেয়েও যোগী প্রশাসনের লাল ফিতের বাঁধন শক্তিশালী তা হাড়ে-হাড়ে টের পাচ্ছেন কেরলের সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পান। তাই গত ২৩ ডিসেম্বর এলাহাবাদ হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পরে ৪০ দিন ধরে যোগী রাজ্যে জেলের ঘানি টানছেন কেরলের সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পান। মঙ্গলবার তাঁকে জেল থেকে ছাড়া হবে এমন আশা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন আইনজীবী। কিন্তু বিফল মনোরথেই তাঁকে ফিরতে হয়েছে। আর এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, শুধু মুসলিম হওয়ার অপরাধেই কী জামিন পাওয়ার পরেও ৪০ দিন জেলের ঘানি টানতে হচ্ছে কাপ্পানকে।
২০২০ সালে উত্তরপ্রদেশের হাথরসে এক দলিত তরুণীকে গণধর্ষণের পরে পুড়িয়ে মেরেছিল দুষ্কৃতীরা। গোটা দেশই ওই ন্যক্কারজনক ঘটনা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল। ওই বছরের অক্টোবরে সংবাদ সংগ্রহের জন্য হাথরসে যাওয়ার পথে কেরলের সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পানকে গ্রেফতার করে যোগী রাজ্যের পুলিশ। মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়ায় ইউএপিএ-সহ একাধিক কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। উত্তরপ্রদেশের পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ধৃত সাংবাদিক কাপ্পান নিষিদ্ধ সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার সদস্য। শুধু উত্তরপ্রদেশ পুলিশ নয়, কাপ্পানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও। তার পর থেকে জেলই ঠিকানা কাপ্পানের। নিম্ন আদালতে একাধিকবার জামিনের আর্জি খারিজ হওয়ার পরে এলাহাবাদ হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছিলেন কাপ্পান।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট কেরলের সাংবাদিককে অন্য সমস্ত মামলায় জামিন দেয়। ২৩ ডিসেম্বর ইডির দায়ের করা আর্থিক তছরুপের মামলায় কাপ্পানের জামিন মঞ্জুর করেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি দীনেশ কুমার সিংহ। ফলে দীর্ঘ দুই বছর বাদে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছিল কেরলের সাংবাদিকের। কিন্তু কাপ্পান বুঝতেই পারেননি, যোগী রাজ্যে হাই কোর্টের নির্দেশের চেয়েও সরকারি লাল ফিতের বাঁধন কত শক্তিশালী।