আর কিছুক্ষণ, তারপরেই বদলাচ্ছি আমরা

আমরা আসছি

00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
আমরা এখন লাইভ!
এই মুহূর্তে

দ্রাবিড় স্থাপত্যকলার এক অনবদ্য নিদর্শন তিরুপতি বালাজি মন্দির

নিজস্ব প্রতিনিধি, তিরুমালা:  তিরুপতি বালাজি।

নাম শুনলে এক নাস্তিকের মন গলে যায়। এটি ভারতের অন্যতম প্রাচীন মন্দির। মন্দিরে পূজিত হন ভগবান শ্রী বিষ্ণু ভেঙ্কটেশরূপে। অস্থির কলিযুগে ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের রক্ষা করেছিলেন ভগবান শ্রী বিষ্ণু। হিন্দু পুরাণমতে, কলিযুগের যাবতীয় যন্ত্রণা, দুঃখ দুর্দশার হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে তিনি পরিত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। সে কারণে এই মন্দিরটি কলিযুগ বৈকুণ্ঠম নামেও পরিচিত। আর শ্রীভেঙ্কটেশকে বলা হয় কলিযুগের প্রত্যক্ষ দেবতা। এই দেবতার আরও কয়েকটি নামে পরিচিত। আদর করে কেউ ডাকেন বালাজি, কেউ বা বলেন গোবিন্দ। কারও কারও কাছে তিনি পরিচিত শ্রীনিবাস নামেও।

মন্দির তৈরি হয়েছে তিরুমালা পাহাড়ের ওপর। পাহাড়টি শেষচলম পর্বতমালার অংশ বিশেষ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে পাহাড়ের উচ্চতা ৮৫৩ মিটির উঁচু। এর সাতটি চূড়া। সাতটি চূড়া হল শেষাদ্রি, নীলাদ্রি, গরুড়াদ্রি, অঞ্জনাদ্রি, বৃষভাদ্রি, নারায়ণাদ্রি ও বেঙ্কটাদ্রি। সপ্তম চূড়া বেঙ্কাটিদ্রিতে তিরুপতি বালাজি মন্দিরে অবস্থান করছেন ভগবান শ্রী বিষ্ণু।

দ্রাবিড় স্থাপত্যকলার এক অনবদ্য নিদর্শন অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি বালাজি মন্দির, তৈরি হয়েছিল আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব তিনশো অব্দে। পুরাণমতে, কলিযুগে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও দেবাদিদেব মহাদেবের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ তার বিচার করার দায়িত্ব গিয়ে পড়ে নারদমুনির ওপর। নারদ একটি যজ্ঞের আয়োজনের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি শ্রেষ্ঠত্বের বিচার গিয়ে পড়ে ভৃগুর ওপর। ভৃগু প্রথমে ব্রহ্মার কাছে গেল ব্রহ্মা মুখ ফিরিয়ে নেন। বিষণ্ণ ভৃগু শিবের কাছে গেলে শিবও এক কাণ্ড করে বসেন। অপমানিত ভৃগু এবার যান ভগবান শ্রীবিষ্ণুর কাছে। বাকিদের দেখাদেখি শ্রীবিষ্ণু একই কাজ করলে ভৃগু ক্ষিপ্ত হয়ে ভগবান বিষ্ণুর বুকে লাথি মারেন। বিষ্ণুর রেগে না গিয়ে ভৃগু যে পায়ে লাথি মারেন, সেই পায়ে হাত বুলিয়ে দিলে ভৃ্গুর সব অহংকার ও ক্রোধ উধাও হয়ে যায়। এই সুযোগে বিষ্ণু ভগবান ভৃগুর তৃতীয় নেত্র, যা তাঁর অহংকারের প্রতীক, তা নিংড়ে নেন। ভুল বুঝতে পারেন ভৃগু। তিনি দুহাত জোড় করে ভগবান বিষ্ণুর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন এবং সিদ্ধান্তে উপনীত হন বিষ্ণুই শ্রেষ্ঠ। বিষ্ণুও অহংকারী ভৃগুকে ক্ষমা করে দেন।

গোল বাঁধাল বিষ্ণু-পত্নী লক্ষ্মী। তিনি রাগে গজগজ করতে করতে স্বামীর ঘর বৈকুণ্ঠ ত্যাগ করে কোলহাপুরে গিয়ে ধ্যানে বসে। স্বর্গে তখন ত্রাহি ত্রাহি রব। সবাই অস্থি হয়ে পড়েছে। শেষে কিন্তু বিষ্ণুপত্নী তাঁর স্বামীর ঘর ছেড়েছেন। স্ত্রী স্বামীর ঘর ছেড়ে অন্যত্র গেলে কার মন ভালো থাকে। বিষ্ণু নাওয়া-খাওয়া ফেলে শ্রীনিবাস রূপ ধারণ করে তিরুমালা পর্বতে এসে তিনিও ধ্যানে বসলেন।খবর গেল লক্ষ্মীর কাছে। লক্ষ্মী ব্রহ্মার দ্বারস্থ হন। শিব ধারণ করলেন গাভীর রূপ এবং ব্রহ্মা বাছুরের রূপ। লক্ষ্মী কী করেছে শিবরূপী গাভী আর বাছুররূপী ব্রহ্মাকে বুঝতে না পেরে একজনের কাছে বিক্রি করে দেন চোল রাজার কাছে। গাভীটি রোজ সকালে ভগবান শ্রীবিষ্ণুর কাছে গিয়ে তাকে দুধ খাওয়ায়। একদিন রাজভৃত্য রাখালের নজরে পড়ে যাওয়ায় রাখাল সেই গাভীর বুকে লাথি মারে। ভগবান বিষ্ণরূপী শ্রীনিবাস এই ঘটনায় রীতিমতো দুঃখ পেয়ে চোল রাজাকে এই মর্মে অভিশাপ দিলেন যে তিনি অসুরে পরিণত হবেন।রাজা শ্রীনিবাসের কাছে ক্ষমা চাইলে ভগবান বিষ্ণু তাঁকে ক্ষমা করে দিয়ে বলেন পরজন্মে তিনি আকাশরাজা রূপে জন্মনেবেন এবং কন্যা পদ্মাবতীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে দিতে হবে। অন্ধপ্রদেশের নারায়ণবনে দুজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ।

এই খবরেও অসন্তুষ্ট লক্ষ্মী বিষ্ণরূপী শ্রীনিবাসের কাছে কৈফিয়ত চাইল বিষ্ণু পাথরে পরিণত হন। খবর পেয়ে সটান সেখানে হাজির হন ব্রহ্মা এবং শিব। লক্ষ্মীকে বোঝান কেন এই সব করতে হল। লক্ষ্মী ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত বোধ করেন। সিদ্ধান্ত নেন তিনি এবং তাঁর কন্যা পদ্মবতী পাথররূপ ধারণ করবেন। লক্ষ্মীর স্থান হল দেবাদিদেব মহাদেবের বুকের বামদিকে আর পদ্মাবতীর স্থান হল ডান দিকে। এই তিন নিয়ে ভগবান শ্রীভেঙ্কটেশ।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

চলন্ত বিমানের জানলা খুলে ঝাঁপ যাত্রীর, চেন্নাই বিমানবন্দরের ঘটনা শুনলে চমকে যাবেন

রিলস বানাতে গিয়েই বিপদ! জলের ট্যাঙ্কে ১৬ ঘণ্টা আটকে থাকা শিশুদের উদ্ধার করল বায়ুসেনা

ঘোড়া-হেলিকপ্টার নয়, ৭৩ বছর বয়সে পায়ে হেঁটে কেদারনাথে পৌঁছলেন বৃদ্ধা

টিভি-ফ্যান থেকে মোবাইল চার্জার, অটোতে উঠলেই মিলবে ভিআইপি ট্রিটমেন্ট! ভাইরাল ভিডিও

ফেসবুক থেকে প্রেম, প্রেমিকার নির্দেশে স্ত্রীর সঙ্গে যা করলেন জওয়ান শুনে শিউরে উঠবেন

একই ঘর থেকে উদ্ধার ৫টি দেহ! অভিযুক্ত স্বামীর কীর্তি শুনলে শিউরে উঠবেন

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ