মায়ের স্বপ্নাদেশে শুরু পুজো! দেবীর আট হাত ঢেকে রাখা হয় এই বনেদি বাড়ির পুজোয়

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি : আজ হল চতুর্থী। উমার আগমনে উৎসবে মেতে উঠেছে ভক্তরা। তবে দুর্গা পুজোর সময় যদি কথা ওঠে বনেদি বাড়ির পুজোর। তবে  প্রাচীন ইতিহাসে কান পাতলা শোনা যায় নানান ঐতিহাসিক ঘটনা। জেলা জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বহু বনেদি বাড়ি, জমিদার বাড়ি।এক একটা বনেদি বাড়ির দুর্গা পুজোর পিছনে রয়েছে নানান ইতিহাস।এর মধ্যে অন্যতম একটি জমিদার বাড়ি হল জয়নগরের মিত্রবাড়ি। অতীতের সাড়ম্বরে আজও পালন হয়ে আসছে জয়নগরের মিত্র জমিদার বাড়ির পুজো। কালের নিয়মে জৌলুস সামান্য কমলেও বিলুপ্ত হয়ে যায় নি একেবারে।আজ থেকে ৩৫০ বছরেও বেশি সময় ধরে প্রথা মেনেই চলে আসছে মিত্র বাড়ির দুর্গাপুজো। এই বাড়িতে মেয়ে রুপে দেবী পুজিত হন।

ইতিহাস : শোনা যায়, এই বাড়ির একজন সদস্য একদিন রাত্রে হঠাৎই দেবী মায়ের স্বপ্নাদেশ পান। স্বপ্নে দেবী তাঁর কাছে স্বপ্নে গহনা চান। সেই অনুযায়ী গহনা বানিয়ে দেন ঐ সদস্য। হাতের একজোড়া সোনার বালা তৈরি করে দেন। সোনার বালা পেয়ে দেবী ভীষণ খুশি হন। এইকথা জানান স্বপ্নাদেশে। দেবী খুশি হয়ে আবার স্বপ্নে বলেন তিনি এই দুই হাতের বালা পেয়ে সন্তুষ্ট। সেই থেকে পালিত হয়ে আসছে মিত্র বাড়ির দু্র্গা পুজো।

মিত্র বাড়ির পুজোয় আর একটি আকর্ষণীয় জিনিস হল, দেবী প্রতিমার ১০টি হাত তৈরী করা হলেও আটটি হাত চুল দিয়ে ঢেকে রাখা হয় এবং যে দুটি হাতে বালা পড়ানো হয় সেই দুটি হাত ঢাকা হয় না। এই মিত্র বাড়িতে অন্নভোগ হয় না। দেবীকে নিবেদন করা হয়, মিষ্টান্ন ভোগ। অন্নভোগের পরিবর্তে পরিবর্তে লুচি বা শুধুমাত্র ফল, মিষ্টির ভোগ নিবেদন করা হয়।

আরও পড়ুন : মহাদেবের কোলে পার্বতী ! বৈষ্ণব ঘরেও দেবী পুজিত হন চামুণ্ডারূপে

এখানে মায়ের বাহন সিংহের আকৃতি পৌরাণিক ঘোটকের মতো। সরস্বতী লক্ষ্মী দেবীর কোনও বাহন থাকে না। পঞ্চমীতে দেবীর বোধন হয়। এই বাড়ির পুজোর বিশেষ আকর্ষণ হল অষ্টমীতে করা হয় কুমারী পুজো, নবমীতে সধবা পুজো এবং দশমীতে অনুষ্ঠিত হয় অপরাজিতা পুজো। এছাড়াও ঠাকুরদালানে নবপত্রিকা স্নান করানো হয়। নবপত্রিকা স্নানের সময় বাড়ির মহিলারা দেবীকে কাপড় দিয়ে আবৃত করে রাখেন।

উল্লেখ্য, ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে মহারাজা আদিসুর কনৌজ থেকে পাঁচজন ব্রাহ্মণ ও পাঁচজন কায়স্থকে নিয়ে আসেন। সেই পাঁচ জনের মধ্যে একজন ছিলেন এই বংশের আদিপুরুষ, যাঁর নাম কালিদাস মিত্র। তাঁরই সপ্তদশ প্রজন্ম নরসিংহ মিত্র করগোবিন্দপুর থেকে এসে জঙ্গল কেটে ভবানীপুরে বসতি স্থাপন করেন। ১৮৯২ সালে এই পরিবারের এক সদস্য সুভাষচন্দ্র মিত্র ১৩ নম্বর পদ্মপুকুর রোডে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। তারপর তিনি এই দুর্গাপুজোর প্রথম প্রচলন করেন। প্রতিবছর বহু মানুষ ভিড় করেন জমিদার বাড়ির এই পুজো দেখতে।

আরও পড়ুন : পুজোর আগেই জেনে নিন দশমীর দিন কেন প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় ?

ঝড়ের দাপটে ভেঙে পড়ল সাধক রামপ্রসাদের ভিটের প্রাচীন গাছ

মালদহে বিজেপি সমর্থক পরিবারের ওপর হামলা, মহিলাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ

কিশোর দত্তের বদলে রাজ্যের নতুন অ্যাডভোকেট জেনারেল হলেন আইনজীবী সুরজিৎ নাথ মিত্র

ডোমজুড়ে পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষর ২ সাকরেদ গ্রেফতার

ফের ঝোড়ো ব্যাটিং বৈভবের, গুজরাতকে ২১৫ রানের লক্ষ্য দিল রাজস্থান

তৃণমূল নেতার জমি থেকে এবার উদ্ধার একাধিক অস্ত্রশস্ত্র

ভিসার মেয়াদ শেষেও অবৈধ বসবাস, দিল্লিতে পাকড়াও পাঁচ বাংলাদেশি

শুক্রের প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতদের পরিবারকে চার লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা শুভেন্দুর

বাংলাদেশে হাম এবং উপসর্গে মৃত্যুমিছিল অব্যাহত, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১০ শিশুর

দেশে চালু হচ্ছে প্লাস্টিক নোট! শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক

‘১ অগস্ট থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত জনগণনা চলবে’,জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

বিজেপির বিজয় মিছিলে যাওয়ার অপরাধে যুবককে এলোপাথাড়ি ধারাল অস্ত্রের কোপ, গ্রেফতার তৃণমূল কর্মী

পঞ্জাবে পুরভোটে ‘ঝাড়ু’ ঝড়, বহু পিছনে থেকেও দ্বিতীয় কংগ্রেস

নাবালিকাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, গণপিটুনিতে প্রাণ হারাল প্রৌঢ়