এই মুহূর্তে

মহিষাসুরমর্দিনী রূপে নয়, সেন বাড়িতে মা আসেন অভয়া দুর্গা হিসাবে

Courtesy - Facebook

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা(Kolkata) হল বাংলা ও বাঙালির কৃষ্টির তথা সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র। স্বাভাবিক ভাবেই সেই কলকাতার বুকেই সব থেকে বেশি বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো দেখা যায়। মধ্য কলকাতার বৈঠকখানা রোডের(Baithakkhana Road) নীলমণি সেন বাড়ির দুর্গাপুজো(Nilmani Sen Family Durga Puja) সেই সব বনেদি বাড়ির অন্যতম হয়েও তা অন্যন্য হয়ে রয়েছে এক বড় বৈশিষ্টের জন্য। আমরা সাধারণত যে দশভুজা মহিষাসুরমর্দিনী রূপে দেবী দুর্গার আবাহন করি, তার থেকে একেবারে ভিন্ন রূপের দেবীপ্রতিমা দেখা যায় শহর কলকাতা ও বাংলার নানা প্রান্তে। সেই সব দুর্গাপ্রতিমাকে সাধারণত ‘অভয়া দুর্গা’(Abhaya Durga) বলা হয়। অস্ত্র ত্যাগ করে তিনি শান্ত দ্বিভুজা মূর্তিতে মর্তবাসীকে অভয় প্রদান করছেন। সেন বাড়িতেও সেই অভয়া দুর্গাই পুজো পান সন্তানসহ।

সূর্য সেন স্ট্রিট দিয়ে পশ্চিম দিকে যাওয়ার সময় ডান দিকে বৈঠকখানা রোডে কাগজ আর প্রিন্টিং-এর দোকানগুলির মধ্যে নজর এড়াবে না গত শতকের একেবারে প্রথম দিকে তৈরি হওয়া একটি সাদা রঙের বাড়ি। বাইরের বারান্দার নীচে ব্র্যাকেট আর উপরে নকশাদার গ্রিল— দুই-ই ঢালাই লোহার তৈরি। এই বাড়িতেই পুজো হয়ে এসেছে অভয়া দুর্গার। যশোরের বাসিন্দা সুবর্ণ বণিক নীলমণি সেন কলকাতায় এসে প্রথম জাকারিয়া স্ট্রিট অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন। সেখানেই শুরু হয় দুর্গোৎসব। তিন খিলান বিশিষ্ট ঠাকুরদালান-সহ বৈঠকখানা রোডের এই বাড়ি তৈরি করেন নীলমণির পৌত্র কানাইলাল সেন। এক সময় ঠাকুরদালানের গায়ে সুন্দর কারুকাজ ছিল, যার একটা আভাস এখনও পাওয়া যায়। ১৯১৩ সাল থেকে পারিবারিক ঐতিহ্য মেনে এখানে দুর্গা ‘অভয়া’ রূপে পূজিতা হয়ে আসছেন।

সেন বাড়ির অভয়া দুর্গার মূর্তিতে অসুর থাকে না, তাই রক্তও দেখা যায় না। দ্বিভুজা দেবীর এক হাতে অভয় মুদ্রা, অন্য হাতে বরদা মুদ্রা। পায়ের কাছে বসে আছে সিংহ, ঠিক যেন পোষা বেড়াল। দেবীর সঙ্গে লক্ষ্মী সরস্বতী কার্তিক গণেশ নিজেদের প্রথাগত স্থানে প্রতিষ্ঠিত। ষষ্ঠীর দিন বোধন হয়ে পুজো শুরু হয়। পুজোর ক’দিন প্রতিমা দর্শনের জন্য বাইরের দর্শনার্থীদের ঢুকতে দেওয়া হয় বাড়িতে। সন্ধিপুজোয়(Sandhi Puja) এখনও এই বাড়ির সদস্যরা বুক চিরে মাকে রক্ত দেন। এই বাড়িতে কাঠামো পুজো হয় উল্টোরথের দিন। ষষ্ঠাদিকল্পে পুজো, অর্থাৎ ষষ্ঠীর দিন বোধন হয়। চাল, ডাল, বিভিন্ন ফল মিষ্টান্ন দেওয়া হয় নৈবেদ্য হিসেবে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

দার্জিলিংয়ে হিমালয়ান রেলে চড়িয়ে মা দুর্গাকে রংবুলের বাংলো নদীতে নিরঞ্জন

লণ্ঠনের আলো দেখিয়ে উমাকে বিদায় সংখ্যালঘুদের, সম্প্রীতির ছবি মরা মহানন্দার ঘাটে

‘আসছে বছর আবার হবে’, বিষন্ন মন নিয়ে দশমীর রাতেও মণ্ডপে-মণ্ডপে হাজির দর্শনার্থীরা

দশমীতে হয় না বিসর্জন, উত্তরের চাষি পরিবারের কুটিরে ভান্ডানি রূপে বিশ্রাম নেবেন উমা

আবারও শুরু দিন গোনা! জেনে নিন আগামী বছরে দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ট, কী কী বার থাকছে ছুটি?

প্রথা মেনেই ইছামতিতে বিসর্জন টাকি রাজবাড়ির দুর্গা প্রতিমার, নদীর পাড়ে ভিড় দুই বাংলার মানুষের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ