দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

‘অসিত অতীত, সামনে নতুন চুঁচুড়া’, দেবাংশুর হয়ে প্রচারে নেমে বিস্ফোরক রচনা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে সপ্তাহ দুয়েক আগেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে তৃণমূল। ২৯১ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছেন রাজ্যের শাসক দল। যার মধ্যে ৭৪ বিধায়কের নাম বাদ গিয়েছে, ১৫ আসনের প্রার্থী পরিবর্তন হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, হুগলির চুঁচুড়া। যেখানকার বিদায়ী বিধায়ক হলেন অসিত মজুমদার। কিন্তু তাঁকে এবার টিকিট দেওয়া হয়নি, তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছে ‘খেলা হবে’ গানের নায়ক দেবাংশু ভট্টাচার্যকে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে ভোট প্রচার। আর দেবাংশুর হয়ে প্রচারে নেমেছেন অভিনেত্রী তথা হুগলির সাংসদ রচনা বন্দোপাধ্যায়। তাতেই রচনার সঙ্গে চুঁচুড়ার বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদারের পুরনো দ্বন্দ্ব জেগে উঠেছে। সেই উত্তাপ রাজনীতি মহলেও আঁচ দিচ্ছে। রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে চুঁচুড়ার তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যের সমর্থনে শহর তৃণমূলের মিছিল নেমেছিল। কিন্তু মিছিলে অসিত মজুমদারকে আমন্ত্রন জানানো হয়নি। তাতেই সাংবাদিক বৈঠক করে ক্ষোভ উগরে দেন বিধায়ক অসিত মজুমদার। তাঁর অভিযোগ, সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে মিছিলে আমন্ত্রণ জানাননি এবং এলাকায় গোষ্ঠীবাজি তৈরি করছেন তিনি।

পাশাপাশি রচনাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে অসিত মজুমদার বলেন, ‘রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় দল ছেড়ে নির্দলের প্রার্থী হলেও তিনি তাঁকে হারাবেন। পাশাপাশি সাংসদ তহবিলের অর্থে বিভিন্ন স্কুলে স্মার্ট ক্লাস তৈরিতে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন তিনি। সেখানকার রেট ১০ থেকে ১৪ লাখের দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ৪ লাখেই খরচ হয়ে যায়। এর আগে রচনা বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক নতুনদের বেছে নিয়েছেন। পুরনোদের বিশ্বাস, জনপ্রিয়তা দেখে তাঁদের নির্বাচনে প্রার্থী করবেন। তাহলে রচনা এটাই বলতে চাইছেন যে, যাঁরা বাদ গিয়েছেন, প্রাক্তন বিধায়করা কেউ যোগ্য নন। তাঁদের উপর মানুষের আস্থা নেই।’ আজ চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যের সমর্থনে আয়োজিত এই মিছিল পিপুল পাতির মোড় সংলগ্ন ডি আই ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে ঘড়ির মোড়ে শেষ হয়। সেই মিছিলে যোগ দেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন শহর তৃণমূল সভাপতি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা। মিছিল শেষে জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, ‘মানুষের উচ্ছ্বাস তাঁকে আপ্লুত করেছে এবং চুঁচুড়া সবুজ আবিরে রাঙাতে প্রস্তুত। এটা শুধু ট্রেলার, আসল সিনেমা এখনও বাকি।’

অন্যদিকে সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অসিত মজুমদার-কে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সোজাসাপ্টা বলেন, “অসিত মজুমদার অতীত—ওনাকে নিয়ে ভাবার সময় নেই। আমরা সামনে যে নতুন চুঁচুড়া তৈরি হতে চলেছে, সেটাকেই নিয়ে ভাবছি। যা ইঙ্গিত করছে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে। এদিকে অসিত-রচনার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসতেই অস্বস্তি বাড়িয়েছে রাজ্যের শাসক দলের রাজনৈতিক শিবিরে। যদিও এই দ্বন্দ্ব আজ নতুন নয়, চুঁচুড়ার বিধানসভার বিধায়ক থাকাকালীন একাধিকবার অসিত-রচনার মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়েছিল, বেড়েছিল দূরত্ব। যা সামলাতে আসরে নামতে হয়েছিল শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পরমূহুর্তে বর্ষীয়ান প্রাক্তন বিধায়ককে বলতে শোনা গিয়েছিল, রচনা আমার বোনের মতো। আমরা দাদা বোন একসঙ্গে আছি। কিন্তু সেই মন্তব্য কোনবারই চিরস্থায়ী হয়নি। এবারেও বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আবারও দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন দুই পক্ষ।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

‘‌নাগরিকের অধিকার হরণ করা যায় না’‌, মোটরবাইক বন্ধে কমিশনকে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থীকে গ্রামের মধ্যে বেধড়ক মারধর, গ্রেফতারের নির্দেশ কমিশনের

চাঁচলে বিজেপি এজেন্টকে ধাক্কা-ঘুষি-লাথি, ভাঙল গাড়ির কাঁচ

‘এবারে বাংলায় ভোট শান্তিপূর্ণ, হিংসার ঘটনা কমেছে,’ কমিশনকে দরাজ সার্টিফিকেট মোদির

‘CPIM-এর পতাকা এখন শুধুই বিরিয়ানির হাঁড়িতেই’, বেফাঁস মন্তব্য সায়ন্তিকার

ভোট দিলেই ফ্রিতে চা-বিড়ি-পান-সুপারি, বাংলার এই বুথের বাইরে এলাহি আয়োজন

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ