আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ বলে ঘোষণা ইরানের, মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সরকার বিরোধী আন্দোলনের জেরে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে ইরানে। টানা দুই সপ্তাহ ধরে জ্বলছে এই বিক্ষোভের আগুন। এই আবহে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ দিলেন চরম হুঁশিয়ারি। বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে বলেছেন যারা বিক্ষোভে অংশ নেবেন, তাদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে। সেই সঙ্গেই ইরানের আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হবে।

সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া বিবৃতিতে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, যারা বিক্ষোভ করছেন শুধু তারা নয়  যারা ‘দাঙ্গাকারীদের সহায়তা করেছেন’, তারাও একই অভিযোগের ও শাস্তির মুখোমুখি হবেন।  এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ইরানের দণ্ডবিধির ১৮৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা রয়েছে কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন যদি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে জড়ায়, তাহলে যারা জেনে-বুঝে সেই গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে সহায়তা করে, তারাও ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। তারা নিজেরা সরাসরি সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে অংশ না নিলেও অপরাধী। দণ্ডবিধির ১৯০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী  ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে বিবেচিত হলে শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।  যার মধ্যে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড, ফাঁসি, ডান হাত ও বাঁ পা কেটে ফেলা অথবা স্থায়ীভাবে দেশের অভ্যন্তরে নির্বাসন।

আরও পড়ুন: অশ্লীলতার দায়ে ৬০০ x অ্যাকাউন্ট বন্ধ, কেন্দ্রের হুঁশিয়ারির পরেই পদক্ষেপ

প্রসঙ্গত, একাধিক সংবাদ মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে ইরানে বিক্ষোভের কারণে  প্রায় ৬৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের ছবিতে আগুন জ্বালিয়ে তা থেকে সিগারেট জ্বালানোর দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়েছে। নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্ষোভ–হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিক্ষোভ রুখতে বৃহস্পতিবার থেকে তেহরানে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে এবং টেলিফোন লাইনও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মধ্যে ইরানের রাস্তাগুলিতে ব্যাপক বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এই আবহে এক সাহসী প্রতিবাদে নেমে পড়লেন ইরানের মহিলারা। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দেখা গিয়েছে, ইরানের ধর্মীয় প্রধান আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের ছবিতে আগুন জ্বালিয়ে সেই আগুনে প্রকাশ্যে সিগারেট ধরাচ্ছেন মহিলারা। যা সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার প্রতীক হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে দেশে প্রচলিত ধর্মীয় ব্যবস্থার জন্য এটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে একটিতে পরিণত হয়েছে। ইরানের আইনে শিয়া ধর্মপ্রধানের ছবি পোড়ানো মারাত্মক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এমনকী প্রকাশ্যে মহিলাদের ধূমপান দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের অধীনে রয়েছে। সুতরাং খামেনেইয়ের ছবি পুড়িয়ে সেই আগুনে সিগারেট ধরানোর মতো কাজ করে প্রতিবাদকারীরা রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব এবং নারীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, দুটোকেই প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করেছেন।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

দু’মাস পর তেহরান থেকে পুনরায় বিমান পরিষেবা চালু করল ইরান, যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত?

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল আমেরিকা

ইরানি সেনার হাতে আটক ট্যাঙ্কারে রাজস্থানের মার্চেন্ট নেভি অফিসার, উদ্বিগ্ন পরিবার

প্রশান্ত মহাসাগরে আমেরিকার হামলা, নিহত ২

যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই নতুন ব্যবসার ছক আমেরিকার

আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে না ইরান, কি হতে চলেছে পাকিস্তানে?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ