এই মুহূর্তে

‘‌আমি ৪৭ বছর ধরে মৃত’‌, ইরানের রাজপথে নারীর ‘‌রক্তাক্ত’‌ প্রতিবাদ, ভাইরাল ভিডিও

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ ইরান সরকারের বিরোধী বিক্ষোভ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। এই বিক্ষোভ দমনের প্রচেষ্টা তীব্র করাও হয়েছে। আর তখনই একজন বয়স্ক মহিলা বিক্ষোভকারীর ইসলামী শাসনব্যবস্থাকে অমান্য করার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। যেটা অর্থনৈতিক দুর্দশা এবং ক্রমবর্ধমান জনরোষের কারণে দেশব্যাপী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠছে। রাতের বিক্ষোভের ওই ভাইরাল ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, মুখ থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এমন মহিলাকে তেহরানের রাস্তায় মিছিল করতে এবং সরকার বিরোধী স্লোগান দিতে। গত কয়েকদিন ধরেই প্রবল বিক্ষোভ চলছে ইরানে। বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সেই দেশের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। তাঁর গণ বিক্ষোভের ডাকে সাড়া দিয়ে তেহরান এবং অন্যান্য শহরে পথে নামেন বিপুল মানুষ।

এদিকে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, বৃহস্পতিবার রাতে ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং টেলিফোন লাইনের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলে খবর। এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে দেখা ও শোনা যায়, ‘‌আমি ভয় পাই না। আমি ৪৭ বছর ধরে মৃত।’‌ ওই মহিলা চিৎকার করে বলছেন। আর ওই মহিলার মুখ থেকে তখন যে লাল তরল বের হচ্ছিল সেটা রক্ত নাকি ভিন্ন কোনও রঙ ব্যবহার করেছিলেন তা স্পষ্ট নয়। ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থা শুরু হয়েছিল ৪৭ বছর আগে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শাহ মহম্মদ রেজা পাহলভিকে উৎখাত করা হয় এবং আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে একটি শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইরানের এখন সর্বোচ্চ নেতা, সেইয়াদ আলি হোসেইনি খামেনি। যিনি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি।

 

অন্যদিকে শুক্রবার ইরানের বিক্ষোভ ১২ দিনে পা দিয়েছে। জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি, চাকরি না থাকা, জীবনযাত্রার মান পতন–সহ নানা অভিযোগ রয়েছে ইরানের শাসকদের বিরুদ্ধে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে যখন রীতিমতো ফুঁসছে ইরানের জনতা তখন এক্স হ্যান্ডেলে ভিডিও ক্লিপটি শেয়ার করে ইরানি–আমেরিকান সাংবাদিক এবং কর্মী মাসিহ আলিনেজাদ লিখেছেন, ‘‌আমি ভয় পাই না। আমি ৪৭ বছর ধরে মৃত। এটি ইরানের একজন মহিলার কণ্ঠস্বর। যিনি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের উপর বিরক্ত।’‌ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‌৪৭ বছর আগে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র আমাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং একটি জাতিকে বন্দি করে তুলেছিল। আজ মানুষের হারানোর আর কিছুই নেই, তারা জেগে উঠেছে। ইরান জেগে উঠছে।’‌

এছাড়া বিক্ষোভকারী এবং সেনা–পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে ইরানে এখনও পর্যন্ত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চলা এই বিক্ষোভ ইরানের জনগণকে ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভির দ্বারা প্রভাবিত করা যায় কিনা তার প্রথম পরীক্ষা ছিল। রেজা পাহলভির বাবা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের ঠিক আগে ইরান ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। বিক্ষোভে শাহের সমর্থনে চিৎকারও করা হয়েছে। যা অতীতে মৃত্যুদণ্ডের কারণ হতে পারত। কিন্তু এখন ইরানের দুর্বল অর্থনীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভের ক্ষোভকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বিক্ষোভগুলি মূলত নেতৃত্বহীন রয়েছে। তবে বিপুল সংখ্যক ইরানি রাস্তায় নেমে স্লোগান দিচ্ছেন, ‘‌স্বৈরশাসকের মৃত্যু!’‌ এবং ‘‌ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের মৃত্যু!’‌ অন্যরা পাহলভির প্রশংসা করে চিৎকার করে বলছেন, ‘‌এটিই শেষ যুদ্ধ! পাহলভি ফিরে আসবে।’‌

Published by:

Share Link:

More Releted News:

টিকিট ছাড়াই বিস্ময়কর দুনিয়ায়: নানজিংয়ের জাদুঘর ভ্রমণ

ট্রাম্পের দূত হয়ে ইরানের সঙ্গে কথা বলতে তেহরানে পাক সেনাপ্রধান মুনির

তুরস্কের স্কুলে ঢুকে ৯ জনকে ঝাঁঝরা করে গুলিতে আত্মঘাতী ১৩ বছরের কিশোর

বিমানে পাশের আসনে বসা মহিলাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, গ্রেফতার ভারতীয়

ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ মিথ্যে, ট্রাম্পের হুমকি নিয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারি চিনের

আগামী ১৫ বছরের মধ্যে ভারত-সহ বিশ্বের ৫০ কোটি শিশুর ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ