এই মুহূর্তে

নেপালে নতুন সূর্যোদয়, অন্তর্বর্তী সরকার গড়তেই উঠল কার্ফু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হিংসা, দাঙ্গা এবং অগ্নিসংযোগের পর নেপালে এখন শান্তি ফিরে আসছে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে সেনাবাহিনী কর্তৃক আরোপিত কার্ফু এবং নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ শনিবার ভোর ৫টা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিরাপত্তা বাহিনী এই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পথেঘাটে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি আরও কয়েকদিন থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি গতকাল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। রাজধানীর রাস্তা এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরছে। স্থানীয় বাসিন্দা সুমন শিবকোটি বলেন, 'আমি আশা করি সুশীলা কার্কি নেপালের জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা করবেন। দেশকে আরও সুরক্ষিত রাখা এবং উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।' 

সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে হিংসার কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, এই বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ২১ জন বিক্ষোভকারী, ৯ জন বন্দি, ৩ জন পুলিশ কর্মী এবং ১৮ জন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। যেভাবে বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালে হোটেল শিল্প। প্রতিবেদন অনুসারে, প্রায় ২৪টি হোটেলে ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অন্তত ২৫ বিলিয়ন নেপালি টাকার ক্ষতি হয়েছে। 
নেপাল পুলিশ দেশজুড়ে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের ঘটনাগুলির বিষয়ে জনসাধারণের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে। পুলিশ বলেছে যে, যাদের কাছে এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ভিডিও বা প্রমাণ আছে, তাদের উচিত সেগুলি শেয়ার করা যাতে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এর জন্য, পুলিশ একটি অফিশিয়াল ইমেল আইডি প্রকাশ করেছে। সেই মেল আইডিতে এই ধরণের সমস্ত ভিডিও পাঠানোর জন্য আবেদন করেছে। 
নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন। শত শত বিক্ষোভকারী তাঁর বাসভবন ও অফিসে প্রবেশ করে লুটপাট চালায়। সোমবারের বিক্ষোভে মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভকারীরা ওলির পদত্যাগ দাবি করছিল। সোমবার রাতেই সোশ্যাল মিডিয়ার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল নেপালে। অলির পদত্যাগের পরেও হিংসা থামেনি।বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, সরকারি অফিস, সিংহ দরবার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অফিস এবং সিনিয়র নেতাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। 

শুক্রবার বিকেলে, কাঠমান্ডুর পশুপতিনাথ মন্দির কমপ্লেক্সের বাগমতী নদীর তীরে আর্যঘাটে মৃতদের অনেকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে প্রায় ১,৭০০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ১,০০০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। 
Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

ইজরায়েলের বোমা থেকে রক্ষা পেলেও অজানা ভাইরাসে মরছে গাজাবাসী

নিখোঁজের ১০ বছরের বেশি সময় পর বাড়ি ফিরল পোষা কুকুর

২৬ কোটি ডলার ফাঁকি দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্যপদ ছাড়ল আমেরিকা

অস্ট্রেলিয়ায় ফের বন্দুকবাজের হামলা, মৃত ৩, স্থানীয়দের ঘরে থাকার পরামর্শ

​’হ্যান্ডশেক ভুলে গেলেন নাকি?’ অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ভিডিওতে ভারতকে আবারও খোঁচা পাকিস্তানের

ইন্দোনেশিয়ায় ৬৭ হাজার বছর আগের গুহাচিত্রের হদিশ, কেমন সেই নকশা?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ