এই মুহূর্তে

জানেন কী কালীপুজোয় মদ লাগে কেন? দেবী কী আদৌ সুরা পান করেন ?

নিজস্ব প্রতিনিধি : দেবী কালী হলেন আদ্যাশক্তি। কালকে কলন করেই তিনি কালী। তিনি অশুভ শক্তিনাশ করেছেন। গলায় তার প্রতীক হিসেবে পরেছেন দানবমুণ্ডমালা। শাক্তমতে কালী বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ। বলা হয় দেবী কালী হলেন স্বয়ং মহাদেবেরই ক্রোধের বহি:প্রকাশ। দেবী কালীর সারা শরীর নীল বা কৃষ্ষ বর্ণের, তাঁর রক্তবর্ণ চোখ, ক্রুদ্ধ চেহারা, ত্রিনয়নী, মুক্তকেশী, চারটি হাত এবং গলায় মুণ্ডমালা। বাম দিকের দুই হাতে নরমুণ্ড এবং খড়গ। সর্বদা লোলজিহ্বা বাইরে বেরিয়ে থাকে। তবে দেবীর পুজো মদ লাগে এমন নিশ্চয়ই শুনেছেন। কিন্তু দেবী কী নিজে মদ পান করেন ? জানেন কী কালীপুজোয় মদের কথা উল্লেখ আছে কেন ?

মদ বা কারণসুধা কালীপুজোয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠল কীভাবে? এর উত্তর জানতে হলে আপনাকে ফিরে যেতে হবে দুর্গা পুজোয়। দেবী দু্র্গা যুদ্ধে মহিষাসুরের অহঙ্কারে মত্ত হয়ে প্রবল গর্জন করেছিল।তখন দুর্গা মহিষাসুরকে বলেছিল তাঁকে বলেছিলেন,‘গর্জ গর্জ ক্ষণং মূঢ় মধু যাবৎ পিবাম্যহম/ময়া ত্বয়ি হতেঽ ত্রৈব গর্জিষ্যন্ত্যাশু দেবতাঃ।’ অর্থাৎ, ওরে মূঢ়, যতক্ষণ আমি মধুপান করি, ততক্ষণ তুই গর্জন করে নে। তারপরে আমি তোকে বধ করলেই, দেবতারা এখানে শীঘ্রই গর্জন করবেন!’এক্ষেত্রে মধু কিন্তু মোটেও কোমল পানীয় নয়। অনেকে মনে করেন সংস্কৃতে ‘মদে’র একটি প্রতিশব্দ হল ‘মধু।

ব্রহ্মযামল তন্ত্র মতে, বঙ্গে কালীর যে রূপটির সর্বাধিক পুজো হয় তা হল দক্ষিণাকালী বা শ্যামাকালী। এই দেবী খড়্গ দিযে আঘাত হানেন চাঁদে। সেই চাঁদ থেকে নিঃসৃত অমৃত পানে তুষ্ট হন দেবী। অন্যদিকে, চণ্ড-মুণ্ড বধের সময় দেবী কৌষিকীর ভ্রুকুটিকুটিল ললাটদেশ থেকে উৎপন্না হয়েছিলেন যে কালী, তিনি পান করেন কেবল রক্তই। যুদ্ধে তিনি রক্তবীজ সহ অনেক অসুরবীরেরই রক্ত পান করে তাঁদের বলহীন করে তুলেছিলেন। তবে দক্ষিণাকালী বা শ্যামাকালী পান করেন শুধু সুরা বা মধু (চাঁদ থেকে নিঃসৃত)।

পণ্ডিতদের বক্তব্য, বৈষ্ণবদের পঞ্চগব্য অর্থাৎ দধি-দুগ্ধ-ঘৃত-গোমূত্র-গোময়। তেমনই শাক্তদের মদ্য-মাংস-মৎস্য-মুদ্রা-মৈথুন। তবে এই মদ মানে ব্রহ্মরন্ধ্র থেকে ক্ষরিত অমৃতধারা বা সাক্ষাৎ আনন্দ। তন্ত্রসাধনার মাধ্যমে কুলকুণ্ডলিনী জাগ্রত হলে খুলে যায় মস্তিষ্কের উপরিতল বা ব্রহ্মরন্ধ্র। তখন যে আনন্দধারা প্রবহমান হয়, তাই আসলে মদ্য বা কারণ।

আরও পড়ুন :  কৃষ্ণ স্বয়ং কালী, জানেন কী সেই কৃষ্ণকালী রূপের রহস্য?

জনশ্রুতি রয়েছে যে, একবার বশিষ্ঠ হাজার হাজার বছর তপস্যা করেও সিদ্ধি অর্জন করতে পারছিলেন না। তখন তিনি বিষ্ণুর নির্দেশে রওনা দেন চিন দেশে। মা কালীর আরাধনা করার জন্য। তখন সেখানে গিয়ে বশিষ্ঠ দেখেন, সেখানে পঞ্চ ম কার অর্থাৎ মদ্য-মাংস-মৎস্য-মুদ্রা-মৈথুন সহকারে তন্ত্রমতে দেবী আরাধনা করা হয়। সেই সাধন পদ্ধতিই বশিষ্ঠ নিয়ে আসেন বঙ্গে। সেই থেকে কালীপুজোয় জড়িয়ে রয়েছে মদ।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

জঙ্গলের নদীতে একসঙ্গে জল খাচ্ছে চিতাবাঘ-কালো প্যান্থার, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলল বিরল ভিডিও

পাঁচতারা হোটেলের সেলুনে ‘ভুল’ হেয়ারকাট, মডেলকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

ভিডিও কলের কনফারেন্সে কানাডার দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ হল মহারাষ্ট্রের থানেতে

মিলিয়ন ভিউজের হিরো! চিনে নিন আড়াই ফুটের ভাইরাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে

৪৪ বছর পর পাওয়া গেল সমুদ্রসৈকতে হারিয়ে যাওয়া আংটি, কীভাবে শুনলে অবাক হবেন…

ছোট শিশু হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত কিনা, কী দেখে বুঝবেন? কীভাবে চিকি‍ৎসা করাবেন?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ