এই মুহূর্তে




দলিত হওয়ায় পরিবারের হাতে খুন প্রেমিক, ভালবাসার মানুষের মৃতদেহকে বিয়ে তরুণীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: সাত পাকে বাঁধা পড়ে একই সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন নান্দেড়ের আঁচল মামিদ্বার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। অগ্নিকে সাক্ষী রেখে প্রাণের মানুষকে বিয়ে করা অধরাই থেকে গিয়েছে। তবে প্রিয় মানুষের মৃতদেহের সঙ্গেই মালাবদল করে জীবনের প্রিয় ইচ্ছাপূরণ করেছেন। এবার প্রিয় মানুষকে চিরতরে হারানোর জন্য নিজের পরিবারের সদস্যদেরই কাঠগড়ায় তুলেছেন আঁচল। এক সর্বভারতীয় বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘দলিত হওয়ার কারণেই সক্ষম টেটকে (২০) পিটিয়ে খুন করেছিল তাঁর পরিবারের সদস্যরা। আর তাদের উস্কেছিলেন দুই পুলিশ কর্মী।’

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে এক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে একটি খাটিয়ায় ফুল মালায় সাজানো এক তরুণের নিথর দেহ। আর সেই মৃতদেহের সঙ্গে যাবতীয় সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করছেন এক তরুণী। মৃতদেহকে ‘বিয়ে’ করার হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে চমকে উঠেছেন সবাই। ভিডিওতে যে তরুণীকে দেখা যাচ্ছে সেই আঁচল মামিদিওয়ার এক সর্বভারতীয় বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন। শিহরে ওঠার মতো ঘটনা জানিয়েছেন।

কী ঘটেছিল আঁচলের জীবনে?

নান্দেড়ের বাসিন্দা আঁচল মামিদ্বার ভালবেসেছিলেন দলিত তরুণ সক্ষম টেটকে। একসঙ্গে সংসার পাতার স্বপ্ন দেখেছিলেন দুজনে। কিন্তু সেই পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় আঁচলের পরিবার। নিচু জাতের সক্ষমকে বিয়ে করুক মেয়ে চাননি তাঁরা। আঁচলের কথায়, ‘আমরা তিন বছর ধরে একসাথে ছিলাম। আমরা অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমার ভাইয়েরা আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তারা আমাদের বিয়ের আয়োজন করবে। কিন্তু তারা শেষ মুহূর্তে আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। প্রথমে ভাল মানুষের মুখোশ পরে সক্ষমের সঙ্গে গভীরভাবে মিশেছে। তার পরে একদিন মুখোশ খুলে গেল। একদিন আমার বাবা সক্ষমকে বলেছিলেন যে তিনি যদি আমাকে বিয়ে করতে চান, তাহলে তাকে আমাদের ধর্ম, হিন্দু ধর্মে আসতে হবে। সক্ষম আমাকে বিয়ে করার জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু আমি জানি না কী হয়েছিল?’

প্রেমিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য পুলিশকে কাঠগড়ায় তুলেছেন আঁচল। তাঁর কথায়, ‘ যেদিন সক্ষম খুন হন, সেদিন সকাল ১১টার দিকে আমার ছোট ভাই আমাকে থানায় নিয়ে যায় এবং সক্ষমের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করতে বলে। আমি তা প্রত্যাখ্যান করি। পুলিশ আমার ভাইকে বলে, ‘তুমি মানুষ হত্যা করার পর এখানে আসো। তোমার বোন যার সাথে জড়িত তাকে কেন সারা জীবনের জন্য সরিয়ে দিচ্ছো না? সঙ্গে সঙ্গে  আমার ভাই হিমেশ বলে, ‘ঠিক আছে, আমি সন্ধ্যার মধ্যে ওকে মেরে ফেলব এবং তোমার কাছে আসব।’ ওই দুই পুলিশ কর্মী হলেন ধীরাজ কোমলওয়ার ও মোহিত আসারওয়ার।

সক্ষমের হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে আঁচল বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়  সক্ষম তার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল। তখনই হিমেশ (আঁচলের ভাই) পায়ে পা বাঁধিয়ে সক্ষমের সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে। সেই বচসা হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছয়। বচসা চলাকালীন একটি টালি দিয়ে সক্ষমের মাথায় আঘাত করে হিমেশ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে লুটিয়ে পড়ে সক্ষম।’

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

‘গ্যাস চেম্বার’ দিল্লিতে মেসি, উদ্বেগে অনুরাগী থেকে চিকিৎসকমহল, ধিক্কার প্রশাসনকে

সপ্তাহের শুরুতেই চমক! এক লাফে ৩,০০০ টাকা বাড়ল রূপোর দাম, গগনচুম্বী সোনাও

ওয়াংখেড়েতে মেসিকে ভারতীয় দলের জার্সি উপহার শচিনের

নাড্ডার জায়গায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হলেন নীতিন নবীন, কে তিনি?

আমেরিকায় প্রবাসী ভারতীয়দের সংগঠন FIA-র সভাপতি পদে নির্বাচিত শ্রীকান্ত আকাপাল্লি

বিয়ে করতে চাপ প্রেমিকার, অস্বীকার করলে প্রেমিকের পুরুষাঙ্গে আঘাত, তারপর কী ঘটল?‌

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ