প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষের অভিযোগে ছয় বছরের ‘নির্বাসন’ হয়েছিল এই শিল্পীর

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়:  এক যে ছিল গায়িকা, যাঁর সম্পূর্ণ জীবনই ছিল চলমান। অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। তিনি হলেন গজু দি। জনশ্রুতি মতে, ১৯২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, বিহারের গুজন্ডি স্টেশনের কাছে চলন্ত ট্রেনে জন্ম হয়েছিল বলেই তাঁর ডাকনাম হয়েছিল গজু। তাঁর বাবা সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায় ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ। সেই সূত্রেই বিশ্বকবির গান তাঁর জীবনের ধ্রুবতারা হয়ে উঠেছিল—তা আজ আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এই গজু দি আর অন্য কেউ নন, তিনি প্রবাদপ্রতিম সঙ্গীত শিল্পী সুচিত্রা মিত্র।

বাংলা সঙ্গীত জগতের ইতিহাসে সুচিত্রা মিত্র এক অনন্য নাম। যাঁকে দেখলে অনেকেরই মনে পড়ে ‘শেষের কবিতা’-র লাবণ্য, আবার যাঁর কণ্ঠে “কালো মেয়ের কালো হরিণ চোখ” শুনে চিনে নেওয়া যেত ‘কৃষ্ণকলি’-র আবেশ। শৈশবে পঙ্কজ মল্লিকের কাছে সঙ্গীতশিক্ষা, তারপর বৃত্তি নিয়ে শান্তিনিকেতনে যাত্রা। সেখানেই সুচিত্রা মিত্রের শিল্পীসত্তার পূর্ণ বিকাশ ঘটে। যদিও কবিগুরুকে চাক্ষুষ দেখার সৌভাগ্য হয়নি তাঁর, তবু গানের মধ্য দিয়েই তিনি আজীবন ছুঁয়ে যেতে চেয়েছেন তাঁর ‘মনের মানুষ’-কে। ইন্দিরা দেবী, শান্তিদেব ঘোষ, শৈলজানন্দ মজুমদারের সান্নিধ্যে চার বছরে সঙ্গীতভবনের ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছিলেন তিনি।

তিনি শুধু এক নিবিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পীই ছিলেন না—তিনি ছিলেন সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন এক মানুষ। তাঁর জীবনীর পাতা ওল্টালে বারে বারে একটি ঘটনা শিরোনামে উঠে আসে। যে ঘটনাটির সময়কাল ১৯৬০ সাল। সেবার কলকাতা সফরে এসেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। স্বাভাবিকভাবেই দলীয় সমর্থকরা আনন্দ মিছিল করে বরণ করে নিলেন তাঁকে, অন্যদিকে বিরোধীরা বিক্ষোভ প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে কালো পতাকা হাতে রাস্তায় নামলেন। সেদিন প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আকাশবাণীর লাইভ সম্প্রচারে সুচিত্রা মিত্র গেয়েছিলেন — “কাজের বেলায় উনি কোথা যে ভাগেন, ভাগের বেলায় আসেন আগে ।” অতঃপর কারও বুঝতে বাকি থাকেনি, যে তিনি নেহেরুকেই কটাক্ষ করেই এই গান গেয়েছেন। অভিযোগ ওঠে, সুচিত্রা মিত্র নাকি ‘অ্যান্টি-নেহরু’। ফলস্বরূপ, ছয় বছরের জন্য আকাশবাণীতে তাঁর গান নিষিদ্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এই ‘নির্বাসন’ তাঁর কণ্ঠ বা মনোবল—কোনওটাকেই দমাতে পারেনি। তিনি নিজেই বলেছিলেন, “আমার বয়েই গেল।”

এছাড়াও একবার এক নামী রেকর্ডিং সংস্থায় কাজ করতে গিয়ে অত্যন্ত অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল সুচিত্রা মিত্রকে। গান রেকর্ড করার উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে উপস্থিত হলে সংস্থার এক আধিকারিক তাঁর সঙ্গে এমন ভাষায় কথা বলেন, যা ছিল সম্পূর্ণ অশালীন ও অসম্মানজনক। আত্মসম্মানবোধে আপসহীন সুচিত্রা এই আচরণ এক মুহূর্তের জন্যও মেনে নেননি। কোনও বিতর্কে না গিয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে রেকর্ডিং ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং সোজা বাড়ি ফিরে আসেন। তবে যাওয়ার আগে নিজের দৃঢ় শিল্পী সত্ত্বা স্পষ্ট করে দিয়ে তিনি সেই ব্যক্তিকে তীব্র ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন— “মনে রাখবেন, আমি বাজারের আলু-পটল নই। এখানে আর কখনও পা দেব না।”

পদ্মশ্রী, দেশিকোত্তম, সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার—এমন বহু সম্মানপ্রাপ্তি তাঁর হয়েছিল। কিন্তু তার চেয়েও বড় প্রাপ্তি ছিল মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। ২০১১ সালে সাতাশি বছর বয়সে সুচিত্রা মিত্রের সঙ্গীত জীবনের অবসান ঘটলেও তাঁর গান, তাঁর দৃঢ়তা আর তাঁর অবিচল শিল্পীসত্তা বাংলা সংস্কৃতির পথচলায় চিরকাল আলো জ্বালিয়ে রাখবে।

হাড়হিম ঘটনা বেঙ্গালুরুতে, হোটেলের রুমে দুই শিশুকে খুন করে আত্মহত্যার চেষ্টা বাবার

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, মৃত কমপক্ষে ২০

দাঁড়িয়ে খাবার খান? জানেন এই অভ্যাসই শরীরে ডেকে আনছে বিপদ

বর্ষায় ছাদবাগানে লাগাতে পারেন এই ৫ গাছ, মিলবে একাধিক উপকার

চোখের নিমিষে জলের তোড়ে ভেসে গেল আস্ত সেতু, ভয়ঙ্কর দৃশ্য বন্দি ক্যামেরায়

তৃণমূলের সমর্থনে রাজারহাট পঞ্চায়েত সমিতির নতুন সভাপতি হলেন বিজেপির রুমা মণ্ডল, জোর চর্চা 

একার হাতে বড় করেছিলেন চার সন্তানকে, মৃত্যুর পর কেউ হাজির হলেন না বাবাকে দেখতে

বড়সড় সঙ্কটে CINTAA, পুনম ও পদ্মিনীকে দায়ী করে পদত্যাগ করলেন সংগঠনের ১১ সদস্য

জোরালো ভূমিকম্পে তছনছ কলম্বিয়া, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৭.৪

ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপরে পুলিশের বলপ্রয়োগের নিন্দা রাহুল গান্ধির

‘রাজ্যে সরকারি উদ্যোগে রাখিবন্ধন উৎসব পালন হবে,’ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

সরকারি হাসপাতালে সন্ধ্যাতেও OPD! কম খরচে মিলবে চিকিৎসা

হালিশহরে মমতার গাড়িতে হামলা, ভাঙছে ঋতব্রতদের শিবির!

দিল্লিতে খুন করে নন্দীগ্রামে গা ঢাকা, অবশেষে গ্রেফতার কুখ্যাত গ্যাংস্টার’ ওয়াসিম