এই মুহূর্তে

দিদি বেঁচে নেই, ওপার বাংলা থেকে ছুটে এল ভাই, শেষ দেখার ব্যবস্থা করল বিজিবি–বিএসএফ

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ ‘‌সে আমার ছোট বোন, বড় আদরের ছোট বোন’‌ এই গানটি সকলেরই মনে আছে। এবার সেই গানই যেন ধ্বনিত হল বাংলা এবং বাংলাদেশের মধ্যবর্তী নো ম্যান্স ল্যান্ডে। যেখানে শায়িত ছিল একজন মহিলার দেহ। একদিকে মালদা জেলার কালিয়াচক থানার দুইছতরবিঘি গ্রাম, অপরদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা সীমান্ত। মাঝে নো ম্যান্স ল্যান্ড অথবা শূন্যরেখা। ভারতীয় নারীর লাশ শেষবার দেখার সুযোগ করে দিয়েছে বিজিবি এবং বিএসএফ। আর এভাবেই সীমান্তের শূন্যরেখায় শেষবার দিদির মুখ দেখল বাংলাদেশি ভাই ও স্বজনরা। চোখের জল তখন বাঁধ মানছে না ভাইয়ের। এপার বাংলা এবং ওপার বাংলা যেন এভাবেই কিছুক্ষণের জন্য এক হয়ে গেল।

আজ, শুক্রবার উপজেলা জমিনপুর সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনী মানবিক এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তবে সেটা ওই ভাইয়ের কাছে হৃদয়বিদারক। কারণ তাঁর দিদি আর ইহলোকে নেই। দেখা তো হল, তবে এটাই শেষ দেখা। যা মানতে পারছেন না বাংলাদেশের বাসিন্দা ভাই। এই ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া। বিজিবি সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের মালদা জেলার কালিয়াচক থানার দুইছতরবিঘি গ্রামের বাসিন্দা কসিমুদ্দিনের স্ত্রী ফনি বেগম (৭৫) বার্ধক্যজনিত কারণে প্রয়াত হন।

আর এই ফনি বেগমের ভাই ওপার বাংলার বাসিন্দা। দিদির মৃত্যুর খবর পেয়ে ভাই ছুটে আসেন বিজিবি’‌র কাছে। আর কাকুতি মিনতি করতে থাকেন দিদিকে শেষবার দেখার জন্য। বাংলাদেশে বসবাসকারী শিবগঞ্জের বিনোদপুর ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা আতাউর রহমান (৬০) বিজিবির কাছে এভাবে কাতর মিনতি করতে থাকায় তাঁর কথা মেনে নেন বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীরা। দিদির লাশ দেখার আবেদনে সাড়া পেয়ে কিছুটা নিজেকে সামলে নেন ভাই। আর বিজিবি ততক্ষণে বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলে খবর। এই বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘‌দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সম্মতি মিললে মৃত দিদির সঙ্গে ভাইয়ের দেখা করার ব্যবস্থা করা হয়।’‌

এরপরই শুক্রবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধীনস্থ কিরণগঞ্জ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১৭৯/৩–এস এর কাছে জমিনপুরে শূন্যরেখায় মৃতদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। যা দেখে চোখের জল গড়িয়ে পড়ে দুই প্রান্তের স্বজনের। মৃতদেহ দেখে ভাই আতাউর রহমান তখন আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। শেষবারের মতো আত্মীয়দের দেখতে পেয়ে স্বজনরা বিজিবি ও বিএসএফের প্রশংসা করেন। আর এই ঘটনা নিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘‌বিজিবি মানবিক কাজে সবসময় সহানুভূতিশীল। বিজিবি সকল প্রকার মানবিক কাজ মৌলিক কর্তব্য মনে করে বাস্তবায়িত করেন।’‌ রক্তঋণের সম্পর্ক দুই দেশের। আর সেই সম্পর্ক আবার দেখল দুই দেশ।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

চন্দ্রকোনাতে একই বুথে ২৫৭ জনকে SIR’র শুনানির নোটিশ, প্রতিবাদে বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ

মহাভারতের প্রায় ৫০০ চরিত্রের ছবি এঁকে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে সেরা তানভী

বাংলায় ৭ থেকে ৮ দফায় নির্বাচন করার সময় নেই, জানিয়ে দিল কমিশন

নির্বাচন কমিশন বোবা-কালা, পুরোটা তুঘলকি কারবার চলছে ,মন্তব্য ফিরহাদের

ঢাকার অদূরে গাজীপুরে হিন্দু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে খুন করল সন্ত্রাসীরা

শুটিংয়ে কেন বই নিয়ে যান? নিজেই রহস্য ফাঁস করলেন মোশারফ করিম

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ