আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

অভিষেকের বক্তব্যে জল্পনা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ ঘিরেও, তবে অধীরযুগ অতীত

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: বার্তা দিয়েছেন বাংলার(Bengal) শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের(TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee)। সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে কংগ্রেসকে। ২৬’র বিধানসভা নির্বাচন এবং দেশে বিজেপি বিরোধিতার লক্ষ্যে। বার্তাটা এমন একটা সময়ে দিয়েছন তিনি যখন, খোদ কংগ্রেসই(INC) জানিয়ে দিচ্ছে, বাংলার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে অধীররঞ্জন চৌধুরী(Adhir Ranjan Chowdhury) এখন অতীত। নতুন কেউ শীঘ্রই সেই পদে আসতে চলেছেন। কে আসছেন? এই জল্পনার মধ্যেই এসেছে অভিষেকের স্পষ্ট বার্তা। রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা। সেই আলোচনা জোট গঠনের। এই দেখে এখন অনেকেরই ধারনা, আগামী দিনে বাংলায় এবং দেশে তৃণমূলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থেই এবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে দলের হাইকম্যান্ড এমন কাউকে আনতে চাইছেন যিনি এই সুসম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন এবং কংগ্রেসকেও জয়ের মুখ দেখাতে পারবেন। একইসঙ্গে রাজ্যে বামেদের সঙ্গেও সম্ভবত দূরত্ব বাড়াবে কংগ্রেস।

আরও পড়ুন ‘বাংলায় বিজেপির অনেকেই তৃণমূলের দিকে পা বাড়িয়ে রয়েছেন’, অভিষেকের দাবি ঘিরে জল্পনা পদ্মে

অধীর চৌধুরী এখন ‘প্রাক্তন’ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তিনি পদত্যাগ করেছেন। নতুন সভাপতি বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। দিল্লিতে বাংলার কংগ্রেসি নেতাদের এমনটাই জানিয়ে দিয়েছেন এআইসিসি-র পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত নেতা গুলাম আহমেদ মীর। আবার অধীরের বক্তব্য, দিল্লি এসে জানতে পেরেছেন যে তিনি প্রাক্তন। দিল্লিতে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের বোঝাপড়ার প্রশ্নে প্রাচীর হয়ে ছিলেন অধীর। তাঁকে সরানো হলে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন ভাবে দেখা যেতে পারে বলে ‘চিন্তাভাবনা’ করছে কংগ্রেস। আর তারপরে পরেই এসেছে অভিষেকের বার্তা। কী বলেছেন অভিষেক? জানিয়েছেন, ‘ত্রিপুরা হোক বা গোয়া, আমরা এমন জায়গায় দলের সম্প্রসারণ করতে গিয়েছি যেখানে বিজেপি শক্তিশালী, কংগ্রেস নয়। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক দিন আগেই সূত্র দিয়েছিলেন, যে বিরোধী দল যে রাজ্যে শক্তিশালী, তার পিছনে দাঁড়াক অন্যান্য বিরোধী দলেরা। সেই হিসাবে আমরা কোনও রাজ্যে গিয়ে কংগ্রেসকে দুর্বল করার কথা ভাবিনি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে আমাদের জোট প্রস্তাব কংগ্রেসের মানা উচিত ছিল। অন্য সব জোট শরিকেরা কোনও না কোনও রাজ্যে কংগ্রেসের শরিক। একমাত্র আমরা কংগ্রেস, বিজেপি এবং বাম, এই তিন শক্তির সঙ্গেই লড়াই করেছি। কংগ্রেসকে বারবার জোটের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে আসন (দু’টি) দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছি। কংগ্রেস তা গ্রাহ্য করেনি। তবে কেন্দ্রে আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে বিজেপিকে হারানোর জন্য লড়াই আরও জোরদার করব।’

আরও পড়ুন ১৫ বছরের বেশি সময়ের বাস উঠে গেল রাস্তা থেকে, যাত্রী ভোগান্তির আশঙ্কা

অভিষেক এখানেই থেমে যাননি। জানিয়েছেন, ‘আমরা তো আসন ভাগাভাগির কথা বলেছিলাম। আমি নিজে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু কংগ্রেসই গড়িমসি করেছে। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, তেলেঙ্গানার বিধানসভা নির্বাচনের ফলের জন্য ওরা অপেক্ষা করেছে। আমাদের দায়বদ্ধতা মানুষের প্রতি। তৃণমূল রাবার স্ট‌্যাম্প নয়। আমাদের নীতি যেখানে বলার সেখানে বলতে হবে। কাল যেমন আমি নির্মলার সামনে বলেছি। তেমনই আমরা নীতি আয়োগের বৈঠকে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বয়কট করেছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব কিছুই বদলাতে হয়। কংগ্রেসকেও বদলাতে হবে।’ অভিষেক কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রদেশ সভাপতির পদ থেকে অধীর চৌধুরীর বিদায়ের পরে কংগ্রেস যদি তৃণমূলের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে চায়, তাতেও আপত্তি নেই তাঁর। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে অভিষেকের এই বক্তব্যকে মান্যতা দিয়েই কী প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড কী এমন কাউকে নিয়োগ করবে যে তৃণমূলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন!

আরও পড়ুন পুজোর অনুদান নিয়ে মামলা কলকাতা হাইকোর্টে, উঠল তদন্তের দাবিও

বাংলার প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের দাবি, সেই সম্ভাবনাই ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু সেই নেতার সন্ধান মিলছে না যিনি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হয়ে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে এগোতে চাইছেন। যার নামই উঠে আসুক না কেন, দেখা যাচ্ছে তিনি তৃণমূল বিরোধিতায় অনড়। যা এখন হাইকম্যান্ডের না পসন্দ। কেননা বাংলার প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল বামেদের সঙ্গে জোট গড়ার। সেই জোট গড়ার পরেও তা রাজ্যবাসীর কাছে মান্যতা পায়নি। জোট বিজেপিকে ঠেলে দ্বিতীয় স্থানেও উঠে আসতে পারেনি। লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় কংগ্রেসের আসনসংখ্যা ২ থেকে কমে ১ হয়েছে। অধীর নিজেই হেরে গিয়েছেন বহরমপুরে। তারপরেও তিনি তৃণমূলের বিরোদিতায় অনড় যা এখন হাইকম্যান্ড চোখে দেখছে না। আর তাই অধীরও ফিরছেন না প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে। বামেদের সঙ্গে জোট গড়ে কংগ্রেসেরও সেই অর্থে লাভ হয়নি। এই জোট ২৬’র বিধানসভা নির্বাচনে বজায় থাকলে রাজ্য বিধানসভায় কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন সম্ভব হবে কিনা সেটাও লাখ টাকার প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। কিন্তু যদি তৃণমূলের সঙ্গে জোট হয় তাহলে অন্তত কিছু আসনে কংগ্রেস জিততে পারে এবং সেক্ষেত্রে রাজ্য বিধানসভায় কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তনও ঘটবে। আর তাই গুরুত্ব বাড়ছে অভিষেক বার্তার। সম্ভাবনা বাড়ছে বংলার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে কোনও তৃণমূলবান্ধব নেতাকে পাওয়ার।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

‘মানুষের ভোট যেন সুরক্ষিত থাকে,’ স্ট্রং রুম থেকে বেরিয়ে বললেন মমতা, ক্ষোভ পুলিশের ভূমিকায়

কালবৈশাখীর মধ্যেই ভবানীপুর কেন্দ্রের স্ট্রং রুমের পাহারায় মমতা

এক্সিট পোল নয়, প্র‍্যাক্টিক্যাল পোলে বিশ্বাস করেন শুভেন্দু অধিকারী

তৃণমূলের EVM-বিকৃতির অভিযোগ খারিজ কমিশনের, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে মোতায়েন বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী

মদের পেটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা, বাধা পেয়ে বেধড়ক মারধর, চাঞ্চল্য চুঁচুড়ায়

কার দখলে থাকবে বাংলা? সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যেই পূর্বাভাস দেবে ইভিএম

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ