আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

জামবনি ব্লকের চিলকিগড়ে মা কনকদুর্গার মন্দির দণ্ডায়মান এক ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম:নির্জন অরণ্যের মধ্যে দণ্ডায়মান এক ইতিহাস৷ এটি ইতিহাসের এমন এক অধ্যায়, যা শহুরে সভ্যতার কাছে এখনও অনেকটাই অজানা৷ নীলবসনা চতুর্ভুজা দেবী দূর্গার ঐতিহ্য নিয়ে আজও পর্যটকদের কাছে ব্যতিক্রমী ঠিকানা ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনি ব্লকের চিলকিগড়ে মা কনকদুর্গার মন্দির(Maa Kanak Durga Temple)। এবার পুজোয় রাত্রি যাপনের লক্ষ্য নিয়ে ঘুরে আসুন জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ও ইতিহাস ঘেরা জামবনি ব্লকের চিল্কিগড় কনকদুর্গা মন্দির। ঝাড়গ্রাম জেলার যে কটি ঐতিহাসিক ঐতিহ্যবাহী দুর্গা মন্দির রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম বৈশিষ্ট্যবান মন্দির হলো ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনি ব্লকের চিল্কিগড় কনক দূর্গা মন্দির। অন্যান্য দুর্গা মায়ের মূর্তিতে মাকে দশোভূজা হিসেবে দেখতে পাওয়া যায় কিন্তু এখানে মায়ের রূপ অর্শের উপর বিরাজমান চতুর্ভূজা। আজ থেকে প্রায় সাড়ে চারশো বছর আগে মায়ের স্বপ্নাদেশে পেয়ে চিলকিগড় এর রাজা গোপীনাথ সিংহ রানীর কাঁকন বালা দিয়ে তৈরি করেছিলেন দেবী কনকদুর্গার মূর্তি, আর এই মন্দিরই স্থাপন করা হয়েছিল চিল্কিগড়ে ডুলুং নদীর চড়ায় ঘেরা অরণ্যের মাঝে, প্রথমে এখানে ব্রাহ্মণ রাজা স্বরূপ ত্রিপাঠী পুজো করে আসছিলেন পরবর্তী ক্ষেত্রে সামন্ত রাজা এই পুজো চালিয়ে আসছেন। অন্যান্য পূজোর নিয়মাবলী ক্ষেত্রে এখানে পুরোপুরি ভিন্ন, কারণ মা কে অন্য ভোগের সাথে সকালে ডিম, দুপুরে মাছ আবার রাত্রে অন্যান্য খাবার দেওয়া হয়। প্রতিবারে খাবারের শেষে মায়ের জন্য একটি পান দিয়ে আসতেন এখানকার পুরোহিতরা। রাজ আমলের প্রথা মতো এখানে এখনো নিশা বলি দেওয়া হয়। যা এক সময় এই বলি কে নরবলি বলা হত, যুগের পরিবর্তনে নিশা বলি হয় একটি জ্যান্ত পাঁঠাকে মুখ বন্ধ করে যেখানে নরবলি দেওয়া হতো, সেখানে নিয়ে গিয়ে তাকে বলি দেওয়া হয়, তারপর তার মাংস এনে মসলার সাথে মিশিয়ে তিনটি কাঠ জ্বেলে একটি রান্না ঘরে বন্ধ করে রেখে দেওয়া হতো, পরের দিন সেই রান্না ঘর থেকে রান্না বের করতেন পুরোহিতরা যার নাম ছিল বিরাম ভোগ।

যুগ যুগ ধরে এখানে পুরোহিতরা বলে আসছেন এই রান্না না কি মা নিজেই করেন সেই প্রথা মতো আজও এই রান্না চলে আসছে। প্রতিবছর এই দুর্গাপুজো দেখতে দূর দুরান্ত থেকে মানুষের সমাগম দেখা যায় কিন্তু এবারে আরো বেশি মানুষের সমাগম দেখা যাবে কারণ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দেওয়া অনুদানে চিল্কিগড় কনক দুর্গা মন্দির নতুন রূপ পেয়েছে। চিলকিগড়ে গিয়ে পৌঁছলেই মনে হবে প্রকৃতি তার সব রূপ যেন ঢেলে দিয়েছে। নদী, ছায়াঘন জঙ্গল, গাছে গাছে রঙবেরঙের প্রজাপতি, কি নেই সেখানে। জঙ্গলের মধ্যে কনকদুর্গা মন্দির, ডুলুং নদী এবং জঙ্গলের টানে পর্যটকের ভিড় এখানে লেগেই থাকে বছরভর। কিন্তু, রাতে থাকার ঠিকঠাক ব্যবস্থা না থাকায় মুখ ফেরাচ্ছিলেন পর্যটকরা। এবার সেই কালিমা ঘুচিয়ে নবরূপে তৈরি চিলকিগড়। জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় অতিথিশালা রয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে মন্দির চত্বরে সৌন্দর্যায়নের কাজ হয়েছে। তাই এবার পর্যটকদের থাকার জন্য কোন অসুবিধায় পড়তে হবে না। রাজবাড়ীর নিয়ম মেনেই প্রতি বছরের মতো এবছর ও কনকদূর্গা মন্দিরে দূর্গা পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। নবমীর দিন পাঁঠা বলি দেওয়া হয়। হাজার হাজার মানুষ মায়ের কাছে এসে নবমীর দিন পাঁঠা বলি দেন। যা দেখতে লক্ষাদিক মানুষের সমাগম হয় চিলকিগড়(Chilkigar) কনক দূর্গা মন্দির প্রাঙ্গনে। পুজোর ছুটিতে আপনারা ঘুরে আসতেই পারেন।

কিভাবে পৌঁছাবেন চিলকিগড় মন্দির প্রাঙ্গনে।
ট্রেন পথে
হাওড়া / টাটানগর থেকে ঝাড়গ্রাম স্টেশনে পৌঁছাতে এক্সপ্রেস / লোকাল ট্রেন আছে।কলকাতা থেকে ঝাড়গ্রামে পৌঁছাতে একটি ট্রেনের সর্বনিম্ন সময় লাগে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট।

সড়ক পথে-
কলকাতা থেকে জাতীয় সড়ক ৬ (মুম্বাই-কলকাতা মহাসড়ক) দ্বারা ঝাড়গ্রামে পৌঁছাতে ৪ ঘন্টা সময় লাগে। ঝাড়গ্রাম শহর(Jhargram City) থেকে সড়কপথে ১৪ কিলোমিটার পথ এগোলেই চিল্কিগড় কনক দূর্গা মন্দির। ঝাড়গ্রাম থেকে জামবনির চিলকিগড় কনক দূর্গা মন্দিরে যাওয়ার জন্য ছোট চার চাকার গাড়ির পাশাপাশি বাস এর ব্যবস্থা রয়েছে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে কালীঘাট থানার ওসি এবং অতিরিক্ত ওসিকে সরিয়ে দিল কমিশন

ভবানীপুরে শুভেন্দুর সভার মাইকের আওয়াজে নির্বাচনী জনসভা না করে ফিরে গেলেন ক্ষুব্ধ মমতা

বেলুড় বয়েজ হাই স্কুলের ডিসি সেন্টারে তুমুল উত্তেজনা, বিজেপি – তৃণমূল সংঘর্ষ

‘আইপ্যাকের লোকদের দেখলেই বেঁধে রাখুন’, কংগ্রেস কর্মীদের নিদান অধীরের

টার্গেট অভিষেক! দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেই তিন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ কমিশনের

রাজ্যে সর্বকালীন রেকর্ড গড়ে প্রথম দফায় ভোট পড়েছে ৯৩.১৯ শতাংশ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ