শান্তিপুর-শিয়ালদহ লোকালে বিশ্বকর্মা পুজোর অভিনব আয়োজন নিত্যযাত্রীদের

আজ বিশ্বকর্মা পুজো, যাকে মহাবিশ্বের কারিগর বলা হয়। নিত্যযাত্রীদের উদ্যোগে প্রতি বছরেই এই দিনে এই লোকালে বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করা হয়।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: রেল স্টেশনে পুজো মণ্ডপ বা প্রতিমা দর্শন নতুন কিছু নয়, কিন্তু চলন্ত ট্রেনের কামরায় রীতিমতো ঢাক বাজিয়ে, মন্ত্রোচ্চারণ ও নৈবেদ্য সাজিয়ে বিশ্বকর্মা পুজো! এমন অভিনব দৃশ্য দেখার সুযোগ মেলে শুধুমাত্র ডাউন শান্তিপুর-শিয়ালদহ লোকালে। আজ বিশ্বকর্মা পুজো, যাকে মহাবিশ্বের কারিগর বলা হয়। নিত্যযাত্রীদের উদ্যোগে প্রতি বছরেই এই দিনে এই লোকালে বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করা হয়। হ্যাঁ, এবারেও তার ব্যাতিক্রম হল না। এই ভ্রাম্যমাণ পুজো এবার কুড়িতম বর্ষে পদার্পণ করল। সময়ের সামান্য হেরফের হলেও, কোনও বছরেই পুজোর রীতিনীতি বা ধারাবাহিকতায় এতটুকু ছেদ পড়েনি, এমনকি করোনা মহামারির কঠিন সময়েও নয়। জানা যায়, প্রতি বছর সকাল ৭:২৪-এর ডাউন শান্তিপুর-শিয়ালদহ লোকালের প্রথম কম্পার্টমেন্টের দ্বিতীয় গেটের যাত্রীরা এই পুজোর আয়োজন করেন। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ১৭ বছর আগে মাত্র ৩০ জনকে নিয়ে এই পুজো শুরু হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এই পুজোর সদস্য সংখ্যা ১৭৫ জন ছাড়িয়েছে।

চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী বা হকার—পেশা যাই হোক না কেন, দিনের একটি বড় অংশ ট্রেনেই কাটে নিত্যযাত্রীদের। বিশ্বকর্মার তৈরি এই যন্ত্রাংশের ওপর ভর করেই দীর্ঘ সফর করতে হয় তাঁদের। তাই নিত্যযাত্রীরা নিজেদের যাতায়াতের বাহনকে সুরক্ষিত রাখতে এবং দেবশিল্পীর কৃপা পেতেই এই আরাধনার সূচনা করেছিলেন। ট্রেনের এই সফর নিত্যযাত্রীদের মধ্যে গড়ে তুলেছে রক্তের সম্পর্কের থেকেও গভীর এক পারিবারিক বন্ধন। ​পুজোর দিন সকালে প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ঢুকতেই শুরু হয়ে যায় সাজসাজ রব। কামরার সামনে মাঙ্গলিক কলাগাছ ও ফুলের মালা পরানো হয়। স্টেশন মাস্টার থেকে শুরু করে আরপিএফ—সকলের হাতে মিষ্টি তুলে দিয়ে শুরু হয় যাত্রা। সাধারণ যাত্রীদের অনেকেই এই অভিনব পুজো দেখার আকর্ষণে এই কামরাতে ভিড় জমান। শুক্রবারও (১৮ সেপ্টেম্বর) একই দৃশ্য চোখে পড়ল। ট্রেন ছাড়ার সবুজ সংকেত মিলতেই কামরার ভেতর শুরু হয় ফল কাটা ও নৈবেদ্য সাজানোর তোড়জোড়। সুরক্ষার খাতিরে আগুনের ব্যবহার নামমাত্র রেখে, কেবল নিয়ম রক্ষার্থে প্রদীপ ও ধুনুচি জ্বালানো হয়। ​ঘড়ির কাঁটায় তখন ৭:৫৭, ট্রেন রানাঘাট স্টেশনে পৌঁছতেই পুজোয় বসেন ঠাকুরমশাই। শ্যামনগর স্টেশনে পৌঁছনোর পর ৮:৪৫ মিনিটে পুজো সম্পন্ন হয়। এরপর পুরোহিত এবং ঢাকি দক্ষিণা নিয়ে আপ শান্তিপুর লোকাল ধরে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।

ট্রেন বারাকপুর পৌঁছানো পর্যন্ত চলতে থাকে প্রসাদ বিতরণ। ৯:৪০ মিনিটে ট্রেন শিয়ালদহ পৌঁছলে যাত্রীরা দেবশিল্পীর আশীর্বাদ নিয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলের দিকে পা বাড়ান। যাত্রীরা নেমে গেলেও, বিশ্বকর্মা থেকে যান ওই কামরাতেই। সারাদিন বিভিন্ন শাখায় ট্রেনের যাত্রাপথের সাক্ষী থাকেন তিনি। মধ্যরাতে ট্রেন কারশেডে ফিরলে, স্টেশন মাস্টারের সহযোগিতায় কর্মীরা প্রতিমা নামিয়ে রাখেন। পরের দিন সকালে সম্পন্ন হয় বিসর্জন পর্ব। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল, বিসর্জনের পারিশ্রমিকটুকু প্রতিমারই কোনও একটি গোপন অংশে আগে থেকেই লুকিয়ে রাখেন উদ্যোক্তারা, যার সন্ধান কেবল বিসর্জনকারী কর্মীরাই জানেন। এভাবেই পারস্পরিক সৌহার্দ্য, বিশ্বাস ও ভক্তির মেলবন্ধনে প্রতি বছর সম্পন্ন হয় এই ভ্রাম্যমাণ বিশ্বকর্মা পুজো।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সভাপতি সহ তিন পদে জয়ী এবিভিপি প্রার্থীরা

দার্জিলিংয়ের বার্বিকিউ কাণ্ডে গ্রেফতার হোমস্টের মালিক-সহ চার

ন্যায্য মূল্য ওষুধের দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ, বন্ধ করা হল দোকান

পুজোর মরশুমে দিঘার জন্য স্পেশাল ট্রেন চালাবে দক্ষিণ-পূর্ব রেল

MIO AMORE-র আউটলেটে বাসি খাবার, চিকেন প্যাটিসে ভর্তি ছত্রাক, চাঞ্চল্য

রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে গ্রেফতার হুমায়ুন কবীরের দলের রাজ্য সম্পাদক, মিলল জালনোট ও আগ্নেয়াস্ত্র

PTS-এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা, শৌচালয় থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পুলিশকর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার

গুগল ম্যাপের ভুলে ২০ ফুট গভীর খাদে বাইকচালক, রাতভর তল্লাশির পর সকালে মিলল খোঁজ

পরিচয় ভাঁড়িয়ে কেরলে নৌসেনা আকাদেমিতে চাকরি, পুলিশের জালে বাংলাদেশি

‘দিদির কথাতেই প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করছি না,’ ডিগবাজি খেয়ে জানালেন রেজিনগরের রবিউল

নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও প্রার্থী হারালেন মমতা, মনোনয়ন প্রত্যাহার রবিউলের

পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে ডিম-টমেটো ছোড়ার চেষ্টা, পুলিশের জালে মোদির প্রাক্তন সতীর্থ

বদলের বাংলার গতি বাড়াতে চারটি রুটে ‘নমো ভারত’ ট্রেনের প্রস্তাব শমীকের

ইজরায়েলের হাতে তেহরানের পরমাণু অস্ত্রের ঠিকানা হস্তান্তর, মোসাদ গুপ্তচরকে ফাঁসিতে ঝোলাল ইরান