চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

বাংলার সঙ্গে আলোচনা না করেই জল ছাড়ছে ডিভিসি, জানালেন আলাপন

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: নাগাড়ে তিনদিন ধরে বৃষ্টি চলছে দক্ষিণবঙ্গে(South Bengal)। কলকাতা–সহ জেলাজুড়ে লাগাতার বৃষ্টি চলছে। তার জেরে একাধিক জেলায় পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি(Flood Situation) তৈরি হয়েছে একাধিক জেলায়। এই আবহে শনিবার দুপুরে জেলাশাসকদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেন রাজ্যের মুখ্যসচিব(Chief Secretary of West Bengal) ভগবতী প্রসাদ গোপালিকা(B P Gopalika)। সেই বৈঠকের আগেই জেলাশাসকদের ছুটি বাতিল করার নির্দেশ হয়ে গিয়েছিল নবান্ন থেকে। আর বৈঠক শেষ হতেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা(Chief Advisor to the Chief Minister) আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়(Alapan Banerjee) সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দিলেন, রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে ডিভিসি(DVC) ৭০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ছে এবং আরও ১ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর জেরে হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া মহকুমা এবং হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন অবৈধ পার্কিংয়ের জের, যশোর রোডে ৭কিমি লম্বা যানজট

আলাপন জানিয়েছেন, ডিভিসি গতকাল বিকালে ২০ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে। এদিন ৫০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ছে এবং আরও ১ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এই জল ছাড়ার বিষয়টি রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করেই নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের তরফে ডিভিসিকে বলা হয়েছে, এক সঙ্গে অনেকটা জল না ছেড়ে তা ধীরে ধীরে ছাড়তে। দুপুর সাড়ে তিনটের সময় ডিভিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাইথন থেকে ১০ হাজার কিউসেক এবং পাঞ্চেত থেকে ৬৫ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে এদিন। ফলে ৭৫ হাজার কিউসেক জল দামোদর নদী দিয়ে দুর্গাপুর এসে পৌঁছাবে এদিন রাতের মধ্যেই। তাই ডিভিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আরও ১ লক্ষ কিউসেক পর্যন্ত জল ছাড়া হবে। রাজ্য প্রশাসন যেন তার প্রস্তুতি নেয়। একই সঙ্গে এদিন আলাপন জানিয়েছেন, পশ্চিম বর্ধমান জেলায় অতিবর্ষণে বিপর্যস্ত অবস্থার কথা বিবেচনা করে এনডিআরএফ টিমকে রাখা হচ্ছে জেলা সদর আসানসোলে।

আরও পড়ুন মমতার নির্দেশ মতো ওয়েনাডে সাকেত-সুস্মিতা, ঘুরে দেখলেন এলাকা

অন্যদিকে, রাজ্যের সেচ দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে এদিন ৫৯ হাজার ১৫০ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। রাতে জল ছাড়ার পরিমাণ লক্ষাধিক কিউসেক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই জল নীচে নামার আগেই অবশ্য বিপর্যয় চিত্র ধরা পড়েছে হাওড়া জেলার বন্যা কবলিত এলাকা হিসাবে চিহ্নিত উদয়নারায়ণপুর ব্লকে। সেখানে জলের তোড়ে হাওড়ার খোসালপুর এলাকায় মান্দারিয়া খালের ওপর থাকা ঢালাই ব্রিজ ভেঙে গিয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছেন বিধায়ক সমীর পাঁজা ও সেচ দফতরের আধিকারিকরা। আবার টানা বৃষ্টির জেরে পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া-কড়ুই রোড সংলগ্ন ফড়ে নদীর সেতু জলে সম্পূর্ণ ডুবে গিয়েছে। যার জেরে যান চলাচল পুরোপুরিভাবে বন্ধ। আলমপুর, গাঁফুলিয়া গ্রামের একাংশও ডুবে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অনেকেই ক্যানেল পাড়ে তাঁবু খাটিয়ে রয়েছেন।

আরও পড়ুন DVC জল ছাড়া শুরু করতেই কুণালের ট্যুইট তোপ, বন্যা ঠেকাতে বৈঠক মুখ্যসচিবের

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ক্রমাগত বৃষ্টিপাতের জেরে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বীরভূমের লাভপুর ব্লকের সর্বত্র। নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে কান্দর কুলো, খাঁপুর, হরিপুর, চতুর্ভুজপুর, জয়চন্দ্রপুর-সহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রামে। ওই এলাকার মানুষজন কার্যত জলবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে নদীর জল। বৃষ্টিপাত আরও বৃদ্ধি পেলে বা হিংলো জলাধার থেকে জল ছাড়া হলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে লাভপুর ব্লকে। শনিবার সকালে থিবা পঞ্চায়েতের খাঁপুর সুইসগেটের কাছে নদী বাঁধে ফাটল ধরেছে বলে সূত্রের খবর। এই খবর পাওয়ার পরই স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেই একাধিক জায়গায় নদী বাঁধে ধস দেখা দিচ্ছে। যার ফলে চরম আতঙ্কিত এই সমস্ত এলাকার বাসিন্দারা। এদিন নবান্নে মুখ্যসচিব যে বৈঠক করেন সেখানে দক্ষিণ ও উত্তরের জেলাগুলির জেলাশাসকদের বন্যা নিয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়।  

আরও পড়ুন পুজোর আগেই মুখ্যমন্ত্রীর হাতে উদ্বোধন হতে চলেছে অজয়ের ওপর নির্মীয়মান নয়া সেতুর

টানা বৃষ্টির জেরে দক্ষিণবঙ্গে গন্ধেশ্বরী, দ্বারকেশ্বর, শিলাবতী, কংসাবতী সহ একাধিক নদীর জলস্তর ফুঁসতে শুরু করেছে। যার জেরে দুই মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম, নদিয়া, হুগলি এবং বর্ধমানের একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। আজও দক্ষিণবঙ্গের চারটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়। ভারী বৃষ্টি হতে পারে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়াতেও। জেলাগুলিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জলমগ্ন এলাকায় নামানো হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। ঘাটাল মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যত বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঝাড়গ্রামের সুবর্ণরেখার নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়েছে। তার জেরে সাঁকরাইল ও নয়াগ্রাম যাতায়াতের ফেয়ার ওয়েদার সেতু ভেসে গিয়েছে।  

Published by:

Share Link:

More Releted News:

প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনে ৩০৯ জন প্রার্থী কোটিপতি, সেরা ধনী কে?‌

কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী, নিজের হাতে থালা সাজিয়ে দিলেন পুজো

প্রথম দফায় শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম-সহ ৬৬ আসনে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি

‘পদ্ম পাঁকে ফোটে, বাংলার মাটিতে ফুটবে না’, পুরুলিয়া থেকে বিজেপিকে হুঙ্কার সায়নীর

‘দাগ আচ্ছে হ্যায়’, দাগিদের প্রার্থী করায় তৃণমূলকে টেক্কা বিজেপির

বাংলায় প্রথম দফার ১৯ প্রার্থীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা, কতজন ধর্ষণের আসামি?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ