এই মুহূর্তে

বন্দিদশায় হতাশা কাটাতে ‘হাতের কাজে’ জোর, জেলে মন চাঙ্গা করতে বিশেষ মত মনোবিদদের

নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: ছোট হোক বা বড় অপরাধের শাস্তি দিতে জেলে পাঠানো হয়। যতই কেউ অপরাধী হোক চার দেওয়ার মধ্যে বন্দি থাকলে মনের উপর প্রভাব পড়েই। বন্দিদশায় হতাশা যাতে কোনও ভাবেই বন্দিদের গ্রাস না করে সেই কারণে আলিপুরের মহিলা সংশোধনাগারের আবাসিকদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। হাতের কাজ করলে মনও ভালো থাকে তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আলিপুরের মহিলা সংশোধনাগারের সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন বন্দিদের নিয়ে বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কলকাতা আইনি সহয়তা কেন্দ্রের (লিগ্যাল এইড) উদ্যোগে দীর্ঘ সময় ধরে চলে কর্মশালা। হাজির ছিলেন বিশিষ্ট মনোবিদরা। মনের উপর চাপ কমাতে তাঁদেরকে হাতের কাজে আরও বেশি মাত্রায় নিজেদের নিয়োজিত রাখার বার্তা দেওয়া হয়। এতে শুধু মনভালো হবে এমনটা নয় সেই সঙ্গেই আর্থিকভাবেও লাভবান হবে বলেও জানানো হয়। মনোবিদরা সকলকে বোঝান কাজের মধ্যে ডুবে থাকলে কীভাবে মন চাঙা ও ভালো রাখা যাবে। হাতের কাজ যেমন ছবি, লেখা, সেলাই এই সব করলে সময়ও কাটবে, আয়ও হবে এবং মনও চাঙ্গা থাকবে বন্দিদের এটাই ওই আলোচনাসভায় বোঝান মনোবিদরা। আলোচনাসভায় সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন বন্দিরা সমস্যা নিরসনে নানা প্রশ্ন তোলা হলে মনোবিদরা তার উত্তর দেন। আগামী দিনে এই ধরনের কর্মশালা আরও বেশি মাত্রায় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেই জানিয়েছেন, কলকাতা লিগ্যাল এইডের সচিব তথা বিচারক অর্পিতা ঘোষ।

আরও পড়ুন: বিধানসভা ভোটের আগে হিন্দিভাষী এলাকায় বাড়তি নজর, বিশেষ কৌশলে তৎপর তৃণমূল

এই ধরনের কর্মশালার উদ্দেশ্য হল বন্দিদের সুস্থ ও সুন্দর রাখা। মাঝে মধ্যে এই ধরনের কর্মশালা করলে সেখানে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে উঠে আসবে বন্দিদের মধ্যে জমে থাকা সুখ দুঃখের কথা। সেগুলি জানা গেলেই সমাধানের রাস্তাও বের হবে। কারা দপ্তর সূত্রে খবর, আগামী দিনে যাতে রাজ্যের প্রতিটি সংশোধনাগারে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে সাধ্যমতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে । দপ্তরের এক অফিসারের কথায়, ‘এ রাজ্যের প্রতিটি কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহকুমা সংশোধনাগারে বন্দিদের মধ্যে মাঝে মধ্যেই নিত্য নতুন হাতের কাজের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। ইতিমধ্যে তাঁদের হাতের নানা কাজের নমুনা বিভিন্ন মহল থেকে সন্মানিতও হয়েছে। শুধু তাই নয়, সেই কাজ এ রাজ্য ছাড়িয়ে ভিন প্রদেশেও গিয়েছে। ফলে এনিয়ে আর্থিকভাবে বন্দিরা লাভবান হয়েছে।” জানা গিয়েছে, বন্দিদের হাতের কাজের নমুনার মধ্যে রয়েছে বিছানার চাঁদর, মশারি, পাপস, আসন, কাপড়, ফতুয়া, সর্ষের তেল, বুক বাঁধাই, বাঁশের ফুলদানি, ধূপধানি, জ্যাম জেলি, মধু, সাবান, ফিনাইল প্রভৃতি। এছাড়া অঙ্কন শিল্প, সঙ্গীত চর্চা, যাত্রা, নাটক প্রভৃতি।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

কিছুক্ষণের মধ্যে ধেয়ে আসছে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, কলকাতা-সহ চার জেলায় জারি লাল সতর্কতা

সাহিত্যসম্রাটের পরিবারের সদস্যকে প্রার্থী করল বিজেপি, ‘‌বঙ্কিম দা’‌ ড্যামেজ কন্ট্রোলে কৌশল

আবার মমতা বনাম শুভেন্দু, পরাজয়ের ভয়ে দুই আসনে প্রার্থী করল বিজেপি

‘‌ওঁরা বাঙালিবিদ্বেষী, নারীবিদ্বেষীও’‌, মুখ্যসচিব রদবদলে কেন্দ্রকে তোপ মমতার

১৪৪ টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বিজেপি, ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে প্রার্থী শুভেন্দু

ফারাক্কায় বোম স্কোয়াডের তল্লাশি ,জিয়াগঞ্জ-আজিমঞ্জ এলাকায় টহলদারি শুরু কেন্দ্রীয় বাহিনীর

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ