আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

অনথিভুক্ত বর্গাদাররাও সরকারকে ধান বিক্রি করতে পারবে, পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর

Courtesy - Facebook and Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) সরকার। এবার থেকে কৃষকবন্ধু(Krishak Bandhu) প্রকল্পের অনথিভুক্ত বর্গাদাররাও(Unregistered Farmers) রাজ্য সরকারের(West Bengal State Government) কাছে সরাসরি ধান বিক্রি(Paddy Procurement) করতে পারবে। আগামী মাস থেকে নতুন খরিফ মরশুমে এই ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। ধানক্রয় প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি স্বচ্ছতা আনতেই এই ব্যবস্থা। কেবলমাত্র প্রকৃত চাষিরাই যাতে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করেন, চাষির নামে কোনও ফড়ে যাতে ফায়দা লুটতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য। আগামী খরিফ মরশুমে(অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) ৭০ লক্ষ টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে কেনার লক্ষ্যমাত্রা নিচ্ছে রাজ্য সরকার। চলতি মরশুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ লক্ষ টন। এমাসেই শেষ হচ্ছে এবারের খরিফ মরশুম। চলতি মরশুমে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫৪ লক্ষ টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে সরকার কিনেছে। এটা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯০ শতাংশ। সরকারিভাবে নতুন খরিফ মরশুম শুরু হয় অক্টোবর থেকে। যদিও নভেম্বর থেকে ধান ক্রয় আরম্ভ হয়। ধান কেনায় গতি আসে ডিসেম্বর থেকে।

রাজ্যে এখন সেই সব কৃষকেরাই রাজ্য সরকারকে সরাসরি ধান বিক্রি করতে পারেন যারে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতায় আছেন। রাজ্য সরকারও জানিয়ে দিয়েছে, জমির মালিক ও নথিভুক্ত বর্গাদাররা সরকারের কাছে ধান বেচতে চাইলে তাঁদের অবশ্যই কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতায় থাকতে হবে। এই অবস্থায় দেখা যাচ্ছিল অনথিভুক্ত বর্গাদাররা রাজ্য সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। আবার যে সব কৃষকেরা কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতায় নেই তাঁরাও রাজ্য সরকারকে সরাসরি ধান বিক্রি করতে পারছেন না। এই সমস্যার সমাধানের জন্য এবার পদক্ষেপ করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতায় নেই এইরকম কৃষকেরা বা অনথিভুক্ত বর্গাদাররা যদি রাজ্য সরকারকে সরাসরি ধান বিক্রি করতে চান তাহলে কিছু বিশেষ পদক্ষেপ করতে হবে। এই বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে ফড়েরাজ রুখতে। যাতে ফড়েরা অনথিভুক্ত বর্গাদাদ বা কৃষক সেজে তারা রাজ্য সরকারকে ধান বিক্রি করে যেতে না পারে। কেননা সেক্ষেত্রে প্রকৃত কৃষক ও অনথিভুক্ত বর্গাদাররা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

জানা গিয়েছে, কৃষকবন্ধু প্রকল্পে নথিভুক্ত নন এমন কৃষক বা বর্গাদাররা রাজ্য সরকারের কাছে সরাসরি ধান বিক্রি করতে চাইলে তাঁদের সম্পর্কে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট বিডিও অনলাইনে রিপোর্ট জমা দেবেন। তারপরই অনথিভুক্ত ওই সব কৃষকেরা ও বর্গাদাররা  সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারবেন। এর পাশাপাশি নথিভুক্তির সময় তাঁদের আধারের বায়োমেট্রিকও যাচাই করা হবে। যাচা‌ই করা যাবে মোবাইলে ওটিপি পাঠিয়েও। প্রকৃত চাষির কাছ থেকে ধান কেনার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হলেও চলতি খরিফ মরশুমে বেশ কিছু অনিয়মের ঘটনা চিহ্নিত হয়। চাষির নামে ফড়েদের ধান বিক্রির ঘটনা প্রাথমিক তদন্তে ধরা পড়ে। তখন বহু অ্যাকাউন্টে জমা পড়া শতাধিক কোটি টাকা ফেরানোর ব্যবস্থা করে রাজ্য খাদ্য দফতর। ওই টাকার কোনও দাবিদার পরবর্তীকালে পাওয়া যায়নি। এরপর চলতি খরিফ মরশুমের শেষ পর্যায়ে তড়িঘড়ি আধারের বায়োমেট্রিক যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হয়। তদন্তে এটাও দেখা যায়, মূলত কৃষকবন্ধু প্রকল্পে নথিভুক্ত নন এমন কৃষক ও বর্গাদারদের কাছ থেকেই কম দামে ধান কিনে তা রাজ্যকে বেশি দামে বিক্রি করছিল ফড়েরা।

এবারে সেই ব্যবস্থা ঠেকাতে বদ্ধপরিকর মমতার সরকার। আর তার জন্য এবারে রাজ্য কৃষি দফতেরর কৃষকবন্ধু পোর্টালটিকে ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেননা ওই পোর্টালে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতায় থাকা কৃষকদের সব তথ্যই রয়েছে। সেই সব তথ্য যাচাই করেই, ধান বিক্রির জন্য তাঁদের নাম নিজেদের পোর্টালে তুলবে রাজ্যের খাদ্য দফতর। নথিভুক্ত কৃষকের কত জমি আছে, তার মধ্যে কত জমিতে চাষ করেছেন তাঁরা, সেই তথ্য কৃষি দফতরের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। অনথিভুক্ত বর্গাদারদের ক্ষেত্রে প্রথমে তাঁর চাষবাস সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ে তদন্ত করা হবে। সেই তথ্য বিডিও অনলাইনে খাদ্য দফতরের পোর্টালে আপলোড করবেন।  

Published by:

Share Link:

More Releted News:

বেলুড় বয়েজ হাই স্কুলের ডিসি সেন্টারে তুমুল উত্তেজনা, বিজেপি – তৃণমূল সংঘর্ষ

‘আইপ্যাকের লোকদের দেখলেই বেঁধে রাখুন’, কংগ্রেস কর্মীদের নিদান অধীরের

টার্গেট অভিষেক! দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেই তিন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ কমিশনের

রাজ্যে সর্বকালীন রেকর্ড গড়ে প্রথম দফায় ভোট পড়েছে ৯৩.১৯ শতাংশ

তৃণমূল কর্মীর মোটরবাইকে সওয়ার মমতা, দমদম উত্তরে উপচে পড়ল জনস্রোত

মন্দিরবাজারের ২১ লক্ষ টাকা-সহ গ্রেফতার বিজেপি প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ