চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

অগ্নিকন্যার হাতে শাড়ি তুলে দিয়ে আপ্লুত কাটোয়ার জগবন্ধু দালাল

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) তাঁতের কাপড় পরতে ভালোবাসেন। চান বাংলার তাঁত শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে। তাঁত শিল্পের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকেই সম্মান জানাতে অভিনব পন্থা নেন পূর্ব বর্ধমান(Purba Burdhwan) জেলার কাটোয়া-২ ব্লকের জগদানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোড়ানাশ গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় তন্তুবায় জগবন্ধু দালাল(Jagabandhu Dalal)। তিনি একটি তাঁতের শাড়িতে আঁচলের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ফুটিয়ে তোলেন। শুধু তাই নয়, সেই শাড়িতেই(Tant Jamdani Saree) তিনি রাজ্য সরকারের ১১টি প্রকল্পের নামও তুলে ধরা হয়। সেই সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয় তৃণমূলের প্রতীক ঘাসফুল চিহ্নও। ৮৪ ‘কাউন্ট’ সুতোর বুননে টানা ৩২ দিনের পরিশ্রমে শাড়িটি তৈরি করে দালাল পরিবার। কার্যত শাড়িটি মুখ্যমন্ত্রীকে উপহার দিতে জগবন্ধু চেয়েছিলেন কাটোয়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় তা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দিন। কিন্তু স্বপ্নেও ভাবেননি, সেই শাড়ি তিনি নিজে হাতেই মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেবেন।

জামদানি শাড়ির ওপর সুতো দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ফুটিয়ে তোলা সেই অপূর্ব সৃষ্টিকর্ম দিন তিনেক আগেই কলকাতায় বিশ্ববাংলা মেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দিয়েছেন জগবন্ধু। মুখ্যমন্ত্রীও তাঁর কাজে রীতিমত আপ্লুত। তিনি নিজেই সেদিন জগবন্ধুকে জানিয়ে দেন, ওই শাড়ি ফ্রেমবন্দি করে বিশ্ববাংলার অফিসে রাখা হবে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন আশ্বাস পেয়ে খুশি শিল্পী জগবন্ধুও। তিনি বলেন, ‘এটাই আমার জীবনের সেরা পুরস্কার।’ পরনে নীল পাড় সাদা শাড়ি। পায়ে হাওয়াই চটি। হাতে ঘড়ি পরে নমস্কার করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এমন ছবি জামদানি শাড়িতে ফুটিয়ে তুলেছেন জগবন্ধুবাবু। এমনকী রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পগুলিও স্থান পেয়েছে শাড়িতে। প্রায় এক মাস ধরে টানা কাজ করে মমতার নিখুঁত অবয়ব ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। শাড়িতে কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী, খাদ্যসাথীর মতো জনমুখী প্রকল্পের নকশাও সূক্ষ্মভাবে ফুটিতে তুলেছেন তিনি। তাঁতযন্ত্রে রংবেরঙের সুতোর কারুকার্যে শাড়ির আঁচলে ফুটে উঠেছে সাদা শাড়ি পরিহিতা মুখ্যমন্ত্রী।

জগবন্ধুবাবু এখনও কার্যত ঘোরের মধ্যেই রয়েছেন। ভাবতেও পারেননি তাঁর নিজের সৃষ্টিকর্ম তিনি একদিন নিজে হাতে বাংলার অগ্নিকন্যার হাতে তুলে দিতে সক্ষম হবেন। ঘোরের মধ্যেই তাই জানালেন, ‘আমি ভাবতে পারিনি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে ওই শাড়ি তুলে দেব। উনি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। বিশ্ববাংলার অফিসে ওই শাড়ি ফ্রেমবন্দি করে রাখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এটাই আমার বড় পাওনা।’ বুধবার কলকাতায় বিশ্ববাংলা মেলা আয়োজিত হয়। সেখানে বাংলার হস্তশিল্প, তাঁতশিল্প, লোকশিল্পীদের নিয়ে প্রদর্শনী হয়। রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে শিল্পীরা তাঁদের শিল্পকর্ম নিয়ে হজির হন। নতুনগ্রাম, অগ্রদ্বীপের কাঠের পেঁচা, নানা কাজ, বাংলার তাঁতশিল্প সহ নানা সম্ভারের স্টল বসে। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী জামদানির ওপর বোনা এমন শাড়ি দেখে অত্যন্ত খুশি হন। তিনি শাড়িটি হাত দিয়ে ভালো করে দেখেন। তারপরই তিনি শাড়িটি বড় করে ফ্রেম দিয়ে বাঁধিয়ে রাখার কথা বলেন। জগবন্ধু আরও জানিয়েছেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি যাতে আমাদের মতো হস্তচালিত তাঁতশিল্পীরা কাজের বরাত পান। সেদিকটা যদি একটু দেখেন। আমায় মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। আমার পরিশ্রম সফল হয়েছে। রাজনীতি না করলেও আমি দিদির ভক্ত।’

জগদানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোড়ানাশ, মুস্থুলি, একডালা, আমডাঙা ও পাঁচপাড়া গ্রামের মানুষের মূল পেশাই হল তাঁত বোনা। এই এলাকার তাঁতের কাপড়ের সুনাম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়েছে বিদেশেও। সেই সূত্রে ছোট থেকেই বাবা গণপতি দালালের কাছে তাঁত বোনার কাজ শিখেছেন জগবন্ধু। অন্তর দিয়ে ভালবাসেন বাংলার অগ্নিকন্যা ও তৃণমূল কংগ্রেসকে। এক মাস ধরে সকাল বিকেল পরিশ্রম করে ১৫ হাত দীর্ঘ তাঁতের শাড়িটি বুনেছেন তিনি। এ কাজে তাঁকে সাহায্য করেছেন তাঁর বাবা গণপতি, মা অণিমা এবং স্ত্রী প্রতিমা। কাপড়ের ওপরে সুতো দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন জগবন্ধু। শাড়ির আঁচলে ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান লেখা হয়েছে। তার নীচে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর ৪২ ইঞ্চি লম্বা ছবি। সঙ্গে রাজ্য সরকারের এগারোটি প্রকল্পের নামও রয়েছে শাড়িতে। তার পাড়ে রয়েছে ঘাসফুলের ছবি। জগবন্ধুর দাবি, ‘এই শাড়ির সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। ঘোড়ানাশের তাঁতশিল্পীদের তরফে আমি মুখ্যমন্ত্রীকে উপহার দেওয়ার জন্যই শাড়িটি তৈরি করেছি। শাড়িটির নাম দিয়েছি মমতা শাড়ি(Mamata Saree)।’

Published by:

Share Link:

More Releted News:

প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনে ৩০৯ জন প্রার্থী কোটিপতি, সেরা ধনী কে?‌

কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী, নিজের হাতে থালা সাজিয়ে দিলেন পুজো

প্রথম দফায় শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম-সহ ৬৬ আসনে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি

‘পদ্ম পাঁকে ফোটে, বাংলার মাটিতে ফুটবে না’, পুরুলিয়া থেকে বিজেপিকে হুঙ্কার সায়নীর

‘দাগ আচ্ছে হ্যায়’, দাগিদের প্রার্থী করায় তৃণমূলকে টেক্কা বিজেপির

বাংলায় প্রথম দফার ১৯ প্রার্থীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা, কতজন ধর্ষণের আসামি?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ