আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

হাইকোর্টের রায়ে বাধা কাটল ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্পের

নিজস্ব প্রতিনিধি: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) স্বপ্নের প্রকল্প ‘দুয়ারে রেশন’(Duyare Ration)। কোভিডকালে চালু হওয়া এই প্রকল্প নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তুলেছিলেন রাজ্যের রেশন ডিলাররা। প্রকল্প বাতিল করার দাবি তোলার পাশাপাশি সেই প্রকল্প বাতিল করতে কলকাতা হাইকোর্টেও মামলা দায়ের করেন রাজ্যের রেশন ডিলারদের সংগঠন। তাঁদের দাবি ছিল, ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্পটি ন্যাশনাল ফুড সিকিউরিটি আইনের(National Food Security Act) বিরোধী। কিন্তু সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট(Calcutta High Court)। শনিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও এই মামলায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দুয়ারে রেশন প্রকল্প সংবিধানসম্মত। তা কোনওভাবেই ন্যাশনাল ফুড সিকিউরিটি বিধির বিরোধী নয়। বেআইনি তো নয়ই। রাজ্যের ওই প্রকল্প বৈধ। আর এই রায়ের জেরেই বাংলার বুকে ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্পের রূপায়ণে আর কোনও বাধা থাকল না। যদিও রেশন ডিলারদের সংগঠন এখন সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার তোড়জোড় করছেন।

ঠিক কী বলেছে আদালত? কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও জানিয়েছেন, ন্যাশনাল ফুড সিকিউরিটি আইন বলছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প কার্যকর করা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব রাজ্যের। ভারত সরকারের গাইডলাইন অনুসরণে যা চালাতে হবে। অত্যাবশকীয় পণ্য গ্রাহকের হেফাজতে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার স্বার্থে রাজ্য সরকার নিজের মতো করে পদ্ধতি তৈরি বা চালু করতে পারে। সেই আইনি ক্ষমতা ন্যাশনাল ফুড সিকিউরিটি আইনেই দেওয়া আছে। নাগরিকদের জন্য খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে রাজ্য সরকারের ভূমিকা কেন্দ্রের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। ফেয়ার প্রাইস শপ (এফপিএস) থেকে যতদিন অত্যাবশকীয় পণ্য বিক্রি বা বণ্টন হবে, ততদিন গ্রাহকদের হাতে তা তুলে দেওয়ার নিয়ন্ত্রক রাজ্যই। এটা কোনওভাবেই সংবিধানবিরোধী নয়। এ সম্পর্কিত যাবতীয় আইন ও বিধি শুধু এফপিএস পর্যন্ত খাদ্যশস্য পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে। কিন্তু, সেখানে থেকে গ্রাহকের হাতে তা তুলে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কোনও আইন বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। সেই শূন্যস্থানটি পূরণ করছে দুয়ারে রেশন প্রকল্প। ওই আইন অনুযায়ী রাজ্য সরকার প্রকৃত গ্রাহকের দুয়ারে নির্দিষ্ট মূল্যে খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে। তাই দুয়ারে রেশন প্রকল্প সংবিধানসম্মত। তা কোনওভাবেই ন্যাশনাল ফুড সিকিউরিটি বিধির বিরোধী নয়। বেআইনি তো নয়ই। রাজ্যের ওই প্রকল্প বৈধ। কেন্দ্রীয় আইন খাদ্যবস্তু বিলিবণ্টনের অধিকার দিয়েছে রাজ্যকেই। অতএব রাজ্য গ্রাহকের দুয়ারে গিয়ে খাদ্যশস্য তুলে দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অবৈধ নয়।

‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প নিয়ে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আদালতে জয়ের মুখ দেখেছে তেমনি দেশের মধ্যেও দাগ কাটছে এই প্রকল্প। কেননা এবার রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠন দেশজুড়ে ‘বেঙ্গল মডেল’ চালু করার দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামতে চলেছে। আগামী ৪ জুলাই থেকে তাঁরা দেশজুড়ে ব্লক ব্লকে এই নিয়ে আন্দোলন শুরু করতে চলেছে। সেই আন্দোলনের প্রথম পর্যায় শেষ শেষ হবে আগামী ২ আগস্ট দিল্লিতে সংসদ ভবন অভিযানের মধ্য দিয়ে। গোটা দেশ থেকে রেশন ডিলাররা ওইদিন রাজধানীর রামলীলা ময়দান থেকে মিছিল করে সংসদ ভবনের দিকে যাবেন। বাংলার রেশন ডিলাররাও ওই অভিযানে অংশ নেবেন। এই বিষয়ে অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রা‌ইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, ‘দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই একমাত্র জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের বাইরে থাকা প্রায় সওয়া ৩ কোটি রেশন গ্রাহককে রাজ্য সরকার নিজের খরচে খাদ্যশস্য সরবরাহ করে। রাজ্য সরকার অতিরিক্ত ভর্তুকি দিয়ে জাতীয় প্রকল্পের গ্রাহকদেরও খাদ্য দেয়। আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে যে ৯ দফা দাবি পেশ করেছি। তাতে আমরা দাবি করেছি পশ্চিমবঙ্গের রেশন মডেল সারা দেশে চালু করতে হবে। সবার জন্য বিনা পয়সায় খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।’

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ভোট মিটতেই একলাফে সিলিন্ডার পিছু ৯৯৪ টাকা বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম

কোন কোন বুথে পুনর্নির্বাচন হবে, এখনও খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন

‘মানুষের ভোট যেন সুরক্ষিত থাকে,’ স্ট্রং রুম থেকে বেরিয়ে বললেন মমতা, ক্ষোভ পুলিশের ভূমিকায়

কালবৈশাখীর মধ্যেই ভবানীপুর কেন্দ্রের স্ট্রং রুমের পাহারায় মমতা

তৃণমূলের EVM-বিকৃতির অভিযোগ খারিজ কমিশনের, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে মোতায়েন বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী

কার দখলে থাকবে বাংলা? সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যেই পূর্বাভাস দেবে ইভিএম

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ