ধর্ষণের শাস্তি ফাঁসি, দিল্লি অভিযান থেকে বিশেষ আইন, একসুর মমতা-অভিষেকের

দুইজনের মিলিত স্রোত জানিয়ে দিল, বাংলা চায় নির্যাতিতার দ্রুত বিচার। চায় অপরাধীর শাস্তি। আর সেই শাস্তি হল ফাঁসি। নজরে মমতা ও অভিষেক।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: একজন দলের সুপ্রিমো, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। অপরজন দলের সেনাপতি, রাজ্যের সাংসদ। দুইজন এদিন দলের ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে একসুরে সাফ জানালেন, ‘ধর্ষণের শাস্তি ফাঁসি।’ প্রথমজন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) এবং দ্বিতীয়জন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee)। এদিন অর্থাৎ বুধবার ২৮ অগস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের(TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবস(Foundation Day)। সেই উপলক্ষ্যেই এদিন কলকাতার ধর্মতলায় মেয়ো রোডের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মমতা আর অভিষেক। একুশে জুলাইয়ের পরে এই প্রথম মমতা আর অভিষেক আবারও একমঞ্চে এলেন। আর জি কর কাণ্ডের(R G Kar Incident) পরেও এই প্রথম দুইজনে প্রকাশ্যে হাজির থাকলেন দলের মঞ্চে। সেখানে থেকেই দুইজনের মিলিত স্রোত জানিয়ে দিল, বাংলা চায় নির্যাতিতার দ্রুত বিচার। চায় অপরাধীর শাস্তি। আর সেই শাস্তি হল ফাঁসি। এর জন্য যদি দিল্লিতে গিয়ে অভিযান করতে হয়, তো তৃণমূল তা করবে আর যদি কোনও আইন প্রণয়ন করতে হয় তাহলে তাও করবে রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুন, ‘দয়া কারে কাজে ফিরুন আপনারা, আমি কোনও পদক্ষেপ করতে চাই না’, চিকিৎসকদের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

অভিষেক কী বলেছেন এই প্রসঙ্গে? তিনি বলেন, ‘যাঁরা নবান্ন অভিযান করে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করছেন, তাঁরা ক্ষমতা থাকলে দেশে ধর্ষণ বিরোধী আইন আনার জন্য নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপি সভাপতি জেপি নড্ডার কাছে দাবি জানান। এদের ক্ষমতা নেই এই আইন আনার। কারণ যদি এই আইন আসে, তা হলে সবার আগে জেলে যাবেন বিজেপির লোকেরা। মহিলাদের বিরুদ্ধে অত্যাচার ও অন্যায়ের ঘটনা সবচেয়ে বেশি কোনও রাজ্যে যদি ঘটে থাকে, এনসিআরবি অনুযায়ী তাহলে প্রথমেই রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, দ্বিতীয় মধ্যপ্রদেশ, তৃতীয় রাজস্থান, চতুর্থ মহারাষ্ট্র। আমরা সেই লড়াইকে সম্মান জানাই। যাঁরা রাস্তায় নেমেছিলেন বা রাস্তায় বসে প্রতিবাদ করেছিলেন, তাঁদের একটাই দাবি ছিল। ধর্ষণমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা এবং বিচার ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। ওঁরা বলছে দাবি এক, দফা এক— মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ। আমি বলছি, দাবি এক, দফা এক— ধর্ষণ বিরোধী আইন। আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেস দিল্লিতে যাবে কেন্দ্রের সরকার ধর্ষণ বিরোধী আইন আনে। রাতারাতি নোট বাতিল হতে পারে, লকডাউন করতে পারে, তা হলে ধর্ষণ বিরোধী আইন আসে না কেন? যাঁরা এই নারকীয় বর্বর ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের সমাজে থাকার অধিকার নেই। কেন্দ্র যদি এই আইন আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে প্রণয়ন না করে, তা হলে তৃণমূল দিল্লিতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়বে। মানুষ রাস্তায় নামলে কেউ আটকাতে পারবে না। কেন্দ্র যদি এই আইন না আনে, তবে প্রাইভেট মেম্বার বিলের মাধ্যমে আমি এই বিল পেশ করব। প্রত্যেক সাংসদের অধিকার রয়েছে প্রাইভেট মেম্বার বিলের মাধ্যমে সেটিকে বিল হিসাবে আইনসভায় পাশ করিয়ে আইন তৈরি করার। আমরা তা আগামী দিনে করব।’

আরও পড়ুন, উচ্চ প্রাথমিকের ১৪ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের ছাড়পত্র দিল হাইকোর্ট

মমতা কী বলেছেন এই প্রসঙ্গে? তিনি বলেরন, ‘আন্দোলনের মুখ ঘোরানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। আমরা বিচার চাই, দোষী ব্যক্তির শাস্তি চাই। আর ওদের বডি চাই। ওরা আসল আন্দোলনে জল ঢেলে দিয়েছে। বাংলাকে বদনাম করার খেলায় নেমেছে। আমি তাদের ধিক্কার জানাই। যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু তার পরে যাতে দেরি না হয়, কোনও ভুলত্রুটি না হয় সেটাই দেখার। আমরা চেয়েছিলাম সাত দিনের মধ্যে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মাধ্যমে বিচার। ব্যবস্থা করে দিতাম। অনেক চোর-ডাকাতকে এখন ছেড়ে দেওয়া হয়। আমার কাছে অনেক ফাইল আসে, বলা হয় ১০-১২ বছর কেটে গিয়েছে ছেড়ে দেওয়া হোক। কেন অত্যাচারীদের ছেড়ে দেওয়া হবে? ধর্ষকদের কেন ছাড়া হবে? এটা কিসের নিয়ম। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করলাম ন্যায় সংহিতা নিয়ে। আগামী সপ্তাহে স্পিকারকে বলে বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন ডাকব। ১০ দিনের মধ্যে ‘ধর্ষকের ফাঁসি চাই’ এই বিল এনে পাশ করে রাজ্যপালের কাছে পাঠাব। আমি জানি, রাজাবাবু কিছু করবেন না। যদি তিনি না করেন, তবে মেয়েরা রাজভবনে গিয়ে বসে থাকবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকবে। এই বিল সই করতে হবে। রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দিয়ে দায়িত্ব সারলে হবে না। আপনার রাজভবনের এক জন মহিলা কর্মীকে নির্যাতন করেন। সেই মেয়েটা বিচার পায়নি। কেউ যদি মনে করেন বাইরে থেকে এসে বাংলাকে অশান্ত করবেন, তাঁরা মনে রাখবেন বাংলা অচল হয় না। আমি চাই, সকলের শাস্তি হোক। কোর্ট কী করবে আমি জানি না। তবে মানুষ শাস্তি দেবে। আমি মানুষকে এ কথা বলব না যে, আইন হাতে তুলে নিন।’

পুরনিয়োগ দুর্নীতি  মামলায় এবার মদন মিত্রকে তলব ইডির

৫৭ বছরের ছোট তরুণীকে গোপনে বিয়ে জামায়াতের সাংসদের, শোরগোল বাংলাদেশজুড়ে

সাবধান! শুধু ওজনবৃদ্ধি নয়, জাঙ্ক ফুডেই লুকিয়ে হৃদরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি

রক্তে হঠাৎ শর্করা বৃদ্ধিই কি ডায়াবেটিস? সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও হতে পারে ‘সুগার স্পাইক’

বর্ষাকালে বারবার অসুস্থ হচ্ছে শিশু? বর্ষায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে এই ৫ উপায়

ফাইনালের পর গুন্ডামির দায়ে তিন ম্যাচের জন্য নির্বাসিত হচ্ছেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা!

বর্ষায় বাড়ির আশেপাশে সাপের আনাগোনা? এই ৬ গাছ করবে আপনার সমস্যার সমাধান

মধ্যমগ্রামে হোটেল থেকে উদ্ধার ৩৮ বছরের যুবতীর ঝুলন্ত দেহ, আটক ২৯ বছরের প্রেমিক

মোদির বাসভবনের সামনে ধর্না, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে আটক করল দিল্লি পুলিশ

মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় পাশ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল, লিভ ইনের সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক

মোদির বাসভবনের সামনে ধর্নায় সামিল হতে দেশবাসীর কাছে আর্জি রাহুলের

বচসার জেরে তরুণ-তরুণীকে ধাক্কা দিয়ে গঙ্গায় ফেলল বন্ধুরা! ভয়ঙ্কর ঘটনা ইছাপুরে

আগে হত্যা নয়, কেতনকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করতে চেয়েছিল সিয়া-চেতন

সংসদ অভিযানে পুলিশের লাঠির ঘায়ে আহত ছাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক, আইসিইউতে স্থানান্তরিত