আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

ডিপফ্রিজে কংগ্রেস, জাদুঘরে সিপিএম! তীব্র আক্রমণ তৃণমূলের

নিজস্ব প্রতিনিধি: পর পর দুইদিন। প্রথমে কংগ্রেস, তারপর সিপিএম। এই দুইদলকেই নিজেদের মুখপত্রে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানলো রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। আর সেটাও পুরনির্বাচনের আবহে। নেপথ্য শোনা যাচ্ছে, জাতীয় স্তরে কংগ্রেসকে ধাক্কা দেওয়ার পাশাপাশি বাংলায় বামফ্রন্টকে ভেঙে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে তৃণমূল। আর তাই নিজেদের মুখপত্রে দুই দলকে তোগ দেগেছে ঘাসফুল শিবির। কংগ্রেসকে ডিপফ্রিজে পাঠানোর পাশাপাশি সিপিএমকে ঠাঁই দিয়েছে জাদুঘরে। কিন্তু খুব কী ভুল কথা কিছি বলা হয়েছে? তৃণমূল তাঁদের মুখপত্রে যে খোঁচা দিয়েছে বাম আর কংগ্রেসকে সেটাই তো বাংলা তথা দেশের সব থেকে কঠিন বাস্তব। কংগ্রেস বিজেপি বিরোধীতার সব জমি হারিয়ে বসে আছে। বামেরা বাংলার বিধানসভা থেকে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। তাহলে তৃণমূলের ভুলটা কোথায়!

জাগো বাংলা যা তৃণমূলের দলীয় মুখপত্র, সেখানেই শুক্রবারের কংগ্রেসকে আক্রমণ শানানো হয়েছিল দলটি ডিপফ্রিজে চলে গিয়েছে বলে। শনিবার অর্থাৎ এদিন সিপিএমকে আক্রমণ শানানো হয়েছে দলটি জাদুঘরে চলে গিয়েছে বলে। লক্ষ্যণীয় ভাবে সিপিএম-কংগ্রেসের প্রতি এই আক্রমণ শুরু হয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি ও মুম্বই সফরের পরে পরেই। মমতা এই দুই শহরেই তাঁর সফরকালেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, কংগ্রেসকে কার্যত জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে আর মাথা করে এগোনা সম্ভব নয়। কেননা বিগত ৭ বছরে কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার বিস্তর জমি ও সুযোগ পেলেও তাঁরা সেই লড়াইয়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জয়ের মুখ দেখতে অক্ষম হয়েছে। এমনকি গত ৭ বছরে একাধিকা রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনেও দেখা গিয়েছে কংগ্রেসকে জোট শরিক হিসাবে কোনও আঞ্চলিক দল গ্রহণ করলেও, আসন ছাড়লেও, সেখানে জয়ের মুখ দেখতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। তাঁদের সেই পরাজ্যের জেরে জোটেও ধাক্কা লেগেছে। বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল এর সব থেকে বড় নমুনা। যে দলটির প্রতি আমজনতাই মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে, যে দলটি থেকে নিত্যদিন দলের নেতা থেকে সাংসদ ও বিধায়কেরা বেড়িয়ে যাচ্ছেন তাঁদের নেতৃত্বে কেন জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী রাজনীতি পরিচালিত হবে? কংগ্রেস তো নেতৃত্ব দেওয়ার অধিকারই হারিয়ে ফেলেছে। তৃণমূলের মুখপত্রে যদি সেই ক্ষেত্রে লেখা হয় কংগ্রেস ডিপফ্রিজে চলে গিয়েছে তাহলে ভুল কী বলা হবে!

বামেরা বিশেষ করে সিপিআই(এম) চিরাচরিত ভাবে তৃণমূলের শত্রু। কারন এই দলটির বিরুদ্ধেই লড়াই করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্থান ঘটেছে বাংলার অগ্নিকন্যার। এই দলটির বিরুদ্ধেই লড়াই করে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া। আর এটাও ঘটনা ৩৪ বছর ধরে বাংলা শাসন করা এই দলটি একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার বিধানসভা থেকেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। দলটির ক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা আজ কোথায় পৌঁছেছে যে ক্ষমতা হারাবার এক দশকের মাথায় দলটাই রাজ্য বিধানসভা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। ইতিহাস বলছে দীর্ঘদিন ধরে বামেরা যে সব এলাকায় শাসন করেছে সেখানে গদি ওল্টানোর পরে দ্বিতীয়বার আর ফিরে আসেনি বামেরা। বাংলাতেও কার্যত সেই ছবিই ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে। বিধানসভা থেকে বামেরা নিশ্চিহ্ন হয়েছে, এবার পালা রাজ্যের বুথগুলি থেকে নিশ্চিহ্ন হওয়ার। সেই পথেই কার্যত এগিয়ে চলেছে কাস্তে হাতুড়ি তারা। লক্ষ্যণীয় ভাবে আক্রমণের অভিমুখে রয়েছে সিপিআই(এম), পুরো বাম শিবির নয়। এর একটা বড় কারণ অবশ্যই মমতার নিজের বামপন্থী ভাবমূর্তি। দেশের অনেক রাজনীতিবিদই মনে করেন মমতা বামেদের থেকেও অতি বড় বাম। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে জাতীয় স্তরের বাম নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে তৃণমূল। কিন্তু আক্রমণ করা হচ্ছে বাংলার সিপিএমকে। আসলে ইউপিএ’র নেতৃত্ব থেকে কংগ্রেসকে সরানোর পাশাপাশি সিপিএমকেও তৃণমূল বামফ্রন্টের নেতৃত্বস্থান থেকে সরাতে চাইছে। পরিবর্তে দুই জোটের রাশই নিজের হাতে তুলে নিতে চাইছে তৃণমূল। জোড়াফুল শিবিরের সেই উদ্দেশ্য অদূর ভবিষ্যতে সফল হলেও অবাক হওয়ার মতো কিছু থাকবে না। কেননা কংগ্রেস আর সিপিআই(এম) দুই দলেরই অস্তিত্ব আজ প্রশ্নের মুখে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ভোট মিটতেই একলাফে সিলিন্ডার পিছু ৯৯৪ টাকা বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম

কোন কোন বুথে পুনর্নির্বাচন হবে, এখনও খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন

‘মানুষের ভোট যেন সুরক্ষিত থাকে,’ স্ট্রং রুম থেকে বেরিয়ে বললেন মমতা, ক্ষোভ পুলিশের ভূমিকায়

কালবৈশাখীর মধ্যেই ভবানীপুর কেন্দ্রের স্ট্রং রুমের পাহারায় মমতা

তৃণমূলের EVM-বিকৃতির অভিযোগ খারিজ কমিশনের, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে মোতায়েন বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী

কার দখলে থাকবে বাংলা? সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যেই পূর্বাভাস দেবে ইভিএম

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ