দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

মমতার সরকারের বর্ষপূর্তির দিনেই বিস্ফোরক কুণাল

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলার বুকে পরিবর্তন ঘটেছে ২০১১ সালে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হারিয়ে তৃতীয়বারের জন্য বাংলার ক্ষমতায় আসীন হয়েছেন বাংলার অগ্নিকন্যা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। সোমবার অর্থাৎ এদিনই, সেই সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি। অর্থাৎ মা-মাটি-মানুষের সরকারের তৃতীয় দফার সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি। আর এদিনেই কিনা ফেসবুকে(Facebook) সুদীর্ঘ ও বিস্ফোরক এক পোস্ট করে দলকে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে ফেলে দিলেন দলেরই মুখপাত্র কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh)। দল যখন তাল ঠুকছে ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে দিল্লি দখলের জন্য, দেশ যখন প্রহর গুণছে বিজেপি ও মোদিকে পরাস্ত করে মমতার হাতে দেশের ক্ষমতা তুলে দেওয়ার জন্য, ঠিক তখনই কুণাল বিস্ফোরক হলেন। নিজের পোস্টে জানিয়ে দিলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের এক সৈনিক হিসেবে বলতে পারি, ২০৩৬ সাল পর্যন্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন মমতাদি। আর সেই ২০৩৬ সালে তিনি অভিভাবকের মত উপস্থিত থাকবেন এমন অনুষ্ঠানে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নেবেন অভিষেক।’ অর্থাৎ পক্ষান্তরে তিনি বুঝিয়ে দিলেন ২০২৪-এ প্রধানমন্ত্রী হতে পারছেন না মমতা।

কুণাল এদিন তাঁর পোস্টে অনেক কথাই লিখেছেন। বলেছেন, ‘আত্মতুষ্টির জায়গা নেই। আত্মসমালোচনার জায়গায় গুরুত্ব দিতে হবে। দল বড়, সরকার বড়, আরও জয়, আরও দায়িত্ব, আরও কাজ, কর্মযজ্ঞ চলছে । ৯৯% কাজ ভালো। ১%  ভুল থাকলে ব্যবস্থা হচ্ছে এবং হবে। যে কর্মী, সমর্থক, সংগঠকরা ২০২১-এর চরম ঝুঁকির যুদ্ধে জান কবুল লড়াই দিয়েছেন, তাঁদের সম্মান, মর্যাদা, অধিকারবোধ সত্যিই স্বতন্ত্র। দলে রাজনৈতিক সচেতনতাটাকেই অগ্রাধিকার দিন। দেওয়া হয়। ক্ষমতায় থাকার জন্য মুষ্টিমেয়র মধ্যে যদি ব্যক্তিসমীকরণের প্রশাসনিক লাভক্ষতির হিসেব অগ্রাধিকার পায়, তবে তা বর্জ্যনীয়। আর সতর্ক থাকুন, চারপাশে কারা আসছে, তারা কারা, কী চায়। এই সতর্কতার ছাঁকনি যে কোনও ক্ষমতাসীন দলে জরুরি, তৃণমূলেও জরুরি এবং তৃণমূল নজর রাখছে বলেই বারবার তিনবার মানুষ আশীর্বাদ করছেন।’ তারপরেই তিনি লিখেছেন, ‘মাথার ওপর দিদি, লিডার, দলের প্রাণ, মুখ, শেষ কথা। রয়েছেন তরুণতুর্কী, ক্যাপ্টেন অভিষেক। এবং রয়েছেন নেতা, কর্মী, সমর্থক, দরদীর তৃণমূল পরিবার। উপসংহার একটাই। শীত গ্রীষ্ম বর্ষা, তৃণমূল কংগ্রেস(TMC) ভরসা।’

উপসংহার টেনেও অবশ্য থামেননি কুণাল। কেননা তারপরেই টেনে এনেছেন সবথেকে বিতর্ক বিষয়টি যা তৃণমূলকে তীব্র অস্বস্তুর মুখে ফেলে দিয়েছে এই বর্ষপূর্তির দিনে। তিনি লিখেছেন, ‘২০২১-এর লড়াই তৃণমূলকে অনেক পরিণত করেছে। উচ্চতা দিয়েছে। মানুষ চিনিয়েছে। বিপদ বুঝিয়েছে। আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের এক সৈনিক হিসেবে বলতে পারি, ২০৩৬ সাল পর্যন্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন মমতাদি। আর সেই ২০৩৬ সালে তিনি অভিভাবকের মত উপস্থিত থাকবেন এমন অনুষ্ঠানে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নেবেন অভিষেক(Abhishek Banerjee)। মুখ্যমন্ত্রিত্বে জ্যোতি বসুর রেকর্ড ভেঙে ভারতে নজির গড়বেন মমতাদি। তবে তার মধ্যে যদি দিল্লির এবং দেশের দায়িত্ব নিতে হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরেকরকম তো হবেই। তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারের জনমুখী এবং দায়িত্বশীল আচরণ এই হিসেবকে বাস্তবে পরিণত করার ক্ষমতা রাখে। মমতাদির লড়াইকে কুর্নিশ। অভিষেককে অনেক শুভেচ্ছা।’ কুণাল মমতাকে যতই কুর্ণিশ আর অভিষেককে যতই শুভেচ্ছা জানাক না কেন নিজের পোস্টে কুণাল বুঝিয়ে দিয়েছেন, ২০২৪-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখা যাবে না দিল্লিতে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

প্রথম দফায় মহিলা ভোট পড়েছে ৯৩ শতাংশ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এফেক্ট বিশ্বাস তৃণমূলের

কেন ওসি বিরুদ্ধে কড়া নির্বাচন কমিশন? মুখ খুললেন হিঙ্গলগঞ্জ দুই ফুলের প্রার্থী

পুলিশ পর্যবেক্ষকদের নিরপেক্ষতা নেই, নির্বাচন কমিশনে কড়া নালিশ ঠুকল তৃণমূল

হিন্দু মহিলাকে রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন মুসলিম যুবক, সম্প্রীতির নজির বনগাঁয়

‘মা-বোনেরা প্রাণ ভরে দিদিকে ভোট দিয়েছে’, তৃণমূলের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী জুন মালিয়া

মারাত্মক গরমেও রোড-শোয়ে ‘দিদি নম্বর ওয়ান’, নবদ্বীপে রচনার জমজমাট প্রচার

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ