আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

ছ’মাসে এসেছেন ৯০ লক্ষ ভক্ত! দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রণামী থেকে কোটি কোটি আয়

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ চলতি বছরের অক্ষয় তৃতীয়ায় উদ্বোধন হয়েছে দিঘার জগন্নাথ মন্দির। যেটি রাজ্যবাসীদের জন্যে অভিনব উপহার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে। তবে মাস ছয়েক আগে পর্যন্তও দিঘা শুধুমাত্র পর্যটনকেন্দ্র ছিল। হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু শুধু সমুদ্র সৈকতের টানেই দিঘায় আসতেন। কিন্তু এখন দিঘা শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, তীর্থস্থানও বটে। হ্যাঁ, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে নির্মিত দিঘা জগন্নাথ মন্দিরে গত ৬ মাসে প্রায় ৯০ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়েছে। যার ফলে মন্দিরের প্রণামী বাক্স উপচে পড়েছে। অনেকেই এখন বলছেন, দিঘা এখন আত্মনির্ভর তীর্থস্থান হয়ে উঠেছে। মাস ছয়েক আগে পুরীর আদলে তৈরী দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে।

তবে পুরির মন্দিরকে নকল করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এ নিয়ে কম চর্চা হয়নি। বিতর্কও উঠেছে অনেক। দিঘা মন্দির কে ধাম বলা যাবে কিনা তা নিয়েও অনেক কাঁটাছেড়া হয়েছে, মামলা গড়িয়েছে আদালতেও। এমনকী দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ নিয়েও উঠেছে বিতর্ক। কিন্তু কোনও কিছুই মন্দিরের জনপ্রিয়তায় দাগ কাটতে পারেনি। যেটি মন্দিরের গত ছ মাসের পুণ্যার্থীদের পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ছ’মাসে জগন্নাথ মন্দিরে প্রতি দিন গড়ে ৫০ হাজার ভক্তের ভিড় জমেছে। গড় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দ্বারোদ্ঘাটনের পর থেকে এখনও পর্যন্ত মন্দিরে ৯০ লক্ষেরও বেশি ভক্তের সমাবেশ হয়েছে। প্রতি দিন বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। তবে উৎসবের দিনগুলিতে সেই ভিড় আরও বেড়ে যায়। যার ফলে ধীরে ধীরে দিঘার জগন্নাথ মন্দির জনপ্রিয়তম তীর্থস্থানে পরিণত হচ্ছে। আর অতিরিক্ত ভক্ত সমাগমের জন্যে আর্থিক ভাবেও সচ্ছল হয়ে উঠেছে দিঘার জগন্নাথ মন্দির। মন্দির কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, মন্দিরের দৈনিক আয়ের হিসাব অনুযায়ী, হুন্ডিতে নগদ জমা পড়ে এক লক্ষ টাকার মতো। অনুদান এবং উপহার হিসাবে ট্রাস্ট পায় এক লক্ষ টাকা। আর ভোগের প্রসাদ এবং অন্যান্য প্রসাদ বিক্রি থেকে দৈনিক আয় হয় প্রায় দু’লক্ষ টাকা। সুতরাং এই হিসাব অনুযায়ি মন্দিরের প্রতি দিনের আয় প্রায় ৪ লক্ষ টাকার কাছাকাছি হয়।

সুতরাং এতেই প্রমাণ যে, দিঘার জগন্নাথ মন্দির আর্থিক ভাবে অনেকটাই আত্মনির্ভর হয়ে উঠেছে। এছাড়া জগন্নাথ মন্দির গড়ে ওঠার ফলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে। কেননা মন্দিরের সেবা, নিরাপত্তা, সাফাইকর্মী, হাউস কিপিং মিলিয়ে প্রায় ১৭০ জনকে নিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্দির ঘিরে গড়ে উঠেছে ছোটবড় অনেক ব্যবসা। সেই আয়েই অনেকের সংসার চলছে। বিশেষ করে, উৎসবের দিনগুলিতে মন্দিরের আশপাশের দোকান গুলিতে ব্যাপক আয় হয়। যা ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফোটায়। সদ্য যাওয়া রাসপূর্ণিমাতে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে বিপুল সংখ্যক ভক্তের আগমন হয়েছিল। যা সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছিল পুলিশ-প্রশাসনকে। সুতরাং এতেই বোঝা যায়, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে তৈরি হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দিঘার জগন্নাথ মন্দির আর্থিক ভাবে আত্মনির্ভর হয়ে উঠেছে। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ায় দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন হয়। ‘কালচারাল সেন্টার’ নামের ট্রাস্টের হাতে মন্দিরের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং কলকাতার ইসকনের রাধারমণ দাসকে মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে কালীঘাট থানার ওসি এবং অতিরিক্ত ওসিকে সরিয়ে দিল কমিশন

ভবানীপুরে শুভেন্দুর সভার মাইকের আওয়াজে নির্বাচনী জনসভা না করে ফিরে গেলেন ক্ষুব্ধ মমতা

বেলুড় বয়েজ হাই স্কুলের ডিসি সেন্টারে তুমুল উত্তেজনা, বিজেপি – তৃণমূল সংঘর্ষ

‘আইপ্যাকের লোকদের দেখলেই বেঁধে রাখুন’, কংগ্রেস কর্মীদের নিদান অধীরের

টার্গেট অভিষেক! দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেই তিন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ কমিশনের

রাজ্যে সর্বকালীন রেকর্ড গড়ে প্রথম দফায় ভোট পড়েছে ৯৩.১৯ শতাংশ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ