এই মুহূর্তে

শহীদ মাতঙ্গিনীর তমলুকে আজ ন্যায়-অন্যায়ের লড়াই, সাক্ষী থাকছে নন্দীগ্রাম

Courtesy - Facebook and Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: তাম্রলিপ্ত নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে স্বাধীনতা আন্দোলনের ছবি। শহীদ মাতঙ্গিনী থেকে সতীশ সামন্ত। ভেসে ওঠে নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের ছবি। ভেসে ওঠে লক্ষ্মণ শেঠ থেকে শুভেন্দু অধিকারী। তবে এই ২৪’র ভোটযুদ্ধে(Loksabha Election 2024) তাম্রলিপ্ত বা তমলুকের মাটিতে এক তরুণ লড়াই করতে নেমেছে কলকাতা হাইকোর্টেরই এক দোর্দণ্ডপ্রতাপ প্রাক্তন বিচারপতি বিরুদ্ধে যিনি বিচারপতির আসনে বসে রাজনীতি করে গিয়েছেন আর মানুষের চাকরি খেয়ে গিয়েছেন তৃণমূলকে অস্বস্তিতে ফেলে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওযার জন্য। অন্তত জোড়াফুল থেকে আমজনতার তেমনটাই অভিযোগ। আর তাই সেই তরুণের লড়াই এখন আর নিছক ভোট যুদ্ধে সীমিত থাকছে না। এই লড়াই এখন ন্যায় অন্যায়ের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। সেই লড়াইয়ে বিচার করার আসনে আছেন তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের(Tamluk Constituency) ভোটাররা। নজরে পূর্ব মেদিনীপুর(Purba Midnapur) জেলার তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী(TMC Candidate) দেবাংশু ভট্টাচার্য(Debangshu Bhattacharya) ও বিজেপি প্রার্থী(BJP Candidate) অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়(Abhijit Gangapadhay)। লড়াইয়ে আছেন বাম প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ও। 

পাঁশকুড়া পূর্ব, ময়না, নন্দকুমার, তমলুক, মহিষাদল, হলদিয়া ও নন্দীগ্রাম – এই ৭টি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে গঠিত তমলুক লোকসভা কেন্দ্র। ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত এই লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন সতীশ সামন্ত। তারপর ৩ বছরের জন্য সেখানে সাংসদ হন জনতা পার্টির সুশীল ধারা। ১৯৮০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এই কেন্দ্রে টানা সাংসদ ছিলেন সিপিআইয়ের সত্যগোপাল মিশ্র। এরপর ২ বছরের জন্য সাংসদ হন কংগ্রেসের জয়ন্ত ভট্টাচার্য। ১৯৯৮ সাল থেকে তমলুকে টানা সাংসদ হিসাবে ছিলেন সিপিএমের নেতা লক্ষ্মণ শেঠ। ২০০৯ সালে তাঁকে হারিয়েই নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের মাধ্যমে তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে প্রথমবারের জন্য সাংসদ হন শুভেন্দু অধিকারী। ২০১৬ থেকে এখনও পর্যন্ত তমলুকের সাংসদ হিসাবে রয়েছেন শুভেন্দুর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী। কিন্তু মজার কথা এই দিব্যেন্দু তৃণমূলের সঙ্গে সব যোগাযোগ ছিন্ন করেন শুভেন্দুর দেখানো পথে হেঁটে। তিনি বিজেপির সংস্পর্শেই ছিলেন বিগত ৩ বছর ধরে। অথচ সেই বিজেপিই দিব্যেন্দুকে টিকিটই দিল না তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে। পরিবর্তে সেই টিকিট পেলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। আর তাই তৃণমূলের লড়াই এবার শুধু দেবাংশুকে জেতানোর জন্য নয়, জোড়াফুলের লড়াই ‘চাকরিখেকো’ গঙ্গোপাধ্যায়কে জনতার আদালতে দোষী সাব্যস্ত করারও।

২০০৪ সালে তমলুক থেকে বামেরা শেষবার জিতেছিল। লক্ষ্মণ জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দুকে হারিয়েই। তবে জয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৫৭ হাজার। ২০০৯ সালে শুভেন্দু সেই তমলুক থেকেই জয়ী হলেন লক্ষ্মণকে হারিয়ে ১ লক্ষ ৭২ হাজার ভোটের ব্যবধানে। ২০১৪ সালে সেই জয়ের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে তোলেন শুভেন্দু। সেবার তিনি জিতেছিলেন ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে। অদ্ভূত ভাবে সেই নির্বাচনে যেমন তৃণমূলের ভোট বেড়েছিল, তেমনি বেড়েছিল বাম ও বিজেপির ভোটও। ২০১৬ সালে শুভেন্দু সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় এই লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়েছিল। দিব্যেন্দু জিতেছিলেন প্রায় ৫ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে। কিন্তু এই নির্বাচনেই সামনে আসে, বাম ভোট রামে যাওয়া শুরু হয়েছে। বামেরা সেই নির্বাচনে ৩ লক্ষের কাছাকাছি আর বিজেপি ২ লক্ষের কাছাকাছি ভোট পেয়েছিল। মূলত তৃণমূল বিরোধী ভোট রাম আর বামে ভাগ হয়ে যাওয়ায় তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান ৫ লক্ষ ছুঁই ছুঁই করছিল। ২০১৯ সালেও তমলুক থেকে দিব্যেন্দু জিতলেন, কিন্তু কমে গিয়েছিল জয়ের ব্যবধান। প্রায় ২ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই নির্বাচনেই বামেদের তৃতীয় স্থানে ঠেকে দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল বিজেপি। পেয়েছিল ৫ লক্ষের বেশি ভোট। আর বামেরা পেয়েছিল দেড় লক্ষেরও কম ভোট।

এবার তাহলে কি হবে? একুশের ভোটে তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের মধ্য থাকা ময়না ও হলদিয়ায় জিতেছিল বিজেপি। পাঁশকুড়া পূর্ব, তমলুক, নন্দকুমার ও মহিষাদলে জয়ী হয় তৃণমূল। নন্দীগ্রামে বিজেপির জয় এসেছিল বিতর্কিত ভাবে। কেননা, সেই নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে ছিলেন বিজেপিতে যাওয়া শুভেন্দু অধিকারী। সেই নির্বাচনে কমিশন প্রথমে মমতাকে জয়ী করেও লোডশেডিংয়ের পরে শুভেন্দুকে জয়ী করেন। সেই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যেমন এখনও মামলা চলছে তেমনি পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই নন্দীগ্রাম থেকে তৃণমূল ১০ হাজার ভোটে লিড তোলে। নন্দীগ্রাম বাদ দিয়ে বাকি ৬ কেন্দ্রের হিসাবে তৃণমূল আর বিজেপি প্রায় কাঁধে কাঁধ ঠেকিয়ে রয়েছে। কেউ কারও থেকে এই ইঞ্চি এগিয়ে বা পিছিয়ে নেই। আর তাই এবারেও এই কেন্দ্রের জয়-পরাজয়ের নিষ্পত্তি অনেকটাই নির্ভর করছে নন্দীগ্রামের রায়ের ওপরে। আর তাই সেখানেই এখন রাজনৈতিক পারা চড়ছে। তবে তৃণমূলের ভরসা ২৬ হাজার মানুষের চাকরি যাওয়ার রায়। কতজন মানুষ এই রায়ের মূল উৎস অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে সাংসদ হিসাবে মেনে নেবেন তা নিয়ে সন্দেহ আছে।  বিজেপির ভরসা শুভেন্দু আর নরেন্দ্র মোদি।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

প্রথম দফার ভোটের স্লিপ কারা দেবেন?‌ ‘ডেডলাইন’ বেঁধে নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

মহিলা ব্রিগেডে জোর, নবীনদের বাহিনী তৈরির প্রতিশ্রুতি, নববর্ষে ইস্তেহার প্রকাশ মীনাক্ষীর

‘‌জয় বাংলা’‌ স্লোগান শুনে মেজাজ হারালেন শুভেন্দু, তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা, হাতাহাতি বালিতে

বৃহস্পতি থেকেই দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ৬ জেলায় সতর্কতা জারি

রাস্তায় ছড়িয়ে পোড়া বিজেপির দলীয় পতাকা, ভোটের মুখে চাঞ্চল্য শান্তিপুরে

বজবজে বিরাট রোড–শো অভিষেকের, প্রার্থীকে নিয়ে ভাসলেন মানুষের ঢলে

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ