শ্রীরামপুরের আস্থাই নেই রামে, প্রচারেও পাল্লা ভারী কল্যাণের

রাম-বামের দুই প্রার্থীকে দেখেই কার্যত সবাই বুঝে গিয়েছেন, কল্যাণের জয় কার্যত এখন শুধু সময়ের অপেক্ষামাত্র। নজরে শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্র।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: জয়ের হ্যাট্রিক ৫ বছর আগেই হয়ে গিয়েছে। এবারের লড়াই শুধু আসন ধরে রেখে মার্জিন বাড়াবার। সেই জয় যে রোখা সম্ভব নয়, সেটা বুঝেই বিরোধীরা এমন সব প্রার্থী দিয়েছে যা দেখলে শুনলেও হাসি পাবে। কার্যত বিরোধীরা লড়াইয়ের আগেই হার অবশ্যম্ভাবী জেনে মাঠ ছেড়ে দিয়েছে। কেননা, সময় অনেক বদলে গিয়েছে। এখন শ্রীরামপুরবাসী না আস্থা রাখে রামে, না বামে। তাঁদের ভরসা শুধুই জোড়াফুলে। আর ভরসা কল্যাণে। শীত গ্রীষ্ম বর্ষা শ্রীরামপুরের কল্যাণেই ভরসা। এই কল্যাণ হলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী এবং তৃণমূলের(TMC) ৩ দফার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়(Kalyan Banerjee)। যিনি দেশের উপরাষ্ট্রপতিকেও কটাক্ষ হানতে ছাড়েন না। এবার সেই কল্যাণই অনেকটাই ফাঁকা জমি পেয়ে গিয়েছেন ভোটের ময়দানে। কেননা তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি(BJP) দাঁড় করিয়েছে তাঁরই প্রাক্তন জামাই কবীর বসুকে। আর বামেরা(CPIM) দাঁড় করিয়েছে একদম কমবয়সী নতুন মুখ দিপ্সীতা ধরকে(Dipsita Dhar)। আর এই দুই প্রার্থীকে দেখেই কার্যত সবাই বুঝে গিয়েছেন, কল্যাণের জয় কার্যত এখন শুধু সময়ের অপেক্ষামাত্র। নজরে হুগলি জেলার শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্র(Sreerampur Constituency)। 

১৯৫১ সাল থেকেই রয়েছে শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্র। কিন্তু কোনও দলই এই কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের হাতে ধরে রাখতে পারেনি একটানা। বামেরা এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে মোট ৯ বার। তার মধ্যে একটানা তাঁরা এই কেন্দ্র ধরে রেখেছে ১৯৭১ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত টানা ১৩ বছর ধরে। কংগ্রেস এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে ৪ বার। কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূলের জন্মের পরে এই কেন্দ্রে আর মাথা তুলতে পারেনি গান্ধি পরিবারের দল। পরিবর্তে ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এখানে জয়ের খাতা খুলেছে তৃণমূল। আরভ ২০০৯ সাল থেকে এই কেন্দ্রে একটানা জিতে আসছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই কেন্দ্রের দখল একটানা ১৫ বছর ধরে আগলে রেখেছেন। যা এর আগে এই কেন্দ্রে কেউ করে দেখাতে পারেননি। সিপিআই(এম)’র সাংসদ দীনেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এই কেন্দ্র থেকে মোট ৪ বার সাংসদ হলেও তিনিও টানা ১৫ বছর ধরে এই কেন্দ্র ধরে রাখতে পারেননি। সেই হিসাবে কল্যাণ এই কেন্দ্রে আগেই রেকর্ড গড়েছেন। আর এবার তিনি ফের জয়ী হলে দীনেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের মতো ৪ দফার সাংসদ হয়ে যাবেন। তাঁর প্রচার দেখলে বোঝাই যায়, জয় নিয়ে তিনি ভাবছেন না, ভাবছেন জয়ের মার্জিন নিয়ে।

কেন চিন্তা জয়ের মার্জিন নিয়ে? হুগলি জেলার উত্তরপাড়া, শ্রীরামপুর, চাঁপদানি, চন্ডীতলা ও জাঙ্গিপাড়া এবং হাওড়া জেলার ডোমজুড় ও জগৎবল্লভপুর – এই ৭ বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের গঠন। এই রাজ্যে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূলের জন্মের আগে ১৯৯৬ সালের লোকসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ ভট্টাচার্য। তিনি সেই সময় পেয়েছিলেন প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ ভোট। জিতেছিলেন মাত্র সাড়ে ৫ হাজারেরও কম ভোটে। বাম প্রার্থী সুদর্শন রায়চৌধুরী সেবার পেয়েছিলেন ৪ লক্ষ ৪৩ হাজার ভোট। বামেদের সেই পরাজয় নিশ্চিত করেছিল গেরুয়া শক্তির ভোট বাক্স। বিজেপি প্রার্থী দেবব্রত চৌধুরী ৬০ ঘাজার ভোট টেনে বামেদের পরাজয় সুনিশ্চিত করেছিলেন। যদিও সেই নির্বাচনে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ১৯৯১ সালের নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ৩০ হাজার কমে গিয়েছিল। তবে এটা বোঝা গিয়েছিল যে, শ্রীরামপুরে আস্তে আস্তে হলেও থাবা গাড়ছে বিজেপি। পরবর্তীকালে ১৯৯৮, ১৯৯৯ ও ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপির কোনও প্রার্থী ছিল না। পরিবর্তে তাঁরা সমর্থন দিয়েছিল তৃণমূলকে। ২০০৯ সালে বিজেপির ভোট এক কেন্দ্রে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। তাঁদের জুটেছিল মাত্র ৩৮ হাজার ভোট।

এর পরেও কিন্তু শ্রীরামপুরে বেশ ভালই কাজ করে মোদি ম্যাজিক। ২০১৪ সালে এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন বাঙালি গায়ক ও সুরকার বাপি লাহিড়ি। তিনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পরাস্ত হন ঠিকই, কিন্তু পেয়েছিলেন ২ লক্ষ ৮৭ হাজার ভোট। আর তার জেরেই ২০১৪ সালে শ্রীরামপুর কেন্দ্রে কমেছিল বামেদের ভোট। কল্যাণ অবশ্য দেড় লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন সেবার। কিন্তু ২০১৯ সালে কল্যাণের জয়ের মার্জিন ৯৮ হাজারে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। কেননা মোদি হাওয়ায় ভর দিয়ে বিজেপি এই কেন্দ্রে শুধু যে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল তাই নয়, তাঁদের প্রার্থী দেবজিৎ সরকার পেয়ে যান ৫ লক্ষ ৩৯ হাজার ভোট। সেই ভোট এসেছিল বামেদের ঘর ভেঙেই। আবার এটা ভুললেও চলবে না ২০০৪ সালে এই কেন্দ্রেই কংগ্রেস ১ লাখের বেশি ভোট পেয়ে বামেদের জয় সুনিশ্চিত করেছিল। অর্থাৎ শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রে বরাবরই রাম-বাম-কংগ্রেসের একটা চোরাস্রোত কাজ করে। আর এই চোরাস্রোতই কার্যত কে জিতবে ভোটযুদ্ধে তা অনেকটাই ঠিক করে দেয়। একইসঙ্গে ঠিক করে দেয় জয়ের মার্জিনও। এবারের ভোটযুদ্ধে কল্যাণের চিন্তা এখানেই।

শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে থাকা ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রেই একুশের ভোটে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। সেই হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই কেন্দ্রে একুশের ভোটে তৃণমূল বিজেপির থেকে প্রায় ২ লক্ষ ১৭ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছে। বিজেপির থেকে এগিয়ে আছে এই কারণেই যে ওই ৭ বিধানসভা কেন্দ্রেই দ্বিতীয় স্থানে ছিল বিজেপি। এবারে সেই বিজেপি প্রার্থী করেছে কল্যাণবাবুর প্রাক্তন জামাই কবীর বসুকে(Kabir Shankar Bose)। যা দেখে অনেকেই মনে করছেন, এই কেন্দ্রে প্রাক্তন জামাই বনাম প্রাক্তন শ্বশুরের লড়াই হচ্ছে। তাতে কল্যাণই হয়তো জিতে যাবেন। কেননা কবীর কোনওভাবেই কল্যাণের সমকক্ষ নন। সেভাবে আলাদা করে তিনি পরিচিতও নন, যততা আইনজীবী হিসাবে কল্যাণ পরিচিত। কিন্তু কল্যাণ কত ভোটে জিতবেন তা নির্ভর করছে দিপ্সীতার ওপরে, তিনি বাম ঝুলিতে ঠিক কতটা ভোট টানবেন তার ওপর। অনেকের দাবি, এবারে হয়তো কল্যাণের প্রধান লড়াই হবে এই বামেদের সঙ্গে। কেননা রামে যাওয়া বাম ভোট আবারও ফিরতে চলেছে লাল পার্টিতে। বিজেপিকে তৃতীয় স্থানে ঠেকে দিয়ে বামেরা হয়তো উঠে আসবে দ্বিতীয় স্থানে।

বাড়িতে শ্মশান সামগ্রী রেখে বিজেপি নেত্রীকে খুনের হুমকি, উত্তপ্ত টাকি

বাংলার নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হলেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

নিউ টাউনের রামমন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া, প্রয়াত কিংবদন্তি পরিচালক ভারতীরাজা

তৃণমূল থেকে সুবিধা পাওয়ার দিন শেষ, ইস্তফা দিলেন সন্তোষ কন্যা সুস্মিতা

কোহলির পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন হার্দিক

বিশ্বের প্রায় ৫০০-৬৫০ জন মহিলার শয্যাসঙ্গী হয়েছেন, চেনেন বেপরোয়া সেই ক্রিকেটারকে?

তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সজল দাস

আলিপুরে সরকারি অফিসে বিধ্বংসী আগুন

আফগানিস্তানে নৃশংস হামলা পাক সেনার, নিহত ১১ নিরীহ শিশুসহ ১৩

নেহেরুকে ছাপিয়ে এক অনন্য রেকর্ড গড়লেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

কলকাতা বিমানবন্দরে নামলেই গ্রেফতার অভিষেক! সিআইডির তৎপরতায় জল্পনা তুঙ্গে

পৃথিবীর প্রাচীনতম ফল কোনটি জানেন? শরীরের জন্যও বিশেষ উপকারী

২০ হাজার টাকার কমে নতুন স্মার্টফোন! জুলাইতেই আসছে OnePlus Nord CE 6