চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

মমতার প্যাকেজ অস্ত্রে আন্দোলন অতীত পাঁচামিতে, কাজ চাইছেন আন্দোলনকারীরাই

Courtesy - Facebook and Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: সিঙ্গুরে কৃষকদের কাছ থেকে জমি কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। রাজ্যে সেই সিঙ্গুরের বুক থেকেই শুরু হয়েছিল জমি আন্দোলন যা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেয়। সেই আন্দোলনই মমতাকে রাজ্যের বিরোধী দলনেত্রীর পদ থেকে পৌঁছে দিয়েছিল বাংলার মুখ্যমন্ত্রী(Chief Minister of West Bengal) হিসাবে মহাকরণের অলিন্দে। কিন্তু মমতা মুখ্যমন্ত্রী হয়েও কৃষকের কাছে তার জমির গুরুত্ব কী তা ভুলে যাননি। আর সেই কারণেই বাম-বিজেপি যখন বীরভূমের(Birbhum) ঢেউচা-পাঁচামিতে(Deucha Pnachami) কয়লা খনিশিল্পের(Coal Mines Industry) বিরুদ্ধে সেখানকার মানুষদের ভুল বুঝিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে চাইছিল, ঠিক তখনই জমির জন্য চাকরি ও ক্ষতিপূরণের প্যাকেজ ঘোষনা করেছিলেন মমতা। সেটাও আবার রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে দাঁড়িয়ে। তাঁর সেই সব ঘোষণা ক্রমশই বাস্তবায়িত হয়ে উঠেছে ঢেউচা-পাঁচামির বুকে। আর সেই প্যাকেজ অস্ত্রেই এখন আন্দোলন অতীত হয়ে গিয়েছে ঢেউচা-পাঁচামিতে। যারা বাম-বিজেপির প্ররোচনায় একসময় কয়লা খনি শিল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন, তাঁরাই আজ চাইছেন দ্রুত সেখানে শিল্প গড়ে উঠুক(Protester now need Industry for Work)। কেননা তাঁদেরও কাজ চাই।

আরও পড়ুন, আর জি কর কাণ্ডে তদন্ত কোন পথে, কেস ডায়েরি চেয়ে পাঠালো কলকাতা হাইকোর্ট

বাম-বিজেপির কথা শুনে যারা ঢেউচা-পাঁচামিতে শিল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন এখন তাঁদের দাবি, ‘চাকরি আর জমির দামের প্যাকেজ আন্দোলনকে ভোঁতা করে দিয়েছে। আর তাই সেই আন্দোলন আঁকড়ে থেকে পড়ে থেকে কোনও লাভ নেই। যারা জমি দিয়েছে, তাঁদের বাড়ির ছেলেরা চাকরি পেয়েছে। জমি দিয়ে মোটা টাকা পেয়েছে। সুখে-শান্তিতে দিন কাটাচ্ছে। আমাদের জমি চাইলে আমরাও দিয়ে দেব। জমি না থাকলে কাজ চাইবো। আমরা দু’একজন জমি না দিয়ে আন্দোলন করে পাবো কী? এখন আন্দোলনে মন নেই। সরে এসেছি। চোখের সামনে দেখছি চাকরি পেয়ে ওই পরিবারগুলির ভোল বদলে গিয়েছে। পাথর শিল্পাঞ্চলে কাজ করে লোকজন কোটিপতি হয়ে গেল। এখন চাই, সরকারি ব্যবস্থায় কয়লা বা পাথর তোলার কাজ করতে।’ অথচ বছর দেড়েক আগেও জমি আন্দোলনে তপ্ত থাকত ঢেউচা-পাঁচামি। এখন সেখানে আন্দোলনের লেশমাত্রও নেই। কয়েকটি বাড়ির মাটির দেওয়ালে অবশ্য ‘কয়লাখনি চাই না’ বলে রং চটে যাওয়া আবছা আন্দোলনের শ্লোগান এখনও রয়ে গিয়েছে। কিন্তু আন্দোলনের ইতিহাস এখন সেখানে ক্রমশ ফিকে হয়ে যাচ্ছে। নতুন করে কেউ আর দেওয়াল লিখন করেননি, করাতে চানও না।

আরও পড়ুন, ‘অধ্যক্ষকে স্বেচ্ছায় ছুটিতে চলে যেতে বলুন’, সন্দীপ কাণ্ডে কড়া প্রতিক্রিয়া হাইকোর্টের

ঢেউচা-পাঁচামির বাসিন্দাদের মধ্যে অনেককিছু না পাওয়ার আক্ষেপ থাকলেও সরকারের চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মানছেন সকলেই। বিঘে প্রতি ১৩ লক্ষ টাকা, সঙ্গে পুলিশের হোমগার্ড বা গ্রুপ-ডি চাকরির মাস মাইনে, তাঁদের জীবনটাই বদলে দিয়েছে। এখন তাঁরা দিন গুণছেন কবে সরকার বাড়ি করে দেবে। কার্যত এখন ঢেউচা-পাঁচামির সবাই চাইছেন, সরকার তাঁদের জমি নিক, পরিবর্তে টাকা-বাড়ি-চাকরি দিক। বীরভূম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই চাঁদা মৌজায় পাথর তোলার কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি সেখানে একটি প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়াদের পাশের দু’টি স্কুলে ভর্তি করা হবে। প্রায় ৯০০ গাছকে অন্য কোথায় সরিয়ে আধুনিক ভাবে পুনঃস্থাপিত করার ভাবনা চলছে। পাথর তোলার কাজই হবে কয়লা তোলার সূচনা। সেই নিয়ে রাজ্য সরকার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তোড়জোড় শুরু করেছে। প্রশাসনের তথ্য বলছে, দেড় হাজার জন জমিদাতার সরকারি চাকরি হয়েছে। ফলে, আশার আলো দেখছেন এলাকার মানুষজন। বাসিন্দারা বলছেন, এলাকার সবার প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ১ হাজার টাকা করে রোজগার হচ্ছে। এবার সরকার যদি পাথর শিল্পাঞ্চলে কাজের ব্যবস্থা করে তাহলে কোনও ভাবনাই নেই। এখন আন্দোলন অতীত।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

বাড়ি বাড়ি নয়, লন্ড্রিতে বসেই চলল ভোটার স্লিপ বিলি, চাঞ্চল্য বারাসতে

কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, কী কারণ?

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড আলিপুরদুয়ার, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সিলিং ভেঙে আহত ২বিডিও

বাইকই ভরসা! কমিশনের নিষেধাজ্ঞায় চরম সমস্যায় সাধারণ মানুষ

তৃণমূল প্রার্থী-ভোট ম্যানেজারদের প্রয়োজনে আটকে রাখার নির্দেশ কমিশনের

ভোটের মুখে ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া নামের প্রথম তালিকা প্রকাশ করল কমিশন, কীভাবে দেখবেন?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ