দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

সুন্দরবনের জৈব দুধ কাঁচের বোতলে ভরে বিক্রি শহরে

নিজস্ব প্রতিনিধি: খাঁটি গরুর দুধ। তাও এবার মিলছে প্যাকেটে নয়, কাঁচের বোতলে বন্দী হয়ে। যে এলাকার দুধ নয়, সুন্দরবনের(Sundarban) গ্রামীণ এলাকার গরুর দুধ। সেই দুধই ‘সুন্দরিণী’(Sundarini) নাম নিয়ে কলকাতা আশেপাশের শহরে ছড়িয়ে পড়ছে। এবার সেই দুধকেই বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন দফতর(Sundarban Development Department)। শুধু দুধই নয়, সুন্দরবনের উৎপাদিত নানা ধরনের জৈব পণ্য ও মধুও এভাবে পৌঁছে যাবে লোকের বাড়িতে বাড়িতে এমনকি তা অনলাইনের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে দেশের যে কোনও প্রান্তে। অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবেন সুন্দরবনের গ্রামীণ এলাকার মানুষজন। বেঁচে থাকা ও রুটিরুজির জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে  নিত্যদিন সুন্দরবনে গিয়ে মিন ও কাঁকড়া ধরা পাশাপাশি মধু সংগ্রেহের যে জীবনযাপন তা আর থাকবে না এই প্রকল্প পূর্ণদমে চালু হয়ে গেলে। সেক্ষেত্রে কমবে বাঘের হাতে মানুষের মারা যাওয়ার ঘটনাও।

আরও পড়ুন হাওড়া শহরে জলসঙ্কট মেটাতে ২৫০ কোটি টাকার প্রকল্প

২০১৫ সালে রাজ্য সরকারের হাত ধরে চালু হয় সুন্দরিণী প্রকল্প। সুন্দরবন লাগোয়া দুই ২৪ পরগনা জেলার ১৫টি ব্লকে এই প্রকল্প রূপায়ণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রীতিমত সমবায়(Co-Operative) গড়ে সুন্দরবনের গ্রামগুলি থেকে দুধ সংগ্রহ করে তা বোতলে ভরা হয়। তারপর তা কলকাতা বিমানবন্দর, হাওড়া স্টেশন সহ বর্তমানে ১১টি আউটলেটে্র মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। এগুলি ছাড়াও আরও আটটি স্টল খুব শীঘ্রই খোলা হবে। এর পাশাপাশি তিনি জানান, সাগর, মৌসুনি দ্বীপ ও গোসাবার প্রত্যন্ত এলাকা থেকেও এবার গরুর দুধ সংগ্রহ শুরু হবে। তবে এই কাঁচের বোতল বন্দী দুধকেই এবার পৌঁছে দেওয়া হবে শহরের বাড়িতে বাড়িতে। মূলত যারা প্লাস্টিকের পাউচে থাকা দুধ কিনতে বা খেতে পছন্দ করেন না তাঁদেরকেই এই প্রকল্পের জন্য প্রাথমিক ভাবে ক্রেতা হিসাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই কাঁচের বোতলবন্দী দুধ যাতে সম্পূর্ণভাবে ‘অর্গানিক’(Organic) থাকে সেটার জন্য যে গরুগুলি থেকে দুধ নেওয়া হবে তাদের কঠোরভাবে ঘাস এবং রাসায়নিকমুক্ত জৈব খাদ্যই খাওয়ানো হচ্ছে। সুন্দরবন উন্নয়ন দফতরের নজরদারিতে আপাতত কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সরবরাহ হচ্ছে এই জৈব দুধ।

আরও পড়ুন সিউড়ি সদর হাসপাতালে চালু হল মা ক্যান্টিন

এই প্রকল্প যাতে সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত হয় তার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে সুন্দরিণী প্রকল্পকে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে আরও ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। কাঁচের বোতলে দুধ বন্দী হওয়ার আগে গ্রাম থেকে সংগ্রহ করে আনা দুধে জল মেশানো হচ্ছে কিনা জানতে ব্যবহার করা হচ্ছে একধরনের যন্ত্র। সেই যন্ত্রে জল ধরা পড়লে বা দুধের গুণমান খারাপ বার হলে সঙ্গে সঙ্গে তা ফেরত দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দুধ বিপণনের ক্ষেত্রে তা ঠান্ডা রাখাতাবিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখেই একটি বিশেষ এসি মেশিন ও ৪০ লিটার আয়তনের কিছু কন্টেনারও কেনা হয়েছে। এই বিশেষ এসি মেশিনটি কোনও কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও তাতে থাকা দুধ চট করে নষ্ট হবে না। কমকরেও তা আরও ৬ ঘণ্টা ভাল থাকবে। এখন সুন্দরবনের ৭টি ব্লক থেকে দুধ সংগ্রহ করা হয়। কিছুদিনের মধ্যে আরও ৮টি ব্লক থেকে দুধ সংগ্রহ হবে। প্রযুক্তির অভাবে এতদিন খুব বেশি উপভোক্তার কাছে পৌঁছতে পারেনি প্রকল্পের সুফল। তবে এখন তা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

প্রথম দফায় মহিলা ভোট পড়েছে ৯৩ শতাংশ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এফেক্ট বিশ্বাস তৃণমূলের

কেন ওসি বিরুদ্ধে কড়া নির্বাচন কমিশন? মুখ খুললেন হিঙ্গলগঞ্জ দুই ফুলের প্রার্থী

পুলিশ পর্যবেক্ষকদের নিরপেক্ষতা নেই, নির্বাচন কমিশনে কড়া নালিশ ঠুকল তৃণমূল

হিন্দু মহিলাকে রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন মুসলিম যুবক, সম্প্রীতির নজির বনগাঁয়

‘মা-বোনেরা প্রাণ ভরে দিদিকে ভোট দিয়েছে’, তৃণমূলের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী জুন মালিয়া

মারাত্মক গরমেও রোড-শোয়ে ‘দিদি নম্বর ওয়ান’, নবদ্বীপে রচনার জমজমাট প্রচার

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ