এই মুহূর্তে




‘কারও দুটো বউ থাকতে পারে, আমার একটা বান্ধবী থাকতে পারে না?’- জেলমুক্তির পর অর্পিতাকে নিয়ে মুখ খুললেন পার্থ

নিজস্ব প্রতিনিধি: পার্থ চট্টোপাধ্যায় উচ্চারিত হলেই বর্তমানে প্রায় একই সঙ্গে শোনা যায় বন্ধু অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের নাম। তাঁদের বন্ধুত্ব নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। শান্তিনিকেতনে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি ‘অপা’ প্রকাশ্যে আসার পর শুরু হয় জোর চর্চা। সাড়ে তিন বছর পর জেল থেকে বেরিয়ে এবার সেই বন্ধুত্ব নিয়ে মুখ খুললেন বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। জেলমুক্ত হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। তারপর বুধবার বেহালা পশ্চিমের মানুষের উদ্দেশ্যে লিখেছেন খোলা চিঠি। তাতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগের বিষয়েও কথা বলেছেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, অর্পিতা তাঁর বান্ধবী। অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে যে বিপুল অঙ্কের টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল তা নিয়েও মুখ খুলেছেন পার্থ। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে জেলে চিলেন, তাই সেভাবে কোনও কাজ করতে পারেননি। সেই জন্য নিজের বিধায়ক তহবিলের টাকা ফেরত দিতে চাইছে। কিছু টাকা রেখেই বাকি সমস্ত টাকা তিনি তৃণমূলের হাতে তুলে দেবেন। প্রসঙ্গত, তৃণমূল থেকে তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল বহুদিন আগে, কিন্তু তিনি নিজেকে দলের একজন বলেই মনে করেন। তাই এই সিদ্ধান্ত।

অর্পিতা মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে বলতে গিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, অর্পিতাকে অসম্মান করা হয়েছে। পার্থের কথায়, একজন মহিলাকে অসম্মান করা খুব সহজ। সংবাদমাধ্যমও তেমনটাই করিয়েছে রঙ চড়িয়ে। তারপরে যদি কোনও মহিলা আমার সঙ্গে পারিবারিক বন্ধুত্ব করতে চান, তাতে কি কারও কোনও আপত্তি থাকতে পারে। অর্পিতার পরিচয় তো শুধু বান্ধবী হিসাবে নয়। উনি একজন অভিনেত্রী। ৩০ থেকে ৩৫ টি ওড়িয়া ছবিতে অভিনয় করেছেন। কিন্তু দিনের পর দিন তাকে যেভাবে অপমান করা হয়েছে তা অত্যন্ত অন্যায়।

তারপরেই তৃণমূলের অন্যান্য নেতাদের কটাক্ষ করে পার্থ বলেন, “কারও দুটো বউ থাকতে পারে, আর আমার একটা বান্ধবী থাকতে পারে না?” অতি বড় মূর্খও বুঝবেন, এই কটাক্ষ নিঃসন্দেহে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়। আইন মেনে এখনও তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি, তবে থাকেন বান্ধবী বৈশাখীর সঙ্গেই। সম্প্রতি বান্ধবীকে নিয়ে তৃণমূলে ফের যোগদান করেছেন শোভন। স্বভাবতই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নামও নিজ তালিকাভুক্ত করতে চেয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা তা বলা বাহুল্য। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, “যার বউ আছে তার বান্ধবী থাকলে আমার কেন থাকবে না।”

ইডির তল্লাশিতে অর্পিতার দুটি ফ্ল্যাট থেকে ৫০ কোটি টাকার নগদ উদ্ধার হয়েছিল। সেই সময় দাবি করা হয়েছিল এই টাকার পুরোটাই দুর্নীতির টাকা। পার্থ জেল থেকে বেরিয়ে এসে অর্পিতার  সঙ্গে নিজের যোগাযোগ থাকার কথাস অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, “আমার বাড়ি থেকে তো কোনও টাকা পাওয়া যায়নি, বান্ধবীর বাড়ি থেকে পেয়েছে। তাই যা উত্তর দেবে তিনি দেবেন।” দুর্নীতি হওয়ার প্রশ্নে পার্থর উত্তর, “কোনও দুর্নীতি হয়নি। আমি দীর্ঘ সময় শিক্ষামন্ত্রী ছিলাম। তখন তো কেউ কোনও দূর্নীতির কথা বলেনি। ২০২১ সালে আমি সরে যাওয়ার পরেই এত কিছু হল। বেনিয়ম হতে পারে, কাজের ত্রুটি হতে পারে, কিন্তু দুর্নীতি কখনওই হয়নি। এত কাজ করলাম সবাই সবটা ভুলে গেল।”

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার পরেই প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে দল থেকে কার্যত ছুটি দিয়েছিল তৃণমূল। তাঁর শিক্ষামন্ত্রীর পদ গিয়েছিল। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অনুব্রত মণ্ডলরাও দুর্নীতির অভিযোগেই জেল খেটেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি দল। এ নিয়ে কি দলের ওপর কোনও ক্ষোভ আছে? উত্তরে পার্থ বলেন, তৃণমূল আমার দল নয় এই কথাটা কে বলল? দল আমার সঙ্গে না থাকলেও আমি এখনও দলের সঙ্গেই রয়েছি। দলের যখন বিপদ তখন শুধু নয়, তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনার নেপথ্য কারিগর ছিলাম আমি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাইরে, আমি ভিতরে। সুব্রত বক্সি সঙ্গে থাকতেন তখন। আর কটা লোক ছিল?” পার্থের অভিমান সাসপেন্ড করার বিষয়ে দল থেকে তাঁকে কোনও কিছুই জানানো হয়নি। এই কথা তাঁকে জানিয়েছিলেন ইডির এক আধিকারিক।

তৃণমূলের আগামী দিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অটোমেটিক চয়েজ বলে মনে করছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এর আগেও তিনি অভিষেকের পাশে থেকেছেন। বর্তমানে যারা অভিষেকের ছায়াসঙ্গী, সেই সময় তারা ছিলেন না। নাম না করেই তাই তিনি বলতে পারেন, “অভিষেকই অটোমেটিক চয়েস।”

জেল থেকে বেরোনোর পরে পার্থ বলেছিলেন তিনি বেহালার মানুষের কাছে বিচার চাইবেন। সে কথাই বললেন আবার। তাঁর কথায় জননেত্রীর প্রতি আমি আস্থাশীল, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ। ২৫ বছর ধরে যারা আমাকে জিতিয়েছেন, আমি তাঁদের কাছেই বিচার চাইব। জিজ্ঞাসা করব অসৎ অকর্মণ্যকেই কি জিতিয়েছিলেন? শুধু তাই নয় পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বেহালার মানুষের ঘরে ঘরে অটো নিয়ে ঘুরবেন তিনি। চলতি মাসেই বেরিয়ে পড়বেন। তাঁর আরও সংযোজন, “বিধানসভা জনপ্রতিনিধিদের বলার জায়গা, আমি সাড়ে তিন বছর ধরে কিছু বলতে পারিনি। কেউ তো আমার কথা শোনেনি। আমার কাছেও আসেনি, অথচ আমি বলতে চেয়েছি। আমি বেহালার মানুষের কাছে দায়বদ্ধ।”

মঙ্গলবার ঘুম আসেনি। আসলে বন্দি অবস্থায় জেলে ঘুম আসত না, সেই অভ্যাসই রয়ে গিয়েছে।  সারারাত তাঁর সঙ্গে বসেছিলেন ভাই এবং ভাইঝি। তাঁদের সঙ্গেই গল্প করে সময় কেটেছে। পার্থের কথায় অন্ধকারে বসে থাকতাম, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হত। দলের কর্মীরা এসে কান্নাকাটি করত। এই গত তিন বছর ধরে আমি কাগজ পড়িনি, টিভি দেখিনি। এখন আবার কর্মযজ্ঞে ফেরার চেষ্টা করছি। তবে সোনা গলানোর চেষ্টা করলেও খাঁটি সোনা কিন্তু গলে না। আইনের কোন বিষয়ে আমি মন্তব্য করব না। সত্যের জয় একদিন হবেই।”

বুধবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে বিএলও গিয়ে এম্যুনারেশন ফর্ম দিয়ে এসেছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ” তৃণমূল তো এসআইএর বিরুদ্ধে নয়। জননেত্রী বলেছিলেন একজনও বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়। আর প্রশ্ন তুলেছিলেন কেন ভোটের সময় দিয়ে এসআইয়ের হচ্ছে? কোথাও তো দিনে বলেননি এসআইআর ফর্ম নেওয়া যাবে না। তা ফর্নাম নিয়ে সহযোগিতা করেছি।”

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

অসুস্থ ছেলের ওষুধ আনতে গিয়ে সব শেষ, নড়বড়ে সেতু পার হতে গিয়ে নদীতে ডুবে মৃত্যু ব্যক্তির

মেসির সফরের মূল উদ্যোক্তা গ্রেফতার হওয়ার পরই পাকড়াও করার দাবি তুললেন রাজ্যপাল, মাঠে নামল বিজেপি

ফুটবল তারকা মেসির সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত কে?

‘ব্যর্থতা’ আড়ালে বিমানবন্দর থেকে মেসির সফরের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রুকে গ্রেফতার করল পুলিশ

যুবভারতীতে অশান্তি পাকানোর ষড়যন্ত্রের খবর জেনেও সতর্কমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বিধাননগর পুলিশ!

নলেন গুড়ের সন্দেশের ‘মেসি মূর্তি’, ফুটবলের রাজপুত্রকে বিশেষ উপহার ফেলু মোদকের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ