শান্তি আর উন্নয়নের স্বার্থে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল এবার পার্থ’র পাশে

এবার ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের বাঙালিদের বাজি, শান্তিকামী মানুষের বাজি, উন্নয়নমুখী মানুষের বাজি পার্থ ভৌমিক। তাই অর্জুন এবার চরম বিপাকে।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: একসময়ের বাম দুর্গ। সেখানেই এখন শান্তি ধরে রাখার আপ্রাণ প্রচেষ্টা। একই সঙ্গে কাম্য উন্নয়নের রাস্তা ধরে রাখা। এটাই এই ২৪’র মহাভোটে(Loksabha Election 2024) ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের(Barrackpore Constituency) সিংহভাগ মানুষের একমাত্র কাম্যতা। কেননা উনিশের ভোটের পরে পরেই এই লোকসভা কেন্দ্রের বাসিন্দারা দেখেছিলেন জাতিগত হিংসার এক সর্বনাশা বহিঃপ্রকাশ। এবার আর তার পুনঃরাবৃত্তি চান না ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের ভোটাররা। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্যতম মহকুমা ব্যারাকপুর। একসময় এই এলাকা রাজ্যের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চলও ছিল। এখন আর সেই সব শিল্পের আর দেখা মেলে না। টিম টিম করে এখনও সেখানে জ্বলছে কিছু জুটমিল। আর আছে নির্মাণশিল্প, থুড়ি প্রোমোটারদের শিল্প। সেখানেই এবার ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের বাঙালিদের বাজি, শান্তিকামী মানুষের বাজি, উন্নয়নমুখী মানুষের বাজি পার্থ ভৌমিক(Partha Bhowmick)। ২৪’র ভোটে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী(TMC Candidate)।

আমডাঙা, বীজপুর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া ও ব্যারাকপুর – এই ৭টি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়েই গড়ে উঠেছে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র। ১৯৫২ সাল থেকে এই লোকসভা কেন্দ্রের উপস্থিতি বাংলার রাজনীতিতে। এখনও পর্যন্ত এই লোকসভা কেন্দ্রে ৯বার জয়ী হয়েছেন বামপন্থীরা। এর মধ্যে তড়িৎবরণ তোপদার ৬ বার টানা জয়ী হয়েছেন এই কেন্দ্র থেকে। ১৯৮৯ থেকে ২০০৯, অর্থাৎ টানা ২০ বছর ধরে তিনি এই লোকসভা কেন্দ্রের হর্তাকর্তা বিধাতা হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের হাত ধরে এই কেন্দ্রেও লেগেছিল পরিবর্তনের হাওয়া। আর তাতেই কুপোকাত হন এই প্রবীণ বাম নেতা। ২০০৯ সালে তাঁকে পরাস্ত করেই এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী। যদিও সেই জয়ের পিছনে কাজ করেছিল ভাটপাড়ার দাপুটে নেতা অর্জুন সিংয়ের(Arjun Singh) ভূমিকা। দীনেশ সেবার জয়ী হন ৫৬ হাজার ভোটে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তৃণমূল প্রার্থী করে দীনেশকে। সেরি যুদ্ধেও দীনেশকে ভোট বৈতরণী পার করতে সেনাপতির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন অর্জুন। দীনেশ জিতেছিলেন ২ লক্ষের বেশি ভোটের ব্যবধানে।

কিন্তু তারপর থেকেই দীনেশের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। এমনকি অর্জুনের সঙ্গেও দীনেশের দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। ঘটনা হচ্ছে অর্জুন তৃণমূলের প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই দলে ছিলেন। জোড়াফুল শিবির তাঁকে ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বানিয়েছে, এলাকার বিধায়কও বানিয়েছে। কিন্তু অর্জুনের সুপ্ত ইছা ছিল ব্যারাকপুরের সাংসদ হওয়ার। সব থেকে বড় কথা বাম জমানায় তৃণমূলের অতিবড় দুর্দিনেও অর্জুন তৃণমূল ছেড়ে যাননি। কিন্তু দল তাঁকে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের টিকিট দেয়নি। টিকিট পেয়েছিলেন দলের বদনাম করে বেড়ানো দীনেশ ত্রিবেদীই। কার্যত সেই অভিমানে উনিশের ভোটের একদম মুখে অর্জুন তৃণমূল ছেড়ে পা বাড়ান বিজেপির দিকে। সেখান থেকে ব্যারাকপুয়র লোকসভা কেন্দ্রে লড়াই করার মতো টিকিটও পেয়ে যান। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সেই নির্বাচনে মোদি হাওয়ার পাশাপাশি কাজ করেছিল অর্জুনের প্রতি সহানুভূতির হাওয়াও। সেই হাওয়ায় সাওয়ারি হয়ে অর্জুন জিতেও যান। তবে সেই জয়ের ব্যবধান ছিল ১৫ হাজার ভোটেরও কম। আর তারপরেই যা কোনওদিন প্রত্যক্ষ করেননি ব্যারাকপুরবাসী সেটাই দেখেছিলেন তাঁরা। জাতিগত সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ। যা শুধু বেশ কিছু মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল তাই নয়, এলাকার শান্তি, শৃঙ্খলা, স্থিতাবস্থা সব ধ্বংস করে দিয়েছিল।

উনিশের ভোটে অর্জুনের জয়ের পরে পরেই ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে থাকা একাধিক পুরসভা যা তৃণমূলের দখলে ছিল তা রাতারাতি চলে গিয়েছিল বিজেপির দখলে। ভয়ে ভক্তিতে তৃণমূলের প্রতীকের জেতা জনপ্রতিনবিধিরা বাধ্য হয়েছিলেন সেই সময় পদ্ম্বের শিবিরে আশ্রয় নিতে। এমনকি সেই সময় ব্যারাকপুর মহকুমা জুড়েও পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে না যাওয়া অবধি। ব্যারাকপুরে মমতার আগমন শক্তি জুগিয়েছিল সেখানকার বাঙালিদের মধ্যে।ঙ্ঘুরে দাঁড়িয়েছিল তৃণমূলও। এরপরেই শুরু হয়েছিল ভাটপাড়া ও আশেপাশের এলাকায় জাতিগত সংঘর্ষ যার টার্গেট হয়ে উঠেছিলেন বাঙালি ও সংখ্যালঘুরা। রাজ্য প্রশাসন কিছুটা সময় নিলেও কড়া হাতে সেই সংঘর্ষ থামিয়ে এলাকায় শান্তি স্থাপন করেছিল। কিন্তু সেই ঘটনাও অর্জুনের ভাবমূর্তিকেও ধাক্কা দিয়েছিল। একুশের ভোটে সেই ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে মধ্যে থাকা ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৬টিতেই জয়ী হয় তৃণমূল। খালি ভাটপাড়ায় জিতেছিলেন অর্জুন পুত্র পবন সিং।

একুশের ভোটে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল ৯০ হাজারেরও বেশি ভোটে লিড তুলেছিল। সেই নির্বাচনই কার্যত বলে দিয়েছিল অর্জুন আর ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের হর্তাকর্তা বিধাতা হয়ে উঠতে পারেননি। এলাকায় অর্জুন অপেক্ষা তৃণমূলের দাপটই বেশি। আর তারপরে পরেই এক এক করে বিজেপির হাতে চলে যাওয়া সব গ্রাম পঞ্চায়েত ও পুরসভা ফের তৃণমূলের দখলে চলে আসে। ফিরে আসেন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে চলে যাওয়া সব জনপ্রতিনিধিরাও। এমনকী অর্জুন ঘনিষ্ঠরাও ফেরেন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে। পরে অর্জুন নিজেও বিজে[পি ছেড়ে তৃণমূলে চলে এসেছিলেন এই আশায় যে জোড়াফুল থেকে তিনি ফের ২৪’র ভোটে লড়াই করার টিকিট পাবেন। কিন্তু তাঁর সেই আশ আর পূর্ণ হয়নি। তৃণমূল এবার প্রার্থী করেছে নৈহাটির বিধায়ক তথা রাজ্যের সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিককে। বিজেপি এবারও অর্জুনকে ফের প্রার্থী(BJP Candidate) করেছে। যদিও অর্জুনের সব সঙ্গীরা এখনও তৃণমূলেই রয়ে গিয়েছেন। উপরন্তু অর্জুন বিজেপিতে ফিরে আসায় পদ্মশিবিরের আদি নেতারা সব ক্ষুব্ধ হয়ে বসে গিয়েছেন। সেই সঙ্গে দেখা নেই মোদি হাওয়ারও। আর তাই অর্জুন এবার চরম বিপাকে। তুলনায় পার্থ ফুরফুরে মেজাজেই ভোটের ময়দানে থেকে গিয়েছেন।

ওমান উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলা, নিখোঁজ তিন ভারতীয় নাবিক

‘এনডিএ সরকার আসার পরে দেশের ভাগ্য বদলেছে’, দাবি মোদির

মালদহতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের রাখতে হোল্ডিং সেন্টারের সংখ্যা বেড়ে হল ৩

ডেবরায় সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে তৃণমূলের উপপ্রধান গ্রেফতার

‘জনতা জনার্দন আমার কাছে দেবতুল্য, তাদের সেবাই মূল মন্ত্র’, দৃপ্ত কণ্ঠে বললেন মোদি

‘রাস্তায় সরকারি বাসের সংখ্যা বাড়ানোই অগ্রাধিকার’, জানালেন পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন

স্কুল ছাত্রীদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণের অভিযোগে শিক্ষককে ঘেরাও করে বিক্ষোভ অভিভাবকদের

রেস্তোরাঁর স্বাদ এবার বাড়িতেই, সহজে বানিয়ে ফেলুন স্যালমন মাছের এই সুস্বাদু রেসিপি

‘করের বোঝা না চাপিয়ে, রাজস্ব বাড়ানোই চ্যালেঞ্জ’, দায়িত্ব পেয়ে বললেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত

অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূলের ১৯ সাংসদ, তালিকায় দেব-শত্রুঘ্ন-ইউসুফ পাঠান

মমতাকে নিয়ে কি সিদ্ধান্ত? বৃহস্পতিতে জরুরি বৈঠক ডাকলেন খাড়গে

নিখোঁজের পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া নদী থেকে উদ্ধার সাংবাদিকের দেহ

৩০ বছর বাদে ঢাকাই নায়ক সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে তোলার নির্দেশ

হাসপাতাল চত্বরে বিলি হাজার মিষ্টি, সাজোয়া গাড়ি, বাজনা নিয়ে বরণ গৃহলক্ষ্মীকে