আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

ভাইফোঁটার আগেই জেনে নিন এর উৎপত্তি হয়েছিল কোথা থেকে ?

নিজস্ব প্রতিনিধি : হাতে আর কয়েকটা দিন। এরপরই ধুমধাম করে পালিত হবে ভাইঁফোটা। ভাইফোঁটা যেন এক বিশেষ মিলোনৎসব। ভাই-বোনের মধ্যে সব মনোমালিন্য দূর করে। হিন্দুদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই উত্‍সবটি ভ্রাতৃদ্বিতীয়া, কোথাও আবার যমদ্বিতীয়া নামে পরিচিত। আবার কোথাও ভাইবিজ,ভাইটিকাও নামে পরিচিত। জানেন কী এই পবিত্র উৎসবের পেছনে কোন পৌরানিক রয়েছে কাহিনী রয়েছে ? তবে জেনে নিন কীভাবে এল ভাইফোঁটা।

যম-যমুনার কাহিনী : ভাইফোঁটা নিয়ে নানান পৌরাণিক কাহিনি রয়েছে। যেমন কথিত আছে, সূর্য ও তাঁর পত্নী সংজ্ঞার যমুনা নামে কন্যা ও যম নামে এক পুত্র ছিল। পুত্র ও কন্যাসন্তানের জন্মদানের পর সূর্যের উত্তাপ স্ত্রী সহ্য করতে না পেরে প্রতিলিপি ছায়ার কাছে রেখে চলে যা সংজ্ঞার প্রতিরূপ হওয়াই কেউ ছায়াকে চিনতে পারেনা। কিন্তু ছায়ার কাছে ওই ২ সন্তান কখনও মায়ের মমতা, ভালবাসা পায়নি। দিনের পর দিন ধরে অত্যাচার করতে থাকে। অন্যদিকে সংজ্ঞার প্রতিলিপি ছায়াকে চিনতে পারেন নি সূর্যদেবও।

এদিকে ছায়ার ছলে স্বর্গরাজ্য থেকে বিতারিত হন যমুনা। একসময় যমুনার বিয়েও হয়। বিয়ে হয়ে যমের থেকে অনেক দূরে সংসার করতেন যমুনা। দীর্ঘকাল ধরে দিদিকে না দেখতে পেয়ে মন কাঁদে যমের। দিদির সঙ্গে দেখা করতে একদিন দিদির বাড়ি চলে যায় যমরাজ। প্রিয় ভাইয়ের আগমনে হাসি ফোটে দিদির মুখেও। দিদির আতিথেয়তা ও ভালবাসায় মুগ্ধ হয় যম। ফেরত যাওযার সময় যম একটি বর চাইতে বলেন। তখন যমুনা বলে ছিলেন, এই দিনটি ভাইদের মঙ্গলকামনা চেয়ে প্রত্যেক বোন যেন ভ্রাতৃদ্বিতীয়া হিসেবে পালন করা হয়। সেই বর দান করে যম পিতৃগৃহে চলে যান। যমের মঙ্গলকামনায় এই দিনটি পালন করায় যমরাজ অমরত্ব লাভ করেন।

লক্ষ্মী ও বালির কাহিনী : আরও এক পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, একসময় বালির হাতে পাতালে বন্দি ছিলেন বিষ্ণু। কীভাবে নারায়নকে উদ্ধার করবে তা ভেবে পাচ্ছিল না দেবতারা। তখন স্বর্গের দেবতারা বিষ্ণুর সহধর্মিনী দেবী লক্ষ্মীর কাছে যান। তখন দেবী লক্ষ্মীই একটি উপায় খোঁজেন।নারায়ণকে উদ্ধার করা জন্য লক্ষ্মী বালিকে ভাই পাতিয়ে ফেলেন। তাকে ফোঁটাও দেন লক্ষ্মী। সেই দিনটি ছিল কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয় তিথি। ফোঁটা পেয়ে লক্ষ্মীকে উপহার দিতে চাইলেন রাজা বালি। তখন লক্ষ্মী বিষ্ণুর মুক্তি চান। এরপর রাজা বালি তাঁকে মুক্ত করে দেন।

কৃষ্ণ ও সুভদ্রার কাহিনী : ভাইফোঁটা নিয়ে কৃষ্ণ ও সুভদ্রার কাহিনী শোনা যায়। কথিত রয়েছে, ধনত্রয়োদশীর পরের দিন চতুর্দশী তিথিতে নরকাসুরকে বধ করেন কৃষ্ণ। তারপর দ্বারকায় ফিরে আসলে বোন সুভদ্রা বিজয়ের আনন্দে কৃষ্ণকে কপালে বিজয় তিলক এঁকে দেন। বরন করে নেন। মিষ্টি মুখও করান। সেই থেকে এই দিনটি ভাইফোঁটা নামে পরিচিত।

মহাবীর জৈনের সঙ্গী রাজা নন্দীবর্ধনের কাহিনী : শোনা যায়, জৈন ধর্মের অন্যতম প্রচারক মহাবীর বর্ধমানের মহাপ্রয়াণের পরে তাঁর অন্যতম সঙ্গী রাজা নন্দীবর্ধন মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েন। সেই সময়ে তাঁর বোন অনসূয়া নন্দীবর্ধনকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে। সেখানে অনেক প্রার্থনার পরে নন্দীবর্ধন বোনের কাছে অনশন ভঙ্গ করেন। এখান থেকে ভাইফোঁটার উৎপত্তি হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। মহাবীরের প্রয়াণে হয়েছিলেন ৫২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। সেক্ষেত্রে ভাইফোঁটা উৎসবের বয়স আড়াই হাজার বছরের বেশি।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

নিরামিষ নাকি আমিষ! কোন খাবার দিয়ে দিন শুরু হয় গুগলের CEO সুন্দর পিচাইয়ের?

কম খরচে ভ্রমণ কীভাবে সম্ভব? ৩টি সহজ কৌশলেই বদলে যাবে আপনার ট্রিপ

৪০ ডিগ্রির গরম থেকে মুক্তি পেতে ফ্যান ব্যবহার? সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

সদর দরজায় এটি ঝুলিয়ে রাখলে কেল্লাফতে, আর্থিক সমস্যা হবে দূর

গরমে হাঁসফাঁস পোষ্যও! স্বস্তি দিতে মেনুতে রাখুন এই খাবারগুলি

মাত্র ২৯৯ টাকায় একাধিক ওটিটি সাবস্ক্রিপশনের অফার? ফাঁদে পা দিলেই ফাঁকা হবে অ্যাকাউন্ট

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ