দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

জেনে নিন গণপতিহৃদয়া বিনায়কীর অজানা কাহিনী

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: হিন্দু পৌরাণিক শাস্ত্রে দেবদেবীর সংখ্যা অগুনতি। তাঁদের কেউ কেউ আমাদের পরিচিত হলেও অধিকাংশ দেবদেবী সম্পর্কেই আমরা অবগত নই। সেই সমস্ত দেবদেবীদের মধ্যে এমনও কিছু দেবতা রয়েছেন, যাঁদের নারী রূপ বিদ্যমান, তবে সেই রূপগুলি আমাদের কাছে বিশেষ পরিচিত নয়। তেমনই একজন পৌরাণিক দেবী হলেন বিনায়কী (Vināyakī), যিনি হলেন একটি বিরল ও অস্পষ্ট পরিচিতির হাতির-মুখবিশিষ্ট হিন্দু দেবী। যাঁর উৎপত্তি, ভূমিকা ও সত্তা হিন্দু পুরাণে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। যদিও তাঁর চেহারা ও নামের কারণে সাধারণত তাঁকে গণেশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়—যিনি জ্ঞানের দেবতা এবং বিঘ্নহর্তা হিসেবে জনপ্রিয়—বিনায়কীর অবস্থান হিন্দু ধর্মীয় ও মূর্তিচিত্রের জগতে অনেকটাই অস্পষ্ট ও বিতর্কিত।

বিনায়কীর কোনও নির্দিষ্ট বা একক চিত্র বা নাম নেই। বিভিন্ন গ্রন্থ ও প্রাচীন উৎসে তিনি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত—যেমন স্ত্রী গণেশ, ভৈনায়কী, গজাননা, বিঘ্নেশ্বরী, গণেশানী—যেগুলো প্রত্যেকটিই গণেশের বিভিন্ন নামে নারীত্বের প্রকাশ। এই নামগুলো দেখে অনেকেই মনে করেন, তিনি গণেশের শক্তি বা নারী-রূপ। কিন্তু এই ধারণা মূলত অনুমানভিত্তিক এবং একক ধর্মগ্রন্থ বা প্রতীকচিত্রের ভিত্তিতে নয়।

তাঁর পরিচয় আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন তাঁকে বিভিন্ন ধর্মীয় ধারার দৃষ্টিতে দেখা হয়। তান্ত্রিক হিন্দুধর্মে ভিনায়কী ষষ্টিচার যোগিনীদের মধ্যে অন্যতম। আবার, তাঁকে মাতৃকা দেবীদের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে।  যারা হলেন শক্তিশালী ও ভয়ঙ্কর রূপের জননীদেবী। কিন্তু পণ্ডিত কৃষ্ণান মনে করেন, ভিনায়কী তিনটি পৃথক ঐতিহ্যের দেবী। একটি হলেন গজমুখী যোগিনী, দ্বিতীয়টি মাতৃকা রূপে ব্রাহ্মণ্য শক্তি এবং তৃতীয়টি গণেশের নারী-রূপ বা শক্তি।

জানা যায়, জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মেও বিনায়কী উপস্থিত। তবে এই ধর্মগুলিতে তিনি গণেশের নারীরূপ নন, বরং একটি স্বতন্ত্র দেবী হিসেবে চিত্রিত। বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থে তিনি ‘গণপতিহৃদয়া’ নামে পরিচিত, যার অর্থ ‘গণেশের হৃদয়’। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাধি, যা বোঝায় যে তিনি গণেশের সারবত্তা বা অন্তর্নিহিত শক্তি, কিন্তু সরাসরি তাঁর স্ত্রী বা নারীস্বরূপ নন।

পুরাণসমূহে (যেগুলো হিন্দু পুরাণের প্রধান উৎস) হস্তীমুখী নারীচরিত্রগুলি মাঝে মাঝে দেখা যায়, কিন্তু তাদের সবাই বিনায়কী নন। যেমন এক কাহিনিতে, মালিনী নামের এক রাক্ষসী দুর্ঘটনাবশত পার্বতীর স্নানের জল পান করে এবং তার ফলে গণেশের জন্ম হয়। আবার স্কন্দ পুরাণে, লক্ষ্মী দেবীকে একটি অভিশাপের ফলে হাতির মুখ পেতে হয়, যা তিনি ব্রহ্মার উপাসনার মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠেন। এই চরিত্রগুলো গণেশের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও, তাঁরা বিনায়কী নামে পরিচিত নন এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকা পালন করেন।

মৎস পুরাণে, ভৈনায়কী নামটি উল্লেখিত হয়েছে মাতৃকার মধ্যে, যাঁদের শিব সৃষ্টি করেছিলেন অসুর আন্দকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য। এখানে তাঁকে গণেশের পরিবর্তে শিবের শক্তি হিসেবে দেখা যেতে পারে। যদিও ‘ভৈনায়কী’ শব্দটির অর্থ ‘বিনায়ক বা গণেশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত’, তবুও এর মাধ্যমেই সরাসরি সংযোগ তৈরি হয় না। লিঙ্গ পুরাণ ও অগ্নি পুরাণে ভৈনায়কীর নাম শক্তিসমূহের তালিকায় দেখা গেলেও, গণেশের শক্তিদের মধ্যে তাঁর নাম নেই এবং কোনও হাতিরমুখী নারীসত্তা সেখানে উল্লেখিত হয় না।

পরিশেষে বলা যায়, বিনায়কীর পরিচয় বহুস্তর ও বিভিন্ন ধর্মীয় চিন্তাধারার সংমিশ্রণ। তিনি শ্রী গণেশের সঙ্গে যুক্ত, তবুও পূর্ণভাবে তিনি পৌরাণিক কাহিনিতে অন্তর্ভুক্ত নন; তিনি মাতৃকা ও যোগিনী হলেও দেবী শক্তির প্রধান রূপ নন। তাঁর অস্পষ্টতা একদিকে যেমন রহস্যময়, অন্যদিকে তেমনি হিন্দু নারীত্বশক্তির জটিলতা ও বৈচিত্র্য তুলে ধরে—যেখানে একেকটি দেবী বহু রূপে, বহু পরিচয়ে, বহু বিশ্বাসের ধারায় প্রবাহিত হন।

 ওঁ হ্রীম যোগিনী বিনায়কী নমঃ

 

Published by:

Share Link:

More Releted News:

সার্কাস প্রদর্শনী থেকে লাফ দিয়ে দর্শকদের কাছে ছুটে গেল বাঘ, তারপর….

ইসরো-র ‘যুবিকা’ কর্মসূচিতে সুযোগ পেল বালুরঘাটের অভ্র, দেশে র‍্যাঙ্ক ১৭৬

উপেক্ষার বদলা! প্রেমিককে চেয়ারে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে মারল প্রেমিকা

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’,অনাহারে দিন কাটছে ৯৪ বছরের বাউল শিল্পীর

অক্ষয় তৃতীয়ায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার শুভ লগ্ন কখন শুরু?জানুন সময়সূচি

৯ কোটি টাকায় নিলাম টাইটানিকের ‘বেঁচে যাওয়া’ এক যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ