দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

এই ভয়ানক অসুরের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়িয়েছিলেন মহেশ্বর

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: দেবাদিদেব মহাদেব আদি, তিনিই অন্ত। তিনি অপার দানশীল, তিনিই ভোলানাথ। পৌরাণিক কাহিনি মতে, তিনি অনেক সময়েই দেবতা অসুর ও নর ভক্ত নির্বিশেষে সকলের ডাকেই সাড়া দিয়েছেন ও বহুজন হিতায় নানান অসম্ভব বরদানকে সম্ভব করেছেন। তিনি বিবেচনা করেননি যে, ভক্তকে দেওয়া কোনও বরের ফলে তিনি নিজে সঙ্কটে পড়তে পারেন। পুরাণে এমনই এক ঘটনা প্রচলিত আছে ভস্মাসুরকে দেওয়া তাঁর এক বরের ক্ষেত্রে।

ভস্মাসুর (সংস্কৃত: भस्मासुर, Bhasmāsura) ছিলেন পৌরাণিক লোককথায় চিত্রিত এক ভয়ঙ্কর অসুর চরিত্র। যার নামেই তার শক্তির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। যে নিজের হাত দিয়ে যার শরীর ছোঁয়, তাকেই পুড়িয়ে ছাই করে দিতে পারে। জনশ্রুতি অনুসারে, ভস্মাসুরের উৎপত্তি হয়েছিল মহেশ্বরের গায়ের ভস্ম অর্থাৎ ছাই থেকে। তিনি ছিলেন এক নির্ভীক অসুর, যিনি কঠোর তপস্যার মাধ্যমে শিবকে তুষ্ট করেছিলেন। অতঃপর শিব তাঁর সেই ভক্তের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু হয়ে বরদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ও ভস্মাসুরকে একটি বর চাওয়ার প্রস্তাব দেন। অতি চতুর ভস্মাসুর তখন সুযোগ বুঝে এমন একটি অলৌকিক শক্তি চায়—যার দ্বারা সে যে কোনও ব্যক্তিকে স্পর্শ করলেই সেই ব্যক্তি তৎক্ষণাৎ পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। দেবাদিদেব কোনও কিছু না ভেবেই এই মারাত্মক ক্ষমতাসম্পন্ন বরটি ভস্মাসুরকে দেন করেন আর, এখানেই শুরু হয় বিপত্তি।

এই ভয়ানক শক্তিশালী বর পেয়ে ভস্মাসুর হয়ে ওঠে উদ্ধত ও স্বেচ্ছাচারী। সে এই শক্তি পরীক্ষার জন্য প্রথমেই শিবের দিকেই হাত বাড়ায়। নিজেরই বরদাতা দেবাদিদেবের ওপর সেই বর প্রয়োগ করতে উদ্যত হয়! শিব বিপদের আঁচ পান এবং বাঁচার জন্য পালাতে শুরু করেন।  আর ভস্মাসুর পেছন পেছন তাড়া করে। এই নাটকীয় ধাওয়া সমগ্র দেবতাকূলে মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে বিশ্বে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়, কারণ এক অসুরের হাতে এমন এক অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা চলে গিয়েছে, যা অন্য কারও কাছে নেই।

 মোহিনীর আবির্ভাব

দেবতারা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জগৎপালক শ্রী বিষ্ণুর শরণাপন্ন হন। হরি তখন অনেক ভেবেচিন্তে হরকে এই সঙ্কট থেকে রক্ষা করতে মোহিনী রূপে অবতীর্ণ হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। মোহিনী হলেন বিষ্ণুর এক অপরূপা নারী অবতার, যিনি অসাধারণ সৌন্দর্যের অধিকারী এবং যার কাজই হল শত্রুকে মোহিত করে বিভ্রান্ত করা।

কিছু সময় পরেই ভস্মাসুরের সামনে মোহিনী এক নৃত্যশিল্পী রূপে আবির্ভূত হন। মোহিনীর ইন্দ্রিয়স্পর্শদায়ক রূপ দেখা মাত্র মুগ্ধ হয়ে যায় ভস্মাসুর। সে মোহিনীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। মোহিনী রাজি হন। তবে একটি শর্ত রাখেন—ভস্মাসুরকে চিরকাল তাঁর প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে হবে এবং মাথায় হাত দিয়ে প্রতিজ্ঞা করতে হবে।

পরিণতি

ভস্মাসুর মোহিনীর মোহে এতটাই আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে যে, সে আর ভাববার সুযোগ পায়নি। সে নিজেই নিজের মাথায় হাত রাখে প্রতিশ্রুতি প্রদানের জন্য। সঙ্গে সঙ্গে বর কাজ করে এবং সে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। যে বর সে পেয়েছিল, সেটিই তার সর্বনাশ ডেকে আনে।

এই গল্পটি কেবল পৌরাণিক কাহিনি নয়, বরং এক গভীর নৈতিক ও দার্শনিক বার্তা বহন করে—

  • অহংকারের পরিণতি: ভস্মাসুরের চরিত্র অহঙ্কারী শক্তির প্রতীক। ঈশ্বরের কৃপা পাওয়ার পর সেই শক্তিকে নেতিবাচক পথে ব্যবহার করলে তা নিজেকেই ধ্বংস করে দিতে পারে।
  • স্ত্রী রূপে শক্তির জয়: মোহিনীর চরিত্র প্রমাণ করে, কৌশল, সৌন্দর্য ও বুদ্ধিমত্তা—এই তিনের সংমিশ্রণ কখনও কখনও কাঁচা শক্তির থেকেও বেশি কার্যকর হতে পারে। নারীর মোহ নয়, বুদ্ধিমত্তা এখানে মূল বিষয়।
  • দাতা ও দানের ভারসাম্য: শিবের চরিত্র আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—চাইলে দান করা উচিত, কিন্তু অন্ধভাবে নয়। বিবেচনার অভাবে শক্তি বিপরীত দিকে কাজ করতে পারে।

ভস্মাসুরের কাহিনি শুধু মাত্র একটি পৌরাণিক কাহিনি নয়—এটি এক নৈতিক পাঠ। শক্তি ও তপস্যা, বর ও বিশ্বাস, মোহ ও বুদ্ধি—এই সবকিছুর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই কাহিনি মানবজীবনের চিরন্তন সত্যকে তুলে ধরে। অহঙ্কার যতই শক্তিশালী হোক না কেন, যদি তা নৈতিকতার বাইরে চলে যায়, তবে তার পতন নিশ্চিত । আর প্রতিকূলতার মুখে সঠিক বুদ্ধির ব্যবহারই পারে সব কিছু রক্ষা করতে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

সার্কাস প্রদর্শনী থেকে লাফ দিয়ে দর্শকদের কাছে ছুটে গেল বাঘ, তারপর….

ইসরো-র ‘যুবিকা’ কর্মসূচিতে সুযোগ পেল বালুরঘাটের অভ্র, দেশে র‍্যাঙ্ক ১৭৬

উপেক্ষার বদলা! প্রেমিককে চেয়ারে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে মারল প্রেমিকা

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’,অনাহারে দিন কাটছে ৯৪ বছরের বাউল শিল্পীর

অক্ষয় তৃতীয়ায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার শুভ লগ্ন কখন শুরু?জানুন সময়সূচি

৯ কোটি টাকায় নিলাম টাইটানিকের ‘বেঁচে যাওয়া’ এক যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ