দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

বৌদ্ধ তন্ত্রে নেতিবাচক শক্তি দূরীকরণে গুপ্ত ভাবে পূজিতা হন এই দেবী

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতীয় পৌরাণিক তন্ত্রে রয়েছে অগণিত দেবদেবীর সম্ভার, যাঁদের মধ্যে অধিকাংশ দেবী দেবতাদের মাহাত্ম্য বিষয়েই আমাদের অজানা। জানা যায়, হিন্দু পৌরাণিক সাহিত্যে বজ্র যান শাখার এমন কিছু বিরল দেবী রয়েছেন, যাঁরা মূলত বৌদ্ধ তন্ত্রে পূজিতা হন। বজ্র যান শাখার এমনই এক অতি প্রভাবশালী দেবী হলেন  “ডাকিনী কৃকি”। নাম থেকে অতি সহজেই বোঝা যায়, এই শব্দযুগল দুটি স্বতন্ত্র উপাদান থেকে গঠিত—“ডাকিনী” এবং “কৃকি”। তান্ত্রিক দর্শনে এই দুই শব্দের সংমিশ্রণে এক রহস্যময় ও ভয়াল শক্তির অবতারণা ঘটে, যা শুধুমাত্র বহিরঙ্গ দৃশ্যে নয়, আধ্যাত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক স্তরেও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ।

পৌরাণিক শাস্ত্র থেকে জানতে পারা যায়, “ডাকিনী” হল তন্ত্র ও যোগশাস্ত্রে বিশেষভাবে পূজিত এক শ্রেণির সত্তা, যারা বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্ম—উভয়েরই অন্তরঙ্গতান্ত্রিক ধারায় বিশেষ স্থান অধিকার করে। বৌদ্ধতন্ত্রের বজ্রযান শাখায় ডাকিনী মানে এমন এক আলোকিত শক্তির রূপ, যার উগ্র ও ভীতিপ্রদ চেহারা আশীর্বাদ, রূপান্তর ও চৈতন্যপ্রাপ্তির মূর্ত রূপ। কখনও তারা আধ্যাত্মিক জ্ঞানের রক্ষিকা, আবার কখনও দেহের অভ্যন্তরস্থ ছয় চক্রের শক্তির দেবী। হিন্দু তন্ত্রেও ডাকিনী শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে নানা অর্থে—মৃত্যুর পর স্তব্ধ আত্মা, দেবীশক্তির রূপ, বা দেহের মৌলিক উপাদানদের প্রতীক হিসেবে।

অপর দিকে “কৃকি” শব্দটি কোনো নির্দিষ্ট দেবী বা সত্তার নাম নয়, বরং একটি উপাধি, যা এই সত্তার বিশেষ রূপের ইঙ্গিত বহন করে। “কৃকি” শব্দটি মূলত টিকটিকি জাতীয় সরীসৃপ অথবা গোধিকার বা বৌদ্ধ ধর্মে ড্রাগনের প্রতীকী চেহারার দিকে ইঙ্গিত করে। এইরূপ প্রাণীর সঙ্গে ডাকিনীর সংযোগ তার গুপ্ত, সঞ্চালনশীল ও রহস্যময় প্রকৃতির প্রতিফলন।

এই দুই উপাদান একত্রিত হয়ে জন্ম দেয় এক তান্ত্রিক দেবীর—ডাকিনী কৃকি—যার বর্ণনা পাওয়া যায় বৌদ্ধতন্ত্রের হেরুকাণ্ডাল বা হেরুকমণ্ডল চক্রের মধ্যে। এই মণ্ডল এক জটিল আধ্যাত্মিক মানচিত্র, যেখানে সমগ্র মহাবিশ্ব ও তার দিকপাল দেবতাদের শক্তি প্রকাশ পায়। এই মণ্ডলের মেদিনীচক্র নামক স্তরে অবস্থান করেন এই ভয়ঙ্করী ও রূপান্তরশক্তির অধিকারিণী ডাকিনী।

ডাকিনী কৃকির রূপ বিচিত্র ও বহুস্তরীয়। কখনও তিনি দ্বিভূজা—বাম হাতে বিচিত্র দণ্ড এবং দক্ষিণ হাতে রক্তপূর্ণ পাত্র ধারণ করেন। আবার কখনও চতুর্ভূজা রূপে দেখা দেন—হাতে খট্টাঙ্গ, রুধিরপাত্র, বিচিত্র দণ্ড ও কর্তৃকা। এই অস্ত্র ও উপকরণসমূহের প্রতিটিই তার কর্ম ও শক্তির প্রতীক। খট্টাঙ্গ তার শূন্যতাবোধ ও বোধিসত্ত্বগুণের, রুধিরপাত্র ত্যাগ ও রূপান্তরের, বিচিত্র দণ্ড প্রতিরোধের এবং কর্তৃকা সমস্ত অশুভ শক্তির সংহার প্রতীক।

চক্রসম্ভার মণ্ডলের উত্তর-পশ্চিম দিকের অভিভাবিকা হিসেবে তিনি অবস্থান করেন। এই দিক প্রকৃতির শক্তি, রহস্য, স্বপ্ন ও অজানার সঙ্গে সম্পর্কিত। ডাকিনী কৃকি এখানে এক তীব্র প্রতিরোধশক্তির প্রতীক, যিনি সমস্ত নেতিবাচক শক্তি ও অশুভ প্রবণতাকে রূপান্তর করে শুভ শক্তিতে পরিণত করেন।

তিব্বতের সম্বর তান্ত্রিক ধারায় কৃকি বিশেষভাবে পূজিতা। তবে তাঁর সাধনপদ্ধতি অতি গুপ্ত। লোকশ্রুতি অনুসারে, গুরুর নিকট থেকে মৌখিক শিক্ষা ব্যতীত এই দেবীর পূজায় অগ্রসর হওয়া নিষিদ্ধ। তাঁর সাধনার মাধ্যমে সাধক অভ্যন্তরীণ অপবিত্রতা দূর করে পরম চৈতন্য ও বোধির পথে উত্তরণ লাভ করে। অতএব নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, ডাকিনী কৃকি এইভাবে তান্ত্রিক দর্শনে এক বিরল শক্তির প্রতিমূর্তি—যিনি একাধারে ভয় ও মুক্তি, অশুভ ও শুভ, ধ্বংস ও সৃষ্টির দ্বৈতবোধকে ধারণ করেন। এই মহাশক্তি কেবল বাহ্যজগতের সুরক্ষা নন, মানবচিত্তের অভ্যন্তরীণ অন্ধকারেরও রূপান্তরকারিণী।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

সার্কাস প্রদর্শনী থেকে লাফ দিয়ে দর্শকদের কাছে ছুটে গেল বাঘ, তারপর….

ইসরো-র ‘যুবিকা’ কর্মসূচিতে সুযোগ পেল বালুরঘাটের অভ্র, দেশে র‍্যাঙ্ক ১৭৬

উপেক্ষার বদলা! প্রেমিককে চেয়ারে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে মারল প্রেমিকা

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’,অনাহারে দিন কাটছে ৯৪ বছরের বাউল শিল্পীর

অক্ষয় তৃতীয়ায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার শুভ লগ্ন কখন শুরু?জানুন সময়সূচি

৯ কোটি টাকায় নিলাম টাইটানিকের ‘বেঁচে যাওয়া’ এক যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ