দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

সন্তান লাভে সমস্যা? মোক্ষম ফল পেতে পুজো দিয়ে আসুন নেপালের এই প্রাচীন মন্দিরে

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ভারতের প্রতিবেশী কিছু দেশে ছড়িয়ে আছে হিন্দু ধর্মের নানান ঐতিহ্য ও মাহাত্ম্য। সেই দেশগুলির মধ্যে অন্যতম হল নেপাল। যা হিমালয়ের কোলে একটি এমন ভূখণ্ড, যেখানে  ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন মন্দির ও দেব-দেবীর আবাসস্থল। এই পবিত্র ভূমিতে এক বিশেষ দেবরূপে পূজিত হন উন্মত্ত ভৈরব—যিনি হিন্দু শিবতত্ত্বের এক তেজস্বী ও ভীষণ রূপ। ভৈরবের এই রূপ শুধুমাত্র ভয় ও রক্ষার প্রতীক নয়, বরং তিনি জীবন, সৃজন ও কামনার গভীর প্রতিচ্ছবি হিসেবেও পূজিত হয়ে আসছেন। কারণ, ভৈরব অর্থেই দেবাদিদেব মহাদেব, আর তিনিই একাধারে সৃষ্টি ও প্রলয়। নেপালে উন্মত্ত ভৈরবের এই গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলি আজও লোকবিশ্বাস ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হয়ে আছে।

পতনের কুম্ভেশ্বর মহাদেব প্রাঙ্গণে উন্মত্ত ভৈরব

নেপালের ললিতপুর জেলার পতনে অবস্থিত কুম্ভেশ্বর মহাদেব মন্দির চত্বরে, বগলামুখী দেবীর মন্দিরের পাশে বিরাজমান উন্মত্ত ভৈরবের এক তেজোময় উপস্থিতি, যা তাঁর স্থাপন উর্বরতা, কামনা ও জীবনের শক্তিকে প্রকাশ করে। তাঁর লিঙ্গরূপ এখানে চূড়ান্তভাবে উত্থিত, যা একাধারে সৃষ্টি, কামনা ও জীবনের এক সাহসী প্রতীক। বহু দম্পতি এখানে আসেন সন্তান প্রাপ্তির আশায়। তাঁরা প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠান পালন করে হৃদয়ের গভীর থেকে প্রার্থনা করেন। ফলে এখানে ঈশ্বর আর মানুষের চাহিদার সংযোগ এক গভীর আধ্যাত্মিকতার মাধ্যমে ঘটে ।

পশুপতিনাথ মন্দিরের উন্মত্ত ভৈরব

নেপালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শৈবতীর্থ পশুপতিনাথ মন্দির প্রাঙ্গণের দক্ষিণ দ্বারে অবস্থিত উন্মত্ত ভৈরবের আরেকটি বিশিষ্ট মন্দির। এই মন্দিরে এক দশভুজ বিশিষ্ট ধাতব ভৈরবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত, যিনি এই পবিত্র এলাকা রক্ষারত দেবতা বা ‘ক্ষেত্রপালক’ হিসেবেও পরিচিত। এখানে প্রতিদিন বহু দম্পতি আসেন সন্তান লাভের আশায়, বিশ্বাস করেন ভৈরবের পূজায় তাদের বাসনা পূর্ণ হবে। ধূপের গন্ধ, মন্ত্রোচ্চারণ, আর প্রার্থনার আবহে প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে একান্ত ব্যক্তিগত এবং গভীর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা।

পানৌটির ঐতিহাসিক উন্মত্ত ভৈরব মন্দির

কাভ্রেপালাঞ্চক জেলার পানৌটি শহরে অবস্থিত উন্মত্ত ভৈরবের ঐতিহাসিক কাঠের মন্দিরটিও এক আকর্ষণীয় তীর্থ। ষোড়শ শতকে নির্মিত এই মন্দিরটি তার জটিল কাঠের কারুকার্য এবং বিরাট আকৃতির মূর্তির জন্য প্রসিদ্ধ। এখানে দুটি বিশাল মূর্তি আছে—একটি ৮ ফুট, অপরটি ৫ ফুট লম্বা, এবং এই দুটি মূর্তি বিপরীত দিকে মুখ করে দাঁড়ানো।

প্রচলিত রীতি অনুসারে প্রতি বছর পানৌটি জাত্রা নামে একটি বর্ণাঢ্য উৎসবে এই ভৈরবমূর্তি রথে করে শহরের মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। এই উৎসব শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যা বহু প্রজন্ম ধরে পালন হয়ে আসছে।

নেপালের উন্মত্ত ভৈরব মন্দিরগুলো শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের স্থান নয়, বরং জীবনের গভীরতম চাহিদার প্রকাশ—বিশ্বাস, সৃষ্টি, এবং আশার কেন্দ্রবিন্দু। সন্তান প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা হোক বা নেপালের ঐতিহ্যকে কাছ থেকে অনুভব করার ইচ্ছা, এই মন্দিরগুলো আজও অগণিত ভক্তপ্রাণ মানুষকে আকর্ষণ করে আসছে। উন্মত্ত ভৈরব কেবল মহেশ্বরের এক ভয়ঙ্কর রূপ নন, তিনি একজন আশ্রয়দাতা, এক সৃষ্টির প্রতিভূ, যাঁর পাদপদ্মে মিলিত হয় ভক্তির রস, জীবনের বেদনা এবং নানান আশা।

এই মন্দিরগুলি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ধর্ম শুধু বিশ্বাস নয়, এটি জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত এক অন্তর্জাগতিক অনুভূতি। উন্মত্ত ভৈরবের আরাধনায় আমরা দেখি মানুষের চিরন্তন কামনা আর ঈশ্বরীয় শক্তির এক অপার সংলাপ।

 

Published by:

Share Link:

More Releted News:

সার্কাস প্রদর্শনী থেকে লাফ দিয়ে দর্শকদের কাছে ছুটে গেল বাঘ, তারপর….

ইসরো-র ‘যুবিকা’ কর্মসূচিতে সুযোগ পেল বালুরঘাটের অভ্র, দেশে র‍্যাঙ্ক ১৭৬

উপেক্ষার বদলা! প্রেমিককে চেয়ারে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে মারল প্রেমিকা

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’,অনাহারে দিন কাটছে ৯৪ বছরের বাউল শিল্পীর

অক্ষয় তৃতীয়ায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার শুভ লগ্ন কখন শুরু?জানুন সময়সূচি

৯ কোটি টাকায় নিলাম টাইটানিকের ‘বেঁচে যাওয়া’ এক যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ