আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

মায়ের কোলে শুয়ে দুধ পান করছিল শিশু, অতর্কিতে হানা দিয়ে তুলে নিয়ে গেল নরখেকো নেকড়ে

নিজস্ব প্রতিনিধি : মানুষখেকো নেকড়ের আতঙ্কে কাঁপছে উত্তরপ্রদেশের বহরাইচ জেলার জঙ্গল সংলগ্ন একাধিক গ্রাম। রবিবার ভোরে শিউড়ে ওঠার মত ঘটনা ঘটেছে। বহরাইচ জেলার সবচেয়ে নেকড়ে-অধ্যুষিত গ্রাম মাঞ্জরা তাউকলি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মায়ের কোল থেকে ৩ বছরের শিশুকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছে মানুষখেকো নেকড়ে। জানা গিয়েছে এক মা তার বাড়ির বারান্দায় শুয়ে তাঁর সন্তানকে স্তন্যপান করাচ্ছিলেন । ঠিক সেই সময় একটি মানুষখেকো নেকড়ে তার কোল থেকে সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অসহায় মা তাঁর সন্তানকে বাঁচাতে নেকড়েটিকে তাড়া করলেও ব্যর্থ হন। সোমবার সকালে গ্রাম থেকে কিছু দূরে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

বন বিভাগের বিভিন্ন দল মানুষখেকোকে এই নেকড়েকে ধরার জন্য ক্রমাগত অনুসন্ধান অভিযান চালাচ্ছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত নেকড়েটিকে ধরা যায়নি বা তাকে নিকেশ করা যায়নি। জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের ফখরপুর থানার আওতাধীন রসুলপুর দারেহতা গ্রামে, রাম মনোহরের স্ত্রী নানকাই তাঁদের সন্তানদের নিয়ে বাড়ির বারান্দায় ঘুমাচ্ছিলেন। সকালে, নানকাই তার তিন বছরের ছেলে অংশুকে খাওয়াচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি মানুষখেকো নেকড়ে এসে তার মায়ের কোল থেকে শিশুটিকে ছিনিয়ে নিয়ে নির্জন রাস্তায় পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় হতবাক হয়ে নানকাই চিৎকার করে নেকড়েকে তাড়া করে। কিন্তু সকালে ঘন কুয়াশার কারণে, মানুষখেকো কিছুদূর যাওয়ার পর কুয়াশার আড়ালে অদৃশ্য হয়ে যায়। চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরাও নেকড়েটিকে এবং শিশুটিকে খুঁজতে থাকে, কিন্তু কোনও সন্ধান মেলেন। খবর দেওয়া হয় বন দফতরের আধিকারিকদের। তথ্য পেয়ে সকাল থেকেই তল্লাশি শুরু করা হয়। তবে গ্রামবাসী ও বন দফতরের আধিকারিকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মানুষখেকো প্রাণীটিকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে গ্রাম থেকে কিছু দূরে নিখোঁজ শিশুটির বিকৃত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বীরাঙ্গনা, মাত্র ১৫ সেকেন্ডে পুরুষ পহেলবানকে কুপোকাত করলেন মহিলা কুস্তিগীর

মৃত শিশুটির মা, নানকাই, তাঁর বাড়িতে একাই থাকতেন। তাঁর স্বামী, রাম মনোহর, পরিবারের ভরণপোষণের জন্য পাঞ্জাবে কাজ করেন। ঘটনার সময় নানকাই তার দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে একা ছিলেন। তাই, তিনি একা দৌড়ে গিয়েছিলেন কিন্তু শিশুটিকে বাঁচাতে পারেননি। এই বহরাইচ জেলার তিনটি থানায় নেকড়েদের আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি। বাহরাইচে গত সেপ্টেম্বর থেকে নেকড়েদের আক্রমণে ১০ জন নিষ্পাপ শিশুসহ ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন, এবং ৩২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বন বিভাগ ৬ টি মানুষখেকো নেকড়েকে গুলি করে হত্যা করেছে। তা সত্ত্বেও, মানুষখেকোর আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। জেলার তিনটি থানার সীমান্তবর্তী ১৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে, এমন ১২টি গ্রাম রয়েছে যেখানে মানুষখেকো নেকড়েদের সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক দেখা গিয়েছে। কায়সারগঞ্জ থানা এলাকার মাইঝরা তৌকলি এবং গোধিয়া নম্বর এক, দুই এবং তিন, বদির বাহোরওয়া, ফখরপুরের উমরি ডাহালো, রসুলপুর দারেহতা গ্রাম এবং এর অন্তর্ভুক্ত পল্লীগুলি হল সেই স্থান যেখানে ক্রমাগত এই ঘটনার খবর মিলছে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

‘জিনা মুশকিল কর দিয়া’, আত্মঘাতী হওয়ার আগে ফোনে বাবাকে বলেছিলেন বিচারক

বাড়ির শৌচালয় থেকে বিচারকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, ভয়ঙ্কর ঘটনা দিল্লিতে

ছত্তিশগড়ের কাঙ্কেরে মাইন নিস্ক্রিয় করতে গিয়ে বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন চার নিরাপত্তারক্ষী

১০০ বছরের পুরনো মহাকাল মন্দিরে,চারিদিকে সবুজের সমাহার,নেই শহরের কর্মব্যস্ততা

পর্যটকদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত লক্ষদ্বীপ প্রশাসনের, ঢুকতে প্রয়োজন হবে না পুলিশি ছাড়পত্রের

৭১ বছর বয়সে নেট দুনিয়ার হিরো বনগাঁর আবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, নেটিজেনদের মন জয় ‘গান দাদু’র

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ