এই মুহূর্তে

বিধানসভা ভোটের আগে হিন্দিভাষী এলাকায় বাড়তি নজর, বিশেষ কৌশলে তৎপর তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের হিন্দিভাষী ও অ-বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, কিছু এলাকায় তৃণমূল জয় পেলেও অবাঙালি অধ্যুষিত বেশ কিছু বুথে প্রত্যাশিত ভোেট পায়নি দল। সেই কারণেই এবার বিধানসভা ভোটের আগে এই সব এলাকায় আলাদা করে সংগঠন মজবুত করার কৌশল নিচ্ছে শাসকদল।

লোকসভা নির্বাচনে আসানসোল ও ব্যারাকপুরে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হলেও দার্জিলিং লোকসভা আসনে পরাজিত হতে হয়েছে। আবার উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার মতো আসনে তৃণমূল জয় পেলেও অবাঙালি অধ্যুষিত কিছু এলাকায় বুথ পিছু ভোেট তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অন্যদিকে, মাণিকতলা বিধানসভা উপনির্বাচনে দেখা যায়-যে সব এলাকায় অবাঙালি ভোটারদের উপস্থিতি বেশি, সেখানে লোকসভায় পিছিয়ে থাকলেও বিধানসভায় জয় এসেছে তৃণমূলের ঝুলিতে।

এই পরিস্থিতি মাথায় রেখে তৃণমূল কংগ্রেস কয়েকটি নির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে-

১. বিধানসভা ভোটের আগে হিন্দিভাষী ও অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় সংগঠনের তরফে বেশি সময় দেওয়া।

২. ভোটারদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া-যে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকে সব সময় কাছে পাওয়া যায়, তাকেই নির্বাচিত করা উচিত।

৩. স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো।

৪. বহুতল আবাসনগুলিতে যাতায়াত বৃদ্ধি করা এবং প্রয়োজনে সেখানকার কমিউনিটি প্রোগ্রামে যোগ দেওয়া।

৫. রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের জন্য কী কী কাজ করেছে, তার বিস্তারিত তথ্য নিয়মিতভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা।

৬. স্থানীয় স্তরে যেসব নেতার সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বেশি, তাঁদের সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানো-অর্থাৎ “ডাকলেই পাশে পাওয়া যাবে” এই বার্তা দেওয়া।

রাজ্যের বেশ কিছু বিধানসভা এলাকায় হিন্দিভাষী বা ভিনরাজ্যের ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। এর মধ্যে ভবানীপুর, কলকাতা বন্দর, মাণিকতলা ও জোড়াসাঁকো উল্লেখযোগ্য। এছাড়া লোকসভা কেন্দ্রের নিরিখে আসানসোল, বর্ধমান-বর্ধমান-দুর্গাপুর, ব্যারাকপুর, হাওড়া, দমদম, শিলিগুড়ি, পুরুলিয়া ও মালদহের কিছু এলাকাতেও হিন্দিভাষী ভোটারের উপস্থিতি রয়েছে। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে হিন্দিভাষী মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০০১ সালের জনগণনা অনুযায়ী রাজ্যে প্রায় ৫৮ লক্ষ হিন্দিভাষী মানুষ বসবাস করতেন। পরবর্তীকালে সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও রাজ্যে হিন্দি ও উর্দুভাষী মানুষের সঠিক সংখ্যা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেনি জনগণনা দফতর, তবে ভোটার তালিকার বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে-হিন্দি ও উর্দুভাষী ভোটারের সংখ্যা এখন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে নির্বাচনী সমীকরণে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

প্রথম দফার ভোটের স্লিপ কারা দেবেন?‌ ‘ডেডলাইন’ বেঁধে নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

মহিলা ব্রিগেডে জোর, নবীনদের বাহিনী তৈরির প্রতিশ্রুতি, নববর্ষে ইস্তেহার প্রকাশ মীনাক্ষীর

‘‌জয় বাংলা’‌ স্লোগান শুনে মেজাজ হারালেন শুভেন্দু, তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা, হাতাহাতি বালিতে

বৃহস্পতি থেকেই দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ৬ জেলায় সতর্কতা জারি

রাস্তায় ছড়িয়ে পোড়া বিজেপির দলীয় পতাকা, ভোটের মুখে চাঞ্চল্য শান্তিপুরে

বজবজে বিরাট রোড–শো অভিষেকের, প্রার্থীকে নিয়ে ভাসলেন মানুষের ঢলে

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ