লাইব্রেরির চাকরি ছেড়ে ঘর মোছার চাকরি বাছলেন তরুণী, কারণ জানলে চমকে যাবেন

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ একসময় স্কুলের লাইব্রেরিতে বই গুছিয়ে রাখা, ছাত্রছাত্রীদের বই খুঁজে দিতে সাহায্য করা, এই ছিল তাঁর প্রতিদিনের কাজ। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ের চাকরি, মাসের শেষে নির্দিষ্ট বেতন। কিন্তু সেই চাকরি ছেড়ে আজ তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঝাড়ু দেন, মেঝে মোছেন, রান্না করেন। বাইরে থেকে দেখলে অনেকেই হয়তো ভাববেন, জীবনের চাকা যেন উল্টো দিকে ঘুরেছে। অথচ বাস্তব বলছে একেবারে অন্য কথা। এই সিদ্ধান্তই বদলে দিয়েছে তাঁর ও তাঁর পরিবারের ভবিষ্যৎ। নয়ডার বাসিন্দা কিরণের জীবনসংগ্রামের গল্প যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।

একসময় শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। বিজ্ঞান ও গণিত নিয়ে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। পড়াশোনায় যেমন ভালো ছিলেন, তেমনই আগ্রহ ছিল খেলাধুলাতেও। কিন্তু ২০০৬ সালে দ্বাদশ শ্রেণির শেষ পরীক্ষা চলাকালীন বাবার আকস্মিক মৃত্যু মুহূর্তে বদলে দেয় সবকিছু। ছয় ভাইবোনের মধ্যে বড় হওয়ায় পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। শেষ পরীক্ষাটিও আর দেওয়া হয়ে ওঠেনি। সংসারের দায় কাঁধে নিয়েই অল্প বয়সে দিল্লিতে পা রাখেন কিরণ। প্রথম দিকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলেও থেমে যাননি। কখনও টিউশন পড়িয়েছেন, কখনও নয়ডার একটি সংস্থায় দিনের পর দিন মোবাইল চার্জার প্যাকিংয়ের কাজ করেছেন। টানা ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করেও মাসিক আয় ছিল মাত্র ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। ২০১৭ সালে নয়ডার একটি স্কুলে লাইব্রেরির চাকরি পান তিনি। সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কাজ করে মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতন মিলত। মনে হয়েছিল, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে জীবনে স্থিতি ফিরছে। কিন্তু সেই স্বস্তিও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল বন্ধ হতেই হারাতে হয় চাকরিও।  এরপর সংসার চালানোর তাগিদে আবাসনের বিভিন্ন বাড়িতে ঝাড়ু দেওয়া, মেঝে মোছা ও রান্নার কাজ শুরু করেন কিরণ। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত একাধিক বাড়িতে কাজ করেও মাসের শেষে হাতে আসত ১২-১৩ হাজার টাকার বেশি নয়। ঠিক তখনই তাঁর জীবনে আসে মোড় ঘোরানো সিদ্ধান্ত। অনলাইন গৃহপরিচারিকা পরিষেবা দেওয়া একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজের নাম নথিভুক্ত করেন তিনি। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

আরও পড়ুনঃ ‘লক্ষণরেখা ডিঙোবেন না’, পাপারাজ্জিদের আবদারে চটে লাল সলমানের নায়িকা

আজ কিরণ নিজের সুবিধামতো সময় বেছে কাজ করেন। কোনও নির্দিষ্ট অফিস নেই, নেই দীর্ঘ সময়ের বাঁধাধরা ডিউটি। অথচ মাসে আয় ৩০ হাজার থেকে ৩৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ, যে লাইব্রেরির চাকরিকে একসময় নিরাপদ বলে মনে করেছিলেন, তার তুলনায় এখন প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি উপার্জন করছেন তিনি। কিরণের কথায়, এই পরিবর্তন শুধু তাঁর আয় বাড়ায়নি, বদলে দিয়েছে পুরো পরিবারের জীবনযাত্রা। এখন তিনি দুই সন্তানকে ভালো স্কুলে পড়ানোর পাশাপাশি সংসারের দায়িত্বও অনেক বেশি স্বচ্ছন্দে সামলাতে পারছেন। কিরণের এই গল্প শুধু একজন নারীর সংগ্রামের কাহিনি নয়। বদলে যাওয়া কর্মসংস্থানের বাস্তবতায় সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার এক অনন্য উদাহরণ। অনেকের কাছে ঘর পরিষ্কারের কাজ হয়তো সাধারণ পেশা, কিন্তু সঠিক সুযোগ ও প্রযুক্তির ব্যবহার সেই কাজকেই সম্মানজনক এবং লাভজনক পেশায় পরিণত করতে পারে কিরণের জীবন যেন সেই কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।

পঞ্জাবকে হারিয়ে আইএসএলে জয়ের হ্যাটট্রিক মোহনবাগানের

কলার খোসা ফেলে না দিয়ে বাড়িতেই বানান প্রাকৃতিক হেয়ার টনিক

রাশি বদল দেবগুরু বৃহস্পতির, জানুয়ারি পর্যন্ত টাকার জোয়ারে ভাসবে ৩ রাশি

গর্ভস্থ ভ্রুণ কন্যা জানতে পেরে জোর করে গর্ভপাত, বেঘোরে প্রাণ গেল গৃহবধূর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দক্ষতা পদক পেলেন রাজ্যের আট পুলিশ আধিকারিক

অস্ট্রেলিয়াকে দুরমুশ করে ১১ বছর পর টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা

নিরামিষের বদলে চিকেন বিরিয়ানি! এয়ারপোর্টে হুলস্থূল কাণ্ড

বাড়িতে মধুচক্র-মাদকের আসর বসানোর দায়ে সাময়িক বরখাস্ত পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি

টেস্টে নয়া মাইলফলক স্পর্শ কাগিসো রাবাদার, দ্রুততম ৩৫০ উইকেটের মালিক

‘জ্ঞানেশ কুমার ‘গদ্দার’, পদ ছাড়তেই হবে’, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তোপ খাড়গের

‘ছোট আঙারিয়া থেকে নন্দীগ্রাম, সব মামলার ফাইল খুলব,’ সিপিএমকে নিশানা শুভেন্দুর

ইনস্টাগ্রাম আইডি চেয়ে না পেয়ে মাঝরাস্তায় শিক্ষিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগ, গ্রেফতার দুই

CAA-তে আবেদনে আর লাগবে না বাংলাদেশি প্রমাণপত্র! বড় ঘোষণা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে প্রথম টেস্টে ধরাশায়ী টাইগাররা, চার দিনেই শেষ খেলা