আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

ঢাকায় গণধর্ষক আজহারকে বীরের সংবর্ধনা, আতঙ্কে সিঁটিয়ে হিন্দুরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সুপ্রিম কোর্টে থাকা রাজাকার পুত্র-কন্যা বিচারপতিদের হাত ধরেই মঙ্গলবার (২৭ মে) মুক্তি পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের কুখ্যাত গণহত্যাকারী ও গণধর্ষক এটিএম আজহারুল ইসলাম। আর বুধবার (২৮ মে) সকালে জেলমুক্তি ঘটল মুক্তিযুদ্ধের কসাইয়ের। সবচেয়ে লজ্জার হল, স্বাধীন বাংলাদেশে গণহত্যাকারীকে বীরের সংবর্ধনা জানানো হল। ফুলের মালা পরিয়ে সাদরে বরণ করা হল। আর ওই সংবর্ধনা সভায় হুঙ্কার ছাড়া হল, একাত্তরে নয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ২০২৪ সালে। একাত্তরে পাকিস্তান ভাঙার পাপ স্খলন করেছেন দেশের মানুষ।

এদিকে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে শতাধিক হিন্দু মহিলাকে গণধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক কাণ্ডে জড়িত কুখ্যাত ধর্ষক আজহার ছাড়া পেতেই ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন দেশের হিন্দুরা। অনেকেই বাড়ির মেয়েদের সম্মান বাঁচাতে দেশ ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আজহারের ধর্ষণের শিকার হওয়া রংপুরের এক হিন্দু মহিলা (নাম গোপন রাখা হল) সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আজহার ও পাক সেনাদের গণধর্ষণের ফলে আমার গর্ভে থাকা তিন মাসের সন্তান নষ্ট হয়েছিল। ফাঁসির সাজা হওয়ার পরে সেই নারকীয় যন্ত্রণা ভুলেছিলাম। কিন্তু মঙ্গলবার কুখ্যাত ধর্ষকের মুক্তির খবর পেয়েই ঈশ্বরকে বলেছি, এই দিন দেখার জন্য কী বাঁচিয়ে রেখেছিলে?’

এদিন সকাল সকাল ৯টা ৫ মিনিটে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয় গণহত্যাকারী আজহারকে। সেখান থেকে বীরের বেশি মুক্তিযুদ্ধের কসাইকে নিয়ে আসা হয় শাহবাগে। শতাধিক হিন্দু মহহিলাকে ধর্ষণ ও ১,২৫৬ জনকে খুনে জড়িত গুণধর নেতার জন্য সংবর্ধনা জানায় জামায়াত ইসলামী। শ্লোগান ওঠে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’, ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ ভাই ভাই, ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই চাই’। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন আজহার। ওই ভাষণে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমরা যা করতে পারিনি, তা জুলাই-অগস্টে করেছে ছাত্র-যুবরা। পাকিস্তান ভাঙার যে কলঙ্ক ছিল, তা মুছে দিয়েছে। বাংলাদেশ নতুনভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যপূরণ করতে সবাইকে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে লড়তে হবে।’

অন্যদিকে, মুক্তিযুদ্ধের কসাই আজহারের মুক্তির বিরোধিতা করে ঢাকা-সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা পথে নেমেছেন। প্রতিবাদ মিছিলে শ্লোগান উঠেছে, ‘রাজাকার পুত্র প্রধান বিচারপতি কুর্সি ছাড়’, ‘বাংলার মাটিতে রাজাকারের ঠাঁই নেই।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিলকারীদের উপরে হামলা চালিয়েছে জামায়াত ইসলামীর সশস্ত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতারা। উদীচী সহহ একাধিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের তরফেও মুক্তিযুদ্ধের কসাই আজহারের মুক্তির বিরোধিতা করা হয়েছে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

আমেরিকায় পড়তে গিয়ে খুন, বাংলাদেশি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করল ফ্লোরিডা পুলিশ

পাকিস্তান জুজু! বাংলাদেশকে আরও ৫ হাজার টন ডিজেল পাঠাল মোদি সরকার

হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্যে চটে লাল তারেক রহমান, দিল্লির দূতকে তলব করে কড়া বার্তা

৬ মে থেকে ফের বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটক ভিসা চালু করছে মোদি সরকার

‘‌ধর্ম যার‌ যার…’‌, মমতার শ্লোগান এবার তারেক রহমানের গলায়

জেল খাটতে কেমন লাগে? কৌতুহল থেকে ১১ বছরের নাবালককে খুন ৬ কিশোরের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ