চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

 চট্টগ্রামের পর নেত্রকোনায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে হামলা চালাল খালেদার দলের গুন্ডারা

নিজস্ব প্রতিনিধি, নেত্রকোনা: জামায়াত ইসলামী বা মৌলবাদী কোনও সংগঠন নয়, বাংলাদেশে বর্ষবরণের একের পর এক অনুষ্ঠান ভণ্ডুল করে দিল বিএনপির সন্ত্রাসীরা। রবিবার রাতে চট্টগ্রামের ডিসি হিলে পয়লা বৈশাখের মঞ্চ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল খালেদার দলের নেতা-কর্মীরা। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে সোমবার দুপুরে নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের মাঝপথে হামলা চালাল বিএনপির গুন্ডারা। মঞ্চ থেকে শিল্পীদের জোর করে নামিয়ে দিয়ে হেনস্থা করা হয়েছছে। বাধা দিতে গিয়ে নিগৃহীত হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী আধিকারিক। বাংলাদেশের মাটিতে হিন্দুত্বের গন্ধ থাকা কোনও অনুষ্ঠান পালন করা যাবে না বলে হুমকিও দিয়েছে। দলের নেতা-কর্মীদের হামলাকে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছেন বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা রুহুল কবীর রিজভি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে এদিন সকাল থেকেই আটপাড়া উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মুক্তমঞ্চে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান চলছিল। বিভিন্ন সামজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ‘উপজেলা প্রশাসন বিদ্যানিকেতন’ এর শিক্ষার্থীরা নৃত্য পরিবেশন করছিল।তখনই অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হয় বিএনপির যুব সংগঠনের উপজেলা সদস্য সচিব নূর ফরিদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক মোদাচ্ছের হোসেন ওরফে কাইয়ুম, কামাল হোসেন তালুকদার-সহ বেশ কয়কজন গুন্ডা। সরাসরি মঞ্চে উঠে অনুষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেয়। তখন উপজেলা নির্বাহী আধিকারিক রুয়েল সাংমা প্রতিবাদ জানিয়ে জানতে চান-কেন অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হবে? জবাবে যুবদলের সদস্য সচিব নূর ফরিদ খান বলেন, হিন্দুত্বের গন্ধ থাকা কোনও অনুষ্ঠান বাংলাদেশের মাটিতে করতে দেওয়া হবে না।

এর পরেই মোদাচ্ছের হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির গুন্ডারা মঞ্চে ওঠে শিক্ষার্থীদের নামিয়ে দিয়ে মঞ্চে থাকা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। বাধা দিতে গেলে ইউএনও-সহ সরকারি আধিকারিকদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ দেওয়ার পাশাপাশি মারধরও করা হয়। বিএনপি গুন্ডাদের রুদ্রমূর্তি দেখে ভয়ে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে পালিয়ে চলে যান শিল্পী-সহ দর্শকরা। অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।

বিএনপি গুন্ডাদের তাণ্ডব নিয়ে আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুয়েল সাংমা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নূর ফরিদের নেতৃত্বে কাইয়ুম, কামালসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত হয়ে মঞ্চের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় আমি কারণ জানতে চাইলে আমাকে-সহ কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেন। উপস্থাপককে মারধর করে মাইক হাতে নিয়ে আমাকে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

বর্ষবরণের অনুষ্ঠান পণ্ড কেন করলেন জানতে চাওয়া হলে হামলার নেতৃত্ব দেওয়া নূর ফরিদ ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বলেন, ‘বেশ করেছি। বাংলাদেশে আর কখনও হিন্দুত্বের গন্ধ থাকা অনুষ্ঠান করা যাবে না। যারা করার চেষ্টা করবে তাদের মেরে হাড়গোড় গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’

Published by:

Share Link:

More Releted News:

তেলের ভান্ডার শূন্যের পথে, জ্বালানি সঙ্কটে বাংলাদেশে স্থগিত নির্বাচন

মৌলবাদীদের ফতোয়া উপেক্ষা করে ঢাকায় পয়লা বৈশাখে বের হল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’

২০২৪ সালের ৪ অগস্টই শেখ হাসিনাকে খুনের ছক কষেছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার

বর্ষবরণের আগে ইলিশ ছুঁলে লাগছে ছ্যাঁকা, কেজি ছাড়াল ৭,৫০০

গান-বাজনার উল্লাসের মাঝেই যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ৫

তারেকের জমানায় মবের মুল্লুক, কুষ্টিয়ায় হামলা চালিয়ে পীরকে পিটিয়ে হত্যা মৌলবাদীদের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ