এই মুহূর্তে

‘ঢাকায় বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু ১১২ জনের’, বিস্ফোরক রিপোর্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রকের

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের উপরে যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১২ জন। তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানো রিপোর্টেই এমন বিস্ফোরক তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রকের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। ওই রিপোর্টে এও উল্লেখ করা হয়েছে, ৭০টি দেহ জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট সহ একাধিক হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।  অন্যদিকে সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের এক আধিকারিক বুধবার জানিয়েছেন, ‘মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা যা বলা হচ্ছে তার থেকে অনেক বেশি পড়ুয়া ও অভিভাবক মারা গিয়েছেন। দুর্ঘটনার পরেই আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে ছিল পুলিশ ও বিজিবি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়েই লাশ গায়েব করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর বদনাম ঘটাতেই সুপরিকল্পিতভাবে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী।

গত সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে প্রশিক্ষণের সময়ে উত্তরার কাছে মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের উপরেই ভেঙে পড়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান। ভেঙে পড়ার পরেই জতুগৃহে পরিণত হয় স্কুলের একাধিক ভবন। অগ্নিদগ্ধ হন অসংখ্য পড়ুয়া, শিক্ষক ও অভিভাবক। দুর্ঘটনার পরেই প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আড়াল করতে নামে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। যার মাথায় রয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূসের ‘প্রিয়বান্ধবী’ নূরজাহান বেগম। বিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় সরকারের তরফে যে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে তার প্রমাণ মিলেছে স্বাস্থ্য ও সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দফতরের রিপোর্টে। সেনার তরফে যখন মৃতের সংখ্যা ৩১ বলে জানানো হয়েছে, তখন স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে মৃতের সংখ্যা বলা হয়েছে ২৯।

যদিও দুর্ঘটনার পরেই ঘটনাস্থলে হাজির বহু প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, সরকারের তরফে যে হতাহতের সংখ্যা বলা হচ্ছে তার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২০০-র বেশি পড়ুয়া-শিক্ষক ও অভিভাবক মারা গিয়েছেন। দুর্ঘটনার পরেই স্কুলের ভিতর থেকে একের পর এক অ্যাম্বুলান্সে চাপিয়ে অগ্নিদগ্ধ ও নিহতদের নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে সেই দেহ দেখতে পারেননি নিহতের পরিবাররা।

সূত্রের খবর, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা ধামাচাপা দিতে গতকাল মঙ্গলবারই মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ জিয়াউল আলম, উপাধ্যক্ষ মাসুদ আলম ও প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা আক্তারের সঙ্গে বৈঠক করেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার ও ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ওই বৈঠকেই ঘটনার দিন স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতি সংক্রান্ত যাবতীয় নথি নষ্ট করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে। যাতে ঘটনার সময়ে স্কুলটিতে কত পড়ুয়া হাজির ছিল তার কোনও প্রমাণ না থাকে। সরকারের তরফে মৃতের সংখ্যা যা বলা হচ্ছে তার সঙ্গে যে বাস্তবের মিল নেই, তা নিয়ে সন্দেহ নেই গোটা দেশবাসীর। কিন্তু প্রশ্ন হল-কেন হতাহতের সংখ্যা চেপে যাওয়া হল?

Published by:

Share Link:

More Releted News:

মৌলবাদীদের ফতোয়া উপেক্ষা করে ঢাকায় পয়লা বৈশাখে বের হল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’

২০২৪ সালের ৪ অগস্টই শেখ হাসিনাকে খুনের ছক কষেছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার

বর্ষবরণের আগে ইলিশ ছুঁলে লাগছে ছ্যাঁকা, কেজি ছাড়াল ৭,৫০০

গান-বাজনার উল্লাসের মাঝেই যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ৫

তারেকের জমানায় মবের মুল্লুক, কুষ্টিয়ায় হামলা চালিয়ে পীরকে পিটিয়ে হত্যা মৌলবাদীদের

ভয় দেখিয়ে তিন ছাত্রকে ধর্ষণ, গ্রেফতার নরপিশাচ মাদ্রাসা শিক্ষক

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ